সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আজকাল মানুষের মনের কথা, তাদের ধ্যান ধারণা আমরা খুব সহজেই জানতে পারি। জানতে পারি তাদের পারিবারিক সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না। মানে আমরা আজকাল এতোই উদার, মহানুভব হয়েছি যে, যাদের চিনি না জানি না তাদের সাথে ও নিজের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো মন খুলে প্রকাশ করি।এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নাই। ঐ যে একটা কথা আছে না ''যার যার বুঝ দাড়ি কেটে রাখে মুছ''।যার কথা সে মুখে বলোক আর পত্রিকায় ছাপাইয়া দিক আমার কিছু বলার নাই।ভাববেন আমি অভিযোগ করছি। তবে হ্যাঁ কিছু কিছু বিষয় আমার ঠিক সুবিধার মনে হয় না,সে সম্পর্কে কিছু বলার জন্যই আজকের এ লিখা।
বর্তমান সময়ে ফেইসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রাম সবখানেই কিছু কমন পোস্ট থাকে। সেদিন আমার এক আত্মীয় লিখেছেন ''আত্মীয়ের বাড়িতে যদি ইনফর্ম করে যেতে হয় তাহলে যাওয়ার কি দরকার"।ওনাকে প্রায়ই দেখি আত্মীয় স্বজনদের বিষয়ে অভিযোগ করে পোস্ট দেয়।আত্মীয়রা ওনাদের খবর নেন না। ওনাদের কিছু দেন না। আরও অনেক অনেক। স্থানীয়রা ছাড়া ঢাকা শহরের বেশির ভাগ পরিবার মা বাবা এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে। এখন কোন পরিবারে যদি মা বাবা কর্মজীবি আর তাদের সন্তানেরা স্কুল অথবা কলেজ পড়ুয়া হয় তাহলে দিনের বেলায় বাসায় তালা ঝুলবে এটাই স্বাভাবিক। হ্যাঁ নিয়ম অনুসারে ছুটির দিন ওনাদের বাসায় থাকার কথা।কিন্তু পুরো সপ্তাহ ব্যস্ত থাকার পর ছুটির দিন ওনাদের বের হওয়ার বিভিন্ন পরিকল্পনা থাকতেই পারে। তাদের এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চয় সকল আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে হবেনা।কোনো এক শুক্রবারে তাদের না জানিয়ে গিয়ে যদি দেখেন তাদের বাসায় দুই কেজি ওজনের একটা তালা ঝুলছে সেটা কি খুব চমকপ্রদ দৃশ্য হবে।এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যদি আত্মীয়ের বাড়িতে আসার আগে জানিয়ে আসা হয় তাহলে এটা কি খুব বেশি কষ্টকর। আমার মনে হয় একজন বিবেকবান মানুষকে এটা করতে বলার প্রয়োজন হবে না নিজে থেকেই করবে।
আমরাতো আর সেই যোগে পরে নেই যে এটা জনানোর জন্য ডাক বক্সে চিঠি ফেলতে হবে সেই চিঠি পনের দিন পর পৌঁছাবে এরপর ওরা চিঠিতে জানাবে সেই চিঠি আমি আবার পনের দিন পর পাবো তারপর যেতে হবে।আরে ভাই বিশ সেকেন্ড সময় লাগে এটা জানাতে এটা নিয়ে ফেইসবুকে বিঞ্জাপন দেওয়ার কিছু নাই।আপনার মনে যদি এতোই স্বজন প্রীতি থাকতো তাহলে স্বজনকে নিয়ে এ ধরনের বিঞ্জপ্তি দেওয়ার আগে একবার নয় একশত বার ভেবে নিতেন।
এইতো সেদিন ফেসবুকের এক মেয়ে বন্ধুর স্ট্যাটাস পড়লাম। সে পনেরোটা থ্রি-পিস এবং শাড়ির ছবি দিয়ে ছবিগুলোর ওপরে লিখে দিয়েছে এটা আমার শাশুড়ি দিয়েছে এটা আমার ননদি দিয়েছে, এটা আমার খালা শাশুড়ি দিয়েছে।এরকম অনেকের নাম লিখেছে দেবর-ভাসুর আরও অনেকের কথা লিখেছে।সবার শেষে লিখেছে এটাই অনেক বড় কষ্ট যে কোনোদিন এমন একটা স্ট্যাস্টাস দিতে পারলাম না।এতই যদি স্ট্যাটাস দিতে ইচ্ছে করে পনের সেট জামা কাপড় কিনে লিখে দিলেই পারে এটা আমার শ্বশুর এর জন্য, এটা আমার শাশুড়ির জন্য,এটা আমার ভাসুরের জন্য, এটা আমার ননদের জন্য ইত্যাদি ইত্যাদি।কেন সবাই সব সময় ভাবে আমি কি পেলাম। সবাই যদি ভাবতে পারতো আমি কি দিলাম তাহলে এমনিতেই সবাই পাওয়ার তালিকায় চলে আসতো।
আবার একটা মেয়ে যদি একটা মর্ডাণ ড্রেস পরে ছবি দেয় এর কমেন্ট গুলো দেখলে মনে হয় সবাই দরবেশ ব্যক্তিত্ব।আরে বাপ এখানে দরবেশি ফলাও না করে নিজের চোখের হেফাজত করুন, নিজের বোন কতটুকু শালীনতা বজায় রেখে চলাফেরা করছে সেটা দেখেন, নিজের পরিবার ঠিক করেন, এক এক করেই এগারো হয় আমাদের সমাজ ঠিক হয়ে যাবে।
তো ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের এইসব বাড়াবাড়ি দেখতে ঠিক ভালো লাগে না।নিজে খেয়ে মানুষের এসব অনিয়মের কথাবার্তা,কাজকর্ম দেখতে কার ভালো লাগে!তাই ওনাদেরকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছি।
এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত, এর সাথে সবাই এক মত নাও হতে পারে। আমার মনে হয় আমরা যদি অন্যের দোষ খুঁজে পাহাড় তৈরি না করে নিজের দোষ গুলো খুঁজে একটা ছোট্ট ডিবি বানিয়ে মাটি চাপা দিতে পারতাম পৃথিবী এমনিতেই সুন্দর হয়ে যেতো।