কথার নেই ঠিক!

Words
542
Reading
3 min
Listen
Play
4y

পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের কথাবার্তা যখন পরিবর্তন হয়ে যায় সেটাকে বিভিন্ন মাপ কাঠিতে মাপা যায়।যেমন বিজ্ঞানের বিষয়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল।যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।আপাত দৃষ্টিতে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে হয়তো একটা তথ্য বিজ্ঞানীরা দিলো,কিছু বছর পর তার থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য গবেষণা হওয়ার পর হয়তো পুরাতন তথ্যটা ভুল প্রমাণিত হতে পারে।এই যে এক্ষেত্রে অতিসাধারণ একটি উদাহরণ রয়েছে,এককালে সাধারণ মানুষতো বটেই বিজ্ঞানীরাও মনে করতো যে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে।এই বিশ্বাস অনেকদিন মানুষের মধ্যে বর্তমান ছিলো।তারপর বিজ্ঞানের আরও অগ্রগতি হলো,বিজ্ঞানীরা জানতে পারলো যে আসলে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে।

এইযে বিজ্ঞানীদের কথার পরিবর্তন হলো,এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়।এতে বিজ্ঞানীদের নিজেদের কোনো স্বার্থ নেই অর্থাৎ নিজেদের স্বার্থে কথার পরিবর্তন করেছে এমন নয়।
কিন্তু আরেকটা বেপার আছে,কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বার্থে,নিজেদের সুবিধার্থে নিজের কথা নিজেই পরিবর্তন করে।নিজের সুবিধার্থে একবার হয়তো একটা কথা বললো,কিছুদিন পর আবার নিজের সুবিধার্থেই ঐ একি কথার বিপরীত কথাটা তারা বলে ফেলবে অনায়াসে।

একটা উদাহরণ দিলে বেপারটা বুঝতে সহজ হবে।এক থেকে দুই বছর আগে আমার গ্রামেবাড়ির একটা ছেলে তার ধারণা যেমন ছিলো এখন পাল্টে গেলো নিজের সুবিধার্থে।
সেই সময়টাই সে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক,ইনস্টাগ্রামে দেখতো যে বিভিন্ন মানুষ রেস্টুরেন্টে ভালো খাবার খেয়ে পোস্ট করছে বা কেউ তার নতুন গাড়ি কিনেছে সেটা পোস্ট করছে বা কেউ নতুন জামা কিনে পোস্ট করছে আবার কেউ প্রথম বেতন পেয়ে পোস্ট করছে,অর্থাৎ যে যার নিজেদের ভালো অবস্থান দেখাচ্ছে,তখন সেই ছেলেটা এসব দেখে বলতো,"মানুষ কতোটা ছোটলোক হলে এসব সবাইকে দেখিয়ে বেড়াতে পারে,ভাই তোরা কি খাচ্ছিস আর কি পড়ছিস এটা মানুষকে দেখানোর কি আছে 'শো অফ' করার কি আছে,এদের যে কবে বুদ্ধি হবে..."।এমন আরও অনেক কিছু বলতো সে এই বেপারে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব 'শো অফ' সে পছন্দই করতো না।

একদিন হঠাৎ আমার বোন একটা স্ক্রিনশট দেখালো যেটা কিনা সেই গ্রামেরবাড়ির ছেলেটার।সে ফেইসবুকে একটা পোস্ট করেছে নিজের পাওয়া প্রথম বেতন নিয়ে।আমি অবশ্য এককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিলাম এখন নেই।তাই আমার বোন এটা দেখালো।এরপর সেই ছেলেটা অর্থ উপার্জনের দিক দিয়ে ভালো একটা অবস্থানে যাচ্ছিলো।সে প্রতিদিনই পোস্ট করে সেসবের আপডেট দিতো।কে তার প্রশংসা করলো,কোনদিন কতটাকা উপার্জন করলো।আমিতো অবাক হয়ে গেলাম,মানুষতো সপ্তাহে নিজের একটা অর্জনের কথা পোস্ট করে শো অফ করতো,আর তা দেখেই এই ছেলেটা তেলে বেগুনে জ্বলে যেতো।আর এখন সে নিজেই কিনা এমন প্রতিদিন শো অফ করে বেড়াচ্ছে।

আমি সুন্দরভাবে তার এই আত্মপ্রচার সম্মন্ধে জিজ্ঞেস করাতে সে যা বললো,এটা শুনে আমি আকাশ থেকে পড়লাম,সে বললো,"নিজের ঢোল নিজেকেই পিটাতে হবে,অন্য কেউ এসে পিটিয়ে দেবে না"

বছর খানেকের মধ্যে আর্থিক দিক দিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই তার চিন্তা-ভাবনা পাল্টে গেলো নাকি তার কথা পাল্টে গেলো।নিজের সুবিধার্থে আগে যেটা তার কাছে ঘৃণিত কাজ ছিলো,এখন সেটা হয়ে গেলো সঠিক কাজ।

মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর বড় ভাইরা ডেকে পরিচিত হয় যেটাকে রেগিং(Ragging) বলে।রেগিং এ পরিচিত হওয়ার কথা থাকলেও বড় ভাইরা মাঝে মধ্যে খারাপ ব্যবহার করে,ধমকাধমকি করে যাতে পরবর্তীতে জুনিয়ররা তাদেরকে মেনে চলে।তো আমরা যখন প্রথম বর্ষে ছিলাম তখন কিছু ছেলেরা এ বেপারটা সম্পর্কে বলতো যে," বড় ভাইরা অযথাই আমাদের উপর অত্যাচার করে,আমাদের কি কোনো স্বাধীনতা নাই,আমরা যা খুশি তাই করবো"।

এখন ঐ ছেলেরাই এখন যখন তৃতীয় বর্ষে উঠলো,তাদের এখন অনেক জুনিয়র আসলো এখন তারা তাদের সেই আগের বক্তব্য পাল্টিয়ে ফেললো,এখন বলে,"তারা পেয়েছাটাকি আমাদের কথা শুনবে না মানে,আমরা তাদের বড় ভাই,আমরাতো তাদের ভালো চেয়েই বকা ঝকা করবো...।"এসব আর কতকি কথা,নিজেদের কাজকে সঠিক প্রমাণের জন্য।

এভাবেই মানুষ নিজেদের স্বার্থে কথা পাল্টিয়ে ফেলে,এই বিষয়টাকে আসলে খাঁটি বাংলা ভাষায় বলা যায় ভন্ডামি।আমাদের আশপাশে এইরকম প্রচুর মানুষ আছে।এদের থেকে সাবধানে থাকা উচিত,নিজেদের সুবিধার্থে যেকোনো সময় যুক্তি পাল্টিয়ে ফেলে এরা।

diplomacy-policy-mask-his-face-pop-art-retro-style-business-negotiations-lies-hypocrisy-hidden-emotions-69210264.jpg

কথার নেই ঠিক! | Ecency