উদ্ভট বিনোদন

Words
499
Reading
3 min
Listen
Play
4y

নাটক -সিনেমা দেখা হয়না অনেক দিন।যখন বাড়িতে ছিলাম তখন টিভিতে কিংবা সিডিতে খুব বাংলা সিনেমা দেখতাম। তখনতো আর হাতে হাতে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট ছিলোনা। গ্রামগঞ্জে তখন ডিসও পৌঁছায়নি। তাই বিটিভি আার সিডি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিলো না।যদিও আমি সিনেমা দেখতাম আর পছন্দ ও করতাম তবু্ও সিনেমার এই তিন ঘন্টা সময় আমার কাছে অতিরিক্ত মনে হতো। এতো সময় কি বসে থাকা যায়। তাই প্রথম দিকের কিছু অংশ দেখে আমি ওঠে যেতাম আবার শেষের দিকে দেখতাম।তখনতো আর কেটে দেখা যেতো না। সিডিতে সবার সাথে বসে দেখতে হতো কাটা গেলেও সবাইতো আর আমার মতো না কেটে কেটে দেখবে। তখন সিনেমা দেখে মজা পেতাম দুঃখের দৃশ্য আসলে কষ্ট পেতাম। ঐ মারামারি মানে আধুনিকদের মুখের ভাষায় "একশন সিন" আমার কখনো ভালো লাগতো না। কারণ বাস্তবতার সাথে এর কোনো যোগযোগ নেই। এটা কি সম্ভব দশজন পুরুষ সব ধরনের অস্ত্র নিয়ে একজন কে হামলা করবে তিনি এতোই মহাবীর খালি হাতে ওদের মেরে চিৎপটাং করবে।

সে যাইহোক যখন বুঝতে শিখেছি নাটক সিনেমা সমাজের প্রতিচ্ছবি তখন থেকে নাটক বা সিনেমা যাই দেখি আমি ভাবি কোনটা সম্ভব কোনটা অসম্ভব। নাটক সিনেমা বানানোর দুইটি উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে বিনোদন আরেকটি হচ্ছে সমাজের কাছে কোনো বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কেউ কেউ নিছক বিনোদনের জন্যও নাটক সিনেমা তৈরি করে। কিন্তু সেখানে অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার সমাজের কাছে কোন ভুল বার্তা যাচ্ছে নাতো।এর প্রভাব যুবক সমাজকে ভুল কোন শিক্ষা দিচ্ছে নাতো।অধিকাংশ বাংলা সিনেমা গুলো একি রকম। নায়ক -নায়িকা একজন ধনী বাবার সন্তান আরেকজন গরিবের সন্তান। কোনো ভাবে তাদের পরিচয়, পরিচয় থেকে তথাকথিত ভালোবাসা। আর তাদের ভালোবাসা এতই গভীর যে এর জন্য তারা যা খুশি করতে পারে।ধনী পরিবার তাদের ভালোবাসা মানবেনা তার জন্য তাদের সন্তান তাদের সাথে যেমন তেমন আচারণ করে সঙ্গীর হাত ধরে চলে যাবে। শেষ পর্যন্ত মা বাবা ভুল স্বীকার করবে। এর দ্বারা পরিচালকগণ সমাজকে কি বার্তা দিতে চান আমার জানা নেই।তবে আপাত দৃষ্টিতে এই সিনেমাগুলোতে আমি দেখি মা বাবারা সবসময় ভুল করেন সন্তানদের কখনো ভুল হয় না।

হঠাৎ যে কারণে নাটক -সিনেমা নিয়ে লিখতে বসা।কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসিফ আকবরের "পাখি" শিরোনামের একটা গান দেখেছিলাম। আমার জানা মতে আসিফ আকবর বাংলাদেশের গুণী শিল্পী। গ্রাম বাংলা অনেক তরুণ ওনাকে আইডল মানে। ওনি এই গানটা কেনো গেয়েছেন।গানের দৃশ্যে ইভটিজিং করে ওনি কি শিখাতে চান সেই তরুণ সমাজকে।

আজকালকার একটা নাটকের বর্ণনা দিলে বুঝা যাবে যে, অর্থহীন এসব কি দেখানো হচ্ছে,বানানো হচ্ছে। নাটকের নাম "গ্রামের মেয়ে শহরের ছেলে"। নাটকের প্রথম দৃশ্য গ্রামের মেয়ে তার চাচির সাথে শহরে এসে গাড়ি থেকে নামলো তার পায়ে জুতা নেই। চাচি জিজ্ঞেস করলো জুতা কোথায়? সে বলে গাড়িতে ওঠার আগে খুলে রেখেছে গাড়িতে নাকি ময়লা লাগবে। অন্য আর এক দৃশ্যে চাচাতো ভাই শপিং করতে নিয়ে যাচ্ছে মটর বাইক দিয়ে, ও ভয় পাচ্ছে বলে চিৎকার করছে। চাচাতো ভাই বার বার ক্ষেত,গ্রাম্যভূত বলে গালি দিচ্ছে। মানে কি এসবের। গ্রামের মেয়েদের কি বুঝানো হচ্ছে! পুরো নাটকে গ্রামের মেয়েকে বোকা, শহরের মেয়েকে অভদ্র আর চাচাতো ভাইটা একটা গর্দভ বোঝানো ছাড়া নাটকে কোনো কিছুই ছিলোনা।

ওনাদের সৃষ্টির প্রতি আমি অসম্মান করছি না। শুধু আমার মনে হয় দৃশ্যায়নের আগে ওনাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া দরকার। অন্যান্য চিত্রবিনোদনের চেয়ে নাটক -সিনেমা সমাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এসব তৈরির ব্যপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

istockphoto-184871630-612x612.jpg

উদ্ভট বিনোদন | Ecency