লজ্জা কি মারা গেছে!

Words
472
Reading
3 min
Listen
Play
4y

দিন যত যাচ্ছে মানুষের লজ্জা মনে হয় তত কমে যাচ্ছে।মানুষ বা "Homo sapiens" বিজ্ঞানের শ্রেণীবিভাগে "Animal'' রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।আর সেই রাজ্যের অন্যসব পশু থেকে মানুষকে যেইসব বিষয় আলাদা করেছে,তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জা।লজ্জা মানুষের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য যা অন্যসব প্রাণীর মধ্যে অনুপস্থিত।মানুষবাদে আমাদের আশেপাশে যেসব প্রাণী ঘুরে বেড়ায় , তাদের দিকে তাকালে বুঝা যায় তাদের মধ্যে লজ্জা নামক কোন অনুভূতি কাজ করে না।

স্বাভাবিকভাবে নারী-পুরুষের অন্তরঙ্গ মিলামেশা একটি গোপনীয় কাজ।কিন্তু রাস্তাঘাটে দেখা যায় দুটি কুকুর আশপাশের ভীড়কে তোয়াক্কা না করে নিজেরা নিজেদের অন্তরঙ্গ মেলামেশা করে যাচ্ছে।কিন্তু যেকোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়,এর কারণ হচ্ছে লজ্জা।কেউ শুধু বিবেক দিয়ে চিন্তা করলেই এটা বুঝতে পারবে।ঐ কুকুর দুটির মধ্যে লজ্জা নামক কোনো অনুভূতি নেই তাই তারা রাস্তাঘাটেই এমন করে।

কিন্তু হ্যাঁ, আজকাল মানুষের মধ্যেও ঐ একি স্বভাব দেখা যাচ্ছে।মনুষ্যত্বের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লজ্জাও আজ তাদের থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে।এর একটা প্রমাণ হচ্ছে,এখন রাস্তাঘাটেই নারী-পুরুষ অন্তরঙ্গভাবে মিলামেশা শুরু করে দেয়।তাদের বাসায় বা কোন গোপন জায়গায় যাওয়ার ধৈর্য্যটুকুও হারিয়ে গেছে।শতশত মানুষের সামনে তারা যা খুশি তাই করে।যদিও কুকুর বা অন্যান্য পশুর মতো চরম পর্যায়ের কাজ রাস্তাঘাটে এখনও শুরু করেনি মানুষ,তবে মনে হচ্ছে সেই দিনও বেশি দূরে নয়।

যেমন কিছুদিন আগে রাড্ডা-এমসিএইস প্রকল্পে গিয়েছিলাম ফিল্ড ভিজিটে।এটি একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান যারা গর্ভবতী নারীসহ,নাবালক শিশু থেকে পাঁচবছরের বাচ্চাদের চিকিৎসা বিষয়ক সেবা দিয়ে থাকে।এখানে আবার "পরিবার পরিকল্পনা"র সেবাও দেয়া হয়।সরকার নির্ধারিত মূল্যে পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
তো এক উঠতি বয়সি জোড়া, ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো প্রেমিক-প্রেমিকা,তারা এসেছে পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে।প্রেমিক-প্রেমিকা বললাম এই কারণেই যে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেয় নি।

তো একজন ডাক্তার ম্যাম এর তত্ত্বাবধানে আমরা সবকিছু ঘুরে দেখছিলাম আর সে সম্পর্কে জানছিলাম।যখন পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটের সামনে আসলাম,ম্যাম সামনে আর আমরা শিক্ষার্থীরা পিছনে হঠাৎ ঐ রুমের সামনে সেই জোড়াটি যা করলো ম্যামসহ আমরা সবাই বিব্রত হয়ে পড়লাম।তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলো,হঠাৎ করেই তারা আচমকা জড়াজড়ি শুরু করলো।আমরা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।'রাড্ডা' বেশি বড় নয়,সরকারি হাসপাতালের মতো মানুষের ভীড়।তখন ঐ জায়গায় অন্তত চল্লিশ-পঞ্চাশ জন মানুষ ছিলো,এতো মানুষের সামনে তারা এই কাজটি করতে একটুও ভাবলো না!এমনকি বাকিসময়টাও তাদেরকে ভাবলেশহীন দেখলাম,নিজেদের কাজ নিজেরা করছে।

এই ধরনের কথা আসলে স্বাধীনতার কথা চলে আসে।কেউ হয়তো বলতে পারে এটা তাদের বেপার,তাদের স্বাধীনতা আছে যা কিছু করার।কিন্তু স্বাধীনতার সংজ্ঞায় কিন্তু এটাও আছে যে নিজে স্বাধীন থাকা আর অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করাই হচ্ছে স্বাধীনতার প্রকৃত মানে।কিন্তু ঐ জোড়াটি যে আমাদের এইভাবে বিব্রত করলো,শিক্ষিকার সামনে লজ্জায় ফেলে দিলো তার দায় কে নিবে?এতে আমাদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হয়ে গেলো না?

একজন সুস্থ সবল মানুষ যদি বিবেক দিয়ে একটু ভাবে যে, অনেক মানুষের সামনে নিজের স্ত্রী বা প্রেমিকার সামনে মিলামেশার চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া কি উচিত কিনা?তারা স্বাচ্ছন্দ্য মতো সেটা করতে পারবে কিনা?একটুও কি অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না?
আশপাশের মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যমতো স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে এটাকে মেনে নিতে পারবে কিনা?এই কাজটি দৃষ্টিকটু কিনা?
তাহলেই তারা বিবেকের কাছেই এই উত্তর পেয়ে যাবে।
যদি মিলামেশার চরম পর্যায়ে পৌঁছা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে রাস্তাঘাটে নারী পুরুষের প্রাথমিক পর্যায়ের মিলামেশাও স্বাভাবিক হওয়ার কথা না।একি ঘটনার শেষটা যদি দৃষ্টিকটু হয়,তাহলে শুরুটাও দৃষ্টিকটু হবে এটাই নিয়ম।

IMG-20221211-WA0015.jpg

লজ্জা কি মারা গেছে! | Ecency