জনসাধারণের বৃষ্টি বিলাস

Words
472
Reading
3 min
Listen
Play
4y

কমবেশি সবাই বৃষ্টি ভালোবাসে। বৃষ্টি কাউকে করে রোমান্টিক, আবার কাউকে করে আবেগ আপ্লুত। আমি নিজেও বৃষ্টি পছন্দ করি।ভালোবাসি বলিনি। কারণ বৃষ্টি কখনো কখনো যেমন ভালো লাগে কখনো কখনো আবার বিরক্ত ও লাগে।তাই এর জন্য পছন্দ কথাটায় ঠিক আছে।

আমরা চার ভাইবোন ছোট সময় যদিও গ্রামে কাটিয়েছি তারপরও বৃষ্টিতে ভিজার সৌভাগ্য আমাদের হয়ে ওঠেনি।কথাটা আশ্চর্যজনক হলেও সত্য। আমাদের শ্রদ্ধেয় মা জননী সকালের দাঁত মাঝা থেকে রাতের ঘুম পর্যন্ত একটি নিয়মে বেঁধে দিয়েছিলেন। আমরা এর বাইরে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারিনি। ছুটির দিনের কোনো অলস দুপুরে জানলার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টি দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। জানলার ফাঁকা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে বৃষ্টিতে গাঁ ভিজানোর ব্যর্থ চেষ্টা আমি ছোট থেকেই করি। তাতে আমি কতটুকু সফল বৃষ্টি প্রেমীরা তা নিজেরাই বুঝতে পারবে। আমার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হবে না। কোনো এক বৃষ্টিস্নাত বিকেলে মুড়ি মাখা কিংবা তেলে ভাজা খেতে খেতে বৃষ্টি বিলাস করাই যেতে পারে।আবার গভীর রাতে টিনের চালে বৃষ্টির রুমঝুম শব্দ আমাকে হারিয়ে দেয় স্বপ্ন রাজ্যে।

ছোটবেলায় বৃষ্টির সময় আমরা ঘরে বসে থাকতাম। আর অন্য বাচ্চারা বৃষ্টিতে ভিজে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো।আমরা জানলা দিয়ে দেখতাম। ওদের খেলা দেখে আমার খুব খেলতে ইচ্ছে করতো।কিন্তু আম্মা বলতো জ্বর আসবে বৃষ্টিতে ভেজা যাবে না। আম্মা আগে থেকে বলে দিতো স্কুল ছুটির সময় বৃষ্টি আসলে অপেক্ষা করবে বৃষ্টি থেমে গেলে তারপর আসবে। তাই স্কুল ছুটির সময় বৃষ্টি আসলে অপেক্ষা করতে হতো। অন্য সবাই চলে যেতো আমি দাঁড়িয়ে থেকে খুব কষ্ট পেতাম। একদিন স্কুল ছুটি দেওয়ার সময় আকাশ অন্ধকার দেখলাম কিন্তু বৃষ্টি পরছে না তাই সবার সাথে তাড়াতাড়ি দৌড়দিলাম।অর্ধেক রাস্তা আসার পর বৃষ্টি নেমে গেল। এখনতো কিছু করার নাই ভিজে ভিজে বাড়ি আসলাম।বাড়িতে এসে আম্মাকে ডাকলাম আম্মা ঘরে নাই। আমি এই সুযোগে বই বাইরে থেকে ঘরের ভিতর রেখে অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলা শুরু করলাম। ওরা কাঁদার মাঝে ফুটবল খেলে আমিও তাদের সাথে খেলতে শুরু করলাম। আম্মা আমার চাচাতো দাদুর ঘরে গিয়েছিলো কোনো দরকারে বৃষ্টির জন্য আসতে পারছে না। তাই বসে দাদুর সাথে গল্প করছে। আবার আম্মাতো জানেনা আমি স্কুল থেকে চলে এসেছি। আপারা কেউ আসেনি তখনো। বৃষ্টি হালকা কমলে আম্মা আসলো।

আম্মাকে দেখে আমি দৌড়ে চলে এলাম। আম্মা কিছু বলার আগে আমি বললাম আম্মা মসজিদের কাছে আসার পর বৃষ্টি নেমে গেছে। ঘরে এসে দেখি তুমি নাই তাই ওদের সাথে খেলতেছিলাম। সারা শরীরে কাঁদা মাখানো।ভেবে ছিলাম আম্মা বকা দেবে কিন্তু কিছু বলেনি। তাড়াতাড়ি টিউবওয়েল পাড়ে নিয়ে গোসল করিয়ে কাপড় পরিয়ে শুইয়ে কাথা দিয়ে দিলো। তারপর নিজ হাতে খাইয়ে দিলো। রাতের বেলা আমার এতো জ্বর এলো এক জ্বরে ১৬দিন। ষোল দিন পর জ্বর সারলেও পুরুপুরি সুস্থ হতে আমার ৩ মাস লেগেছিল। এটা ছিলো আমার প্রথম ও শেষ বৃষ্টিতে ভিজা। এরপর থেকে বৃষ্টির পানিতে পা ভিজাতে ও আমি ভয় পাই।

আমার বাহিরে যাওয়া দরকারের সময় যদি দেখি বৃষ্টি হচ্ছে আমার খুব বিরক্ত লাগে।
আমি হুমায়ুন আহমেদের ভক্ত। ওনার নাটক, সিনেমা কিংবা গল্পে বৃষ্টি বিলাস কমন একটা বিষয়।এসব জায়গায় বৃষ্টি বিলাস দেখলে আপনি রোমান্টিক হবেন, আবেগ প্রবন হবেন। নাটক সিনেমা আর লেখকদের জন্য বৃষ্টি বিলাস ঠিক আছে। সাধারণ মানুষের জীবনে বৃষ্টি আসে তবে বৃষ্টি বিলাস খুব একটা আসেনা।

IMG_20200713_170529.jpg

জনসাধারণের বৃষ্টি বিলাস | Ecency