আমি মুন।প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি শেষ করে জর্জ কৌর্টে উকালতি প্রেকটিস করছি।ঐ যে দেখছেন ও শহেলী।আমার স্ত্রী। আমরা এখানে আছি তিন বছর। যখন আমি এলএলবি তৃতীয় বর্ষে পড়ি তখন একদিন বাস থেকে নামতে গিয়ে শহেলীর জুতো বাসে কিসে জানি লেগে খুলে যায়। শহেলী বাস থেকে নেমে যায় জুতো বাসে থেকে যায়। আমিও বাস থেকে নামবো শহেলীর পিছনে ছিলাম। তাই জুতো হাতে ধরে নিয়ে নামী।শহেলী আমাকে ভাইয়া বলে অনেক বার ধন্যবাদ দিলো।এর পর চলে গেলো।ঐদিন বিকেলে আমাদের কলেজের গেইট এ দেখি শহেলী বসে আছে।শহেলী প্রথমে এগিয়ে এলো "ও ভাইয়া আপনি এখানে"? হ্যাঁ আমিতো এখানেই পড়ি।এল এল বি ৩য় বর্ষ।শহেলী বললো "আমি এল এল বি প্রথম বর্ষ।ভাইয়া আপনার নাম্বারটা দিয়েন।কিছু না বুঝলে বুঝে নিতে পারবো"। এই শুরু ওর সাথে আমার পথ চলা।
শহেলী ফর্সা লম্বা। সমস্যা টা হচ্ছে অতিরিক্ত চিকন। ওর সাথে পরিচয়ের তিন মাসের মধ্যে আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়।শহেলী মাসের পাঁচ সাত দিন অসুস্থ থাকতো।কখনো মাথা ব্যথা, কখনো পেঠ ব্যথা,কখনো গলা জ্বলা এসব লেগেই থাকতো।এরপর একদিন আমি ওকে আমার পরিচিত এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলাম। এতো সমস্যা শুনে তিনি অনেক ধরনের টেস্ট দিলেন। শহেলীর কোনো সমস্যা নেই।সময় মতো খাওয়া দাওয়া করে না,ঘুমায় না তাই এসব সমস্যা। ডাক্তার কিছু ঔষধ দেন আর নিয়ম মতো চলতে বলেন। তখন আমি দায় নিয়ে ওর খাবার, ঘুম, সব ঠিক সময় করাই।এসব কিছু মোবাইলেই হতো।প্রতি মুহূর্তের আপডেট চলতো।তিন মাসে শহেলী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়।এরপর চলে যায় চার বছর। আমি জর্জ কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করি।শহেলী এল এল বি ফাইনাল ইয়ার।শহেলী ফাইনাল দিয়ে বিয়ে করতে চায়।আমাদের বাড়িতে সবাই জানে।শহেলীর ছোট বোন জানে।শহেলীর ফাইনাল পরীক্ষা সামনে তাই আমাদের তেমন ঘুরাঘুরি হয়না।
সেদিন ছিলো ভ্যালেনটাইনস ডে।শহেলী আগেই বলে দিয়েছে ভ্যলেনটাইনস ডে সারাদিন আমার সাথে থাকবে।সেদিন আমরা সিনেমা দেখেছি, চায়নিজ খেয়েছি, ফরাসি ডিস খেয়েছি, শপিং করেছি।রাত নয়টায় ওকে আমি ওর বাড়ির সড়কের মাথায় বাইক দিয়ে নামিয়ে দিয়ে এসেছি।সেখান থেকে রিকশায় বাসায় চলে যাবে।বাসায় পৌঁছে সে আমাকে ফোন দিয়েছে আমি বাসায় পৌঁছেছি কিনা। আমাকে বলছ "তুমি ফ্রেশ হও আমিও ফ্রেশ হবো " বলে রেখেছে। সেদিন ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে অনেক রাত হয়ে যায়।ফোন দেখি বন্ধ। ভাবলাম অনেক কষ্ট হয়েছে সারাদিন হয়তো ঘুমিয়ে গিয়েছে।পরের দিন সকালে মোবাইল বন্ধ। সারাদিন গিয়ে বিকেল হলো মোবাইল বন্ধ। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।ওদের বাসা আমি চিনি না। সড়কটা চিনি।বিকেলে বাইক নিয়ে ওদের সড়কে এপার থেকে ওপার পাঁচ পাক দিয়েছি। কিছুই বুঝলাম না।ওর দুটো নাম্বারে ফোন দিয়ে পরের দিন কেটে গেলো।এভাবে চারদিন কেটে গেলো, আমার খাওয়াদাওয়া,ঘুম সব বন্ধ।
হঠাৎ আমার ফোনে একটা ফোন আসলো। তখন সকাল দশটা। ফোনের ওপার থেকে "ভাইয়া আমি বেলী"।মানে শহেলীর ছোট বোন।ও আর কিছু বলছে না। আমি ওর কন্ঠ শুনে কান্না শুরু করেছি। এক মিনিট পর জিজ্ঞেস করলাম শহেলী কোথায়? একবার শুনতে পেয়েছিলাম " আপু আর বেঁচে নাই "। এরপর আমি আর বলতে পারিনি। তিন ঘন্টা পর মার কাছে শুনেছি ভ্যালেনটাইনস ডে রাতে আমাকে বলে যে বাথরুমে গেলে সেখানে সে অজ্ঞান হয়ে যায়।বাথরুম থেকে বের করার পর আর তাকায় নি।হিট স্ট্রোক হয়েছিলো হয়তো।
সেদিন রাতেই ওরা গ্রামে চলে যায়।চার দিন পর ঢাকা ফিরে ওর বোনের আমার কথা মনে পড়েছে।
তার একমাস পর শহেলীর এই ছবিটা নিয়ে আমি আলাদা ফ্ল্যাট নেই। আমরা বিয়ে করেছি। ওর দেহ না থাকলেও ও সব সময় আমার সাথে থাকে।আমরা ভালো আছি।যদিও আমার পরিবারের লোক সেটা মানে না।