রোগ ব্যাধীকে মানুষের জীবনের অংশ হিসেবে ধরা যায়।কারণ প্রতিটা মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় রোগে আক্রান্ত হয়।সে হোক ছোট বা বড় রোগ।বিজ্ঞানের আশীর্বাদে চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত।কিন্তু রোগ তো আদিকালে ও ছিলো তখন মানুষ রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতো কিভাবে? এসব প্রশ্ন আমাদের মনে প্রায়ই ঘুরপাক খায়।আমরা জানি যখন আগুন আবিস্কৃত হয়নি তখন মানুষ কাঁচা মাংস, ফলমূল এসব খেয়ে জীবন ধারণ করতো।পশুর চামড়া, গাছের চাল,পাতা-লতাকে পোশাক হিসেবে ব্যবহার করতো।আবার গাছের শিকড়-বাকরকেই ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতো।আদিম যোগের সহস্র শতাব্দী পর এ উন্নত বিশ্বের গ্রাম অঞ্চলে এখনো গাছের শিকড়, লতাপাতা দিয়ে ঔষধ তৈরি হয় যা "বনালা ঔষধ" নামে পরিচিত। শহরেও এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে হারবাল ঔষধ নামে পাওয়া যায়।
আমি গ্রামে বড় হয়েছি এটা নতুন কোনো বিষয় নয়।আমি বেশির ভাগ লিখাতে এটা বলি।আসলে প্রসঙ্গ এসে যায় তাই। সবার জন্মস্থান তার কাছে প্রিয় তাই এটা নিয়ে বলার সুযোগ আমার মনে হয় কেউ ছাড়ে না।যাইহোক গ্রামে বড় হওয়ায় আমার সুযোগ হয়েছে এসব "বনালা ঔষধে"র ব্যবহারের।এছাড়াও অনেক ধরনের কবিরাজও দেখেছি যারা বনালা ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করে। আমি বলছি না সবাই খারাপ তবে এসব কবিরাজের বেশির ভাগই ভন্ড।নিজের সুবিধা বুঝে ব্যবহার করে। তাই বেশির ভাগ সময় এসব ঔষধ কাজ করে না। তাই গাছ ঔষধের প্রতি মানুষের ভরসা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। কিন্তু এসব শিকড়,লতাপাতা ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে অনেক কঠিন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
আমি কিছুতেই বলছি না ডাক্তারের প্রয়োজন নেই। অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে কিন্তু এসব গাছ লতা পাতা দিয়ে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা করতে পারি।এই প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হলে আমাদের গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে হবে।আমরা যদি গাছের গুণাগুণ জানি তাহলে আমরা নিজেরাই এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঔষধি গাছ ব্যবহার করতে পারবো।ভন্ড কবিরাজের কাছে গিয়ে প্রতারিত হতে হবে না।বনালি ঔষধের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও ফিকে হবে না।
এসব বনালি ঔষধ সত্যিই প্রয়োজন। কারণ ছোট ছোট সমস্যায় আমরা সাধারণত ডাক্তারের কাছে যেতে নারাজ। তখন আমরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দোকান থেকে ঔষধ কিনে খাই।এতে আমাদের শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়াও এসব ঔষধ শরীরের জন্য ক্ষতিকর।তাই এসব বনালি ঔষধের প্রয়োজন।
বিঃদ্রঃ বনালি ঔষধ বা গাছের শিকড়,লতাপাতা নিয়ে লিখা এসব আমার ব্যক্তিগত মতামত।আমার কাছে এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান বা ব্যাখ্যা নেই।নিজের সাথে ও আশপাশে ঘটা কিছু অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনাকৃত।