বিয়ে করেছিস,বাচ্চা কয়টা?

Words
648
Reading
3 min
Listen
Play
4y

একবার আমার এক বড়ভাই একটা ফেইসবুক পোস্টে, কতগুলো ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছিলো 'হেপি টাইম '।ওনি আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড। আমার কলেজের এক সিনিয়র দাদা।তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ছবি গুলো ছিলো ওনার স্ত্রীর সাথে ঘুরতে গিয়ে কোন এক নদীর পাড়ে ওঠানো। আমি যখন ফেইসবুক চালাতাম তখন সাধারণত কারো ছবি চোখের সামনে পড়লে একটা লাভ রিয়েক্ট দিয়ে চলে যেতাম।কারো ছবিতে কমেন্ট করা বা অতিরিক্ত ফোকাস করা আমার ধারা হয় না বা আমার নীতি বিরোধী কাজ।

যথারীতি লাভ রিয়েক্ট দিয়ে চলে যাবো ঠিক তখনি চোখে পড়লো সামনে এসে থাকা একটি কমেন্ট 'কি যেন মিসিং ' আমি একটু আকর্ষিত হয়ে খুঁজতে চেষ্টা করলাম কি মিসিং। না সবি ঠিক আছে, তবে কেন বললো!এখন আমি কমেন্টের ভিতর ঢুকলাম, উদ্দেশ্য কি মিসিং দেখবো।এখানে ঢুকে আমি কিছুটা অবাক হলাম পোস্টটা দিয়েছে কয়েক মিনিট হয়ছে।এর মধ্যে এই একটা কমেন্টের সাঁইত্রিশটা রিপ্লাই। কমেন্ট গুলো এই রকম -সত্যিই ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, মেইন থিংস মিসিং,বেমানান ইত্যাদি অনেক কিছু। আমার অল্প বুদ্ধি দিয়ে কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না সবাই কি বলছে।পঁয়ত্রিশ নাম্বার কমেন্টটা পড়ে বুঝতে পেরেছিলাম আসলে বিষয়টা কি।তিনিও বিষয়টা বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করেছেন।

ওনার কমেন্টটি অনেকটা ছিলো "আচ্ছা তোদের বিষয়টা কি একা থাকলে বৌ চাই,বৌ থাকলে বাচ্চা চাই "।ওনার কমেন্টটা এমন হলে আর একটু ভালো লাগতো আমার "একা ছবি দিলে ফাঁকা লাগে বউ চাই,বৌ সহ ছবি দিলে ফাঁকা লাগে বাচ্চা চাই, আরে বেটা তোর যদি পূর্ণতা দরকার ধানের গোলা বানাইয়া বৌ বাচ্চা দিয়ে ভরে রাখ,মানুষের পিছে লাগিস কেন।''

এটা পড়ে তখন আমার মামাতো ভাইয়ের কথা মনে পড়েছিলো। ও যখন বিয়ে করে ওর স্ত্রী অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ওরা ঠিক করেছে ভাবীর পড়াশোনা শেষ হলে বাচ্চা নিবে। সব ঠিকঠাক চলছিলো। পরিবারের ও কোনো সমস্যা নেই। তবে এক বছর পেরোতেই পাড়া পর্শির ঘুম হারাম। মাসুমের বাচ্চা হয় না কেনো।কেউ বলে বৌ বাঁজা তো কেউ বলে মাসুম আঁতকুড় ( আমাদের এলাকায় নিঃসন্তান পিতাকে বলা হয়)।

আমার মামাতো ভাই অন্য রকম মানুষ এসব কথায় কান দেয়নি। বিয়ের আট বছর পর সন্তান নেয়। কিন্তু সবাই তার মতো শক্ত নয়,অনেকে এসব কথা মানতে পারে না।

এসব কথা শুনে আমার মাথায় একটা কথা এলো।দেখা যাক কোন বয়সে সন্তান কিভাবে মা বাবার কাজে লাগে। মনে করেন বাইশ বছর বয়সে একজন লোকের সন্তান হলো।সংসার জীবনের সব দায়িত্ব তার উপর চলে আসলো। তার তেতাল্লিশ বছর বয়সে তার সন্তানের সন্তান হলো সেও তখন সংসারী হয়ে যাবে।পঞ্চাশ বছর বয়সে তার সংসার তুলে দিতে হবে সন্তানের হাতে।ইচ্ছে তে হোক আর অনিচ্ছা তে হোক তাকে অবসর নিতে হবে। ওনার যখন সত্তর বছর বয়স হবে ওনার সন্তান তখন পঞ্চাশের কাছাকাছি। তার নিজের সংসারে নাতি নাতনি, পুত্র বধু মেয়ে জামাই অনেক সদস্য। তার মা-বাবার প্রতি টান কম থাকবে দেখভালের সুযোগ সুবিধা তারও তো আর বয়স কম হয়নি তাদের ও শারীরিক,মানসিক অবস্থার অবনতি হবে। এছাড়াও সন্তানদের পরিবারও নিশ্চয় ভাগ হয়ে যাবে যদি চার সন্তান থাকে তাহলে পরিবার হবে চারটি কোনো এক সন্তান তো আর একা দায়িত্ব নিবে না তাদের ঘরে ঘরে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। তাকে অবশ্যই এভাবেই থাকতে হবে।

এখন ধরা যাক কেউ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে বিয়ে করলো। তার সন্তান হলো চল্লিশ বছর বয়সে।তখন তিনি নতুন বাবা হওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বাসিত আগের জন যেখানে দাদা হওয়ার জন্য প্রস্তুত।তার সন্তান পড়াশোনা শেষ করে যখন সংসার জীবনে পৌঁছাবে তখন তার বয়স চলে যাবে সত্তরের ঘরে। নিজের সংসার সন্তানদের হাতে হস্তান্তরের আগেই তিনি পৌঁছে যাবেন ক্লান্তি লগ্নে।

আঠারো থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এসময় আনন্দ খোঁজতে কোনো বিষয় লাগে না অপর দিকে পঞ্চাশে পৌঁছানোর সাথে সাথে মানুষ একটু ক্লান্ত হয়ে যায় তখন আনন্দ বিদ্যুতের বাতি দিয়ে খুঁজতে হয়। তখন সংসার থেকে ছুটি নিয়ে এই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমার মনে হয় একটু দেরিতে সংসার শুরু করলে এই সমস্যার সমুক্ষীন হতে হতো না।তাই আমি মনে করি বেশি বয়সে সন্তান জন্মদান মা বাবার জন্য আশীর্বাদ।

কিন্তু সমাজ এটাতো বুঝেই না,একজন মানুষ বিয়ে করার পর তারা বাচ্চা নিচ্ছে না কেনো সেটা নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়।কেউ যদি ইচ্ছে করে বাচ্চা না নেয় সেটা ভিন্ন কথা,কিন্তু কারো যদি স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যার কারণে বাচ্চা না হয় তাহলে ঐ দম্পতির কতোটা খারাপ লাগবে এসব কথা শুনে এই লোকগুলো তা বুঝে না।এদের সুবুদ্ধি যে কবে হবে সৃষ্টিকর্তা ভালো জানেন!

626c10c4f72fa620d018d6d5_pexels-ivone-de-melo-2797865.jpg

বিয়ে করেছিস,বাচ্চা কয়টা? | Ecency