সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন অত্যন্ত ভালোবেসে।তাই কোথায় কতটুকু সমতা আর কোথায় কতটুকু অসমতা দেওয়া দরকার তিনিই সবচেয়ে ভালো বুঝেন।আপনি যদি সামান্য কিছু সৃষ্টি করেন তাহলে বুঝতে পারবেন সৃষ্টির প্রতি সৃষ্টিকর্তার কতো মায়া। সৃষ্টি বলতে আপনাকে আমি কোনো কিছু আবিষ্কার করতে বলিনি। মনে করেন একটা নতুন কোনো রান্না আপনার মনের মাধুরি মিশিয়ে রান্না করেছেন তা যদি বেমজাও হয় আপনার তা নষ্ট করতে ইচ্ছা করবে না। কেউ যদি সে রান্নার নিন্দা করে আপনার শরীরে জ্বালা ধরবে। তখন আপনি ভাবতে সক্ষম হবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সৃষ্টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট বেলা থেকে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি আমাকে খুব আকর্ষণ করে। গ্রামে বড় হওয়ায় আমার সৌভাগ্য হয়েছে সৃষ্টিকর্তার বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির কাছাকাছি আসার। ইট পাথরের শহরে পার্থিব জগতের অসীম সম্ভাবনা থাকলেও প্রকৃতির সুনিবিড় প্রান্তশালা এখানে বিরল বললেও চলে। আমাদের বাড়ি তখন এমন ছিলো যে বন জঙ্গল বললেও ভুল হবে না। আমগাছ, জামগাছ, লিচু, কাঁঠাল কি ছিলো না। আর ছিলো বিশাল এক বাঁশ ঝাড় যা বাড়িটাকে জঙ্গলে পরিণত করেছিলো । এখন অবশ্য সে চিত্র পাল্টে গেছে। আমাদের বাড়িটা জঙ্গলের মতো হওয়ায় প্রচুর পাখির বাসা ছিলো। বিভিন্ন ধরনের পাখি। কাক,বক,শালিক,ঘুঘু,টুনি, দোয়েল আরও নাম জানা, না জানা অনেক পাখি। আমি ছোট বেলা থেকে পাখি পছন্দ করি। তাই কত যে পাখি পোষার গল্প আছে তা বলে শেষ হবে না।এই পাখি গুলো দেখতে যেমন ভিন্ন রকম ছিলো তেমন আচার আচরণ সবই ভিন্ন রকম ছিলো।
শালিক জাতীয় একটা পাখি আছে যেটাকে আমরা বলি ছন্দনা পাখি।প্রচলিত আছে এই পাখিগুলো মানুষের বিষ্ঠা খায়। তাই পাখিগুলো পোষাতো অনেক পরের কথা মানুষজন তাকিয়ে দেখতে চাইতো না। এই পাখিগুলো সহজলভ্য যে কোন জায়গায় খড় দিয়ে বড় সাইজের একটা বাসা তৈরি করে তাতে সাত-আট টি ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটাতো বাচ্চা গুলো ধরাস ধরাস করে মাটিতে পড়তো মা পাখি আবার ওঠিয়ে নিতো।এদিকে ঘুঘু,শালিক, দোয়েল এসব পাখির বাচ্চা কেউ পোষার জন্য খুঁজে, আবার কেউ খুঁজে খাওয়ার জন্য আবার অনেক কবিরাজ খুঁজে ঔষধ বানাতে। ঘুঘু পাখি বাসা বাঁধে সবচেয়ে উঁচু গাছের মগ ডালে যেখানে পৌঁছানো আসলেই অসম্ভব। বাসা গুলো এতো ছোট আর গুঁছানো যে এতো সহজে চোখে পড়েনা। আর যদিওবা আপনি দেখে ফেলেন, একবারের বেশী দুই বার থাকালে,মা পাখি অন্য জায়গায় বাসা তৈরি করে ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই ঠোঁটে করে ডিম নিয়ে বাসা ত্যাগ করে। শালিকতো আবার বাসা বাঁধে গভীর জঙ্গলে গাছের কুঠুরিতে। অনেক খুঁজার পর বাচ্চারা আবিষ্কার করলেও হাত দিতে সাহস করেনা সাপের ভয়।আর দোয়েল পাখি সে আরও বেশি মেধাবী আপনার হাতের নাগালে এমন ভাবে বাসা বানাবে পাশে বসে থাকলেও বুঝবেন না। মনে হবে এখানে কিছুই নেই।
বিভিন্ন ধরনের টুনটুনি পাখি ওদের ঠোঁট গুলো কি সুন্দর আর সূঁচালো গুল্ম পাতালতার ভিতর দুই তিনটি পাতা সেলাই করে বাসা বেঁধে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়ে নিয়ে যাবে আপনার চোখে পরবে না।কিন্তু বাচ্চা নেওয়ার পর খালি বাসাটা আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন।পাতার সাথে বাসাকে কিভাবে 'এডজাস্ট' করতে হয় ছোট্ট পাখিটি তা ভালোভাবেই জানে।
এভাবে একটু খেয়াল করলেই আপনি প্রকৃতির হাজারো মিলবিন্যাস পাবেন যা আপনাকে বিস্মিত করবে।সৃষ্টিকর্তার কি অসীম ক্ষমতা আর দক্ষতা যাকে যেভাবে যেটুকু শিক্ষা দেওয়া দরকার তিনিই সেইটুকু সেই ভাবেই দিয়েছেন। আমরা অনেক সময় সবকিছু নিজের মতো সাজাতে চাই কিন্তু আমরা কি তা পারি? হ্যাঁ আমরা নিজের মতো ভালোটা করার চেষ্টা অবশ্যই করবো কারণ সৃষ্টিকর্তাতো আর নিজ হাতে করে দেবে না।