মানব আচরণের একটি প্রধান বিষয় হচ্ছে বিশ্বাস।কোনো বিষয়ে কাউকে নির্ভরযোগ্য মনে করাই হচ্ছে বিশ্বাস।এই বিশ্বাস মানুষের মনকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে।একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষকে বিশ্বাস করে,তখন স্বাভাবিকভাবে তার মন ঐ মানুষটি সম্পর্কে এতো টুকু নিশ্চিত হয়ে যায় যে আত্মরক্ষার প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণের পথটিও খোলা রাখে না।আমাদের সবার মধ্যেই সৃষ্টিকর্তা এই ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন যে,আমরা যা কিছুই করি না কেনো,করার আগে আমরা ভাবি এটা করা ঠিক হবে কিনা বা করলে আমার কি ক্ষতি হতে পারে।এই যে শারীরিক ক্ষেত্রে যেমন আমাদের দেহ,সব সময় প্রস্তুত হয়ে থাকে তার উপর আক্রমণ হওয়ার সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া জানানোর।
ছোট কালে বিজ্ঞান বই এ এই বিষয়ে একটা উদাহরণ পড়েছিলাম,একজন মানুষ যখন দেখে তার সামনে সাপ,সে যদি সাহসী হয় তাহলে তৎক্ষনাৎ সাপটিকে মারার জন্য লাঠি বা যা কিছু পাবে সেটা নিয়ে তেড়ে যায়,আর যদি ভীতু হয় তাহলে চিৎকার করে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে।তো এই যে সাপকে মারার জন্য লাঠি নিয়ে অগ্রসর হওয়া বা ভয়ে পালিয়ে যাওয়া,কোনটাই ঐ ব্যক্তিটি সাপকে দেখার পর ভেবে সিদ্ধান্ত নেয় নি।এমন হয়নি যে সাপকে দেখলো,তারপর ভাবতে বসলো কি করা যায়।তাহলেতো ততক্ষনে সাপ পালিয়ে যেতো বা কামড় মারতো।তো এই সব ক্ষেত্রে আমরা যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি এইভাবেই আমাদের তৈরি করেছেন সৃষ্টিকর্তা।
ঠিক এমনই আমরা যা কিছু করি না কেনো,আমরা আগে থেকে সাবধান থাকি তার ফল কি হতে পারে এটা নিয়ে।এটাই মানবচরিত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।কিন্তু ঐ যে বললাম,বিশ্বাস এই বৈশিষ্ট্যকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।মনে করা যাক,উপরে যে সাপ আর ব্যক্তিটি ছিলো তার ঘটনা এইরুপ ছিলো যে,ব্যক্তিটা সাপটিকে বিশ্বাস করে ফেলেছে।তো এই বিশ্বাস তার চরিত্রের চিরাচরিত যে বৈশিষ্ট্য বিপদের জন্য প্রস্তুত থাকা,তা ঐ সাপের ক্ষেত্রে সে থাকবে না।এখন ঐ সাপের ক্ষেত্রে এটা অতি সহজ হয়ে যাবে ঐ ব্যক্তিটিকে আক্রমণ করে মেরে ফেলা,কারণ সে কখনওই প্রস্তুত থাকবে না বিপদকে মোকাবিলা করার জন্য।
এতো সব প্যাঁচ লাগানো কথা বলার উদ্দেশ্য এটাই যে আমাদের স্বাভাবিক চলার পথেও আমরা এক মানুষ আরেক মানুষকে এভাবে বিশ্বাস করে থাকি।যাকে পূর্ণভাবে বিশ্বাস করা যায়,তাকে মনে হয় ফেরেশতা,পাপহীন সৃষ্টি।সে আমার কোনো ক্ষতি করতে পারে না,সে সবসময় আমার ভালোই করবে এমনটা মনে হয়।কিন্তু অতি বাস্তব কথা এটাই যে,যে মানুষটাকে এভাবে বিশ্বাস করা যায়,তার কাছেই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকে আমাদের ক্ষতি করার।কারণ ঐ একটাই, আমরা তার বেপারে পূর্ব থেকে সচেতন থাকি না।
আবার অনেকক্ষেত্রে এমনটা হয় যে,যাকে বিশ্বাস করেছি,সে কখনওই কোনো ভুল করতে পারে না,তার ভুল হতে পারে না এমন বিশ্বাসও আমরা অনেক মানুষের প্রতি করে থাকি।এটা একদম অন্ধবিশ্বাস,এই অন্ধবিশ্বাস একজন মানুষকে আরও দুর্বল করে দেয়।আমরা যাকে অন্ধবিশ্বাস করি, সে মানুষটা চাইলে আমাদের এমন ক্ষতি করতে পারবে, যা আমাদের বড় বড় শত্রু যাদের একমাত্র চাওয়া আমার ক্ষতিহোক, সেও করতে পারবে না।
আমাকে বিশ্বাস করে, অনেকেই তাদের গোপন এমন অনেক কথা বলে, যা অন্য কেউ জানে না।তো আমি এটা চিন্তা করলাম যে,আমি একেকজনের এমন কথাও জানি এটা যদি আমি কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে প্রকাশ করে দেয় তাহলে তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।তখন আমার মাথায় এটা আসলো যে,তারা যে মানুষটাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছে,এই বিশ্বাসের সাথে সাথে তারা সেই মানুষটাকে তাদের জীবনটাকে ধ্বংস করার ক্ষমতাও দিয়ে দিয়েছে।
আবার আরেকটি দিকও রয়েছে বিশ্বাসের।যেমন,একবার একটা বড় পরিমাণের অর্থ একজন আমার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়া রাখে,এটা আরেকজন জানতে পেরে এসে আমাকে বললো,আমার কাছে যদি এই অর্থটা রাখতো তাহলে পরবর্তীতে চাইতে আসলে আমি অস্বীকার করতাম বা আর দিতাম না।তখন আমি তাকে এই উত্তর দিয়েছিলাম যে,"এই জন্যই তোমার কাছে না রেখে আমার কাছে রেখেছে।"
তাই এটা বলাই যায় যে,যাকে বিশ্বাস করা হয় সে বিশ্বাস করা ব্যক্তির সবচেয়ে বড় ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে।কিন্তু মানুষ তাকে বিশ্বাস করে ক্ষমতা দিয়েছে এটা ভেবে হলেও মানুষের বিশ্বাস রক্ষা করা উচিত,কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত নয়।