"প্রধান" নির্বাচন

Words
536
Reading
3 min
Listen
Play
4y

king-3832148_1280.jpg

শ্রেষ্ঠ মানে সবার প্রধান। কিন্তু সবার প্রধান কি সবসময় শ্রেষ্ঠ?হয়তোবা হ্যাঁ নয়তোবা না। কিন্তু আমরা যাদের প্রধান বানায় তারা সবাই শ্রেষ্ঠ হয় না। কারণ আমরা সেটা বিবেচনা করি না। আমি মনে করি শ্রেষ্ঠত্ব সৃষ্টি কর্তা প্রদত্ত গুণ যা সবার মাঝে থাকেনা। আজকাল নেতার কোন অভাব নাই। আমি ও নেতা তুমিও নেতা সেও নেতা আশেপাশের সবাই নেতা। কিন্তু আপনার যখন কোন নেতার প্রয়োজন হবে তখন দিনের সূর্যের আলো বা রাতের ঝকমকা বিদ্যুতের আলো কোথাও তাদের পাবেন না। তখন তারা এমন গর্তে অবস্থান করে যা থেকে বের করতে হলে আপনাকে মেডিসিন ইউজ করতে হবে। আর এর একমাত্র মেডিসিন হলো টাকা। সে সকল নেতাদের আমরা কিভাবে বলব সবার প্রধান। তাই আমি তাদের নাম দিয়েছি আদান-প্রদান। আগে আদায় করে তারপর প্রদান করে।

আজ হঠ্যাৎ নেতা নিয়ে এসব কথা বলা মানে নেতাদের অপমান করা নয়। কিছু কিছু নেতাদের আচরণ দেখে এসব কথা বলতে হচ্ছে। গ্রাম চলে গ্রাম প্রধানের হাত ধরে। বর্তমান সময়ে গ্রাম প্রধান বলতে চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার ওদেরকে বুঝায়। পারিবারিক কিংবা সামাজিক যে কোনো সমস্যায় ওনাদের ডাকা হয়।এই রকম একটা পারিবারিক সমস্যায় গ্রাম প্রধানদের ভূমিকা দেখলাম।যেখানে ন্যায় নাকি অন্যায় সেটা জানার দরকার হয় না। শুধু দরকার হয় টাকার। সালিশ বসেছে কিন্তু রায় আগেই ঠিক করাছিলো। যে টাকা দিয়েছে তার পক্ষে। ন্যায় সেখানে মাথা কুটে মরে। জোর যার মুল্লুক তার। আমি ঘটনাটা জানতাম তাই আমি জানি অন্যায় করেছে সবাই। বাড়িতে এসে ভারাক্রান্ত মনে আম্মাকে কাহিনিটা বলতেছিলাম । তখন আম্মা বলল চেয়ারম্যানের কি একার দোষ জনগনই দায়ী এসবের জন্য।

এবার আম্মা কাহিনি বলতে শুরু করল। আমাদের যে বর্তমান চেয়ারম্যান ওনার নাম বাবু। গত নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।সেবার নির্বাচনে তিনি আঠারো লাখ টাকা খরচ করেছেন। ভোটের দিন নাকি ঘরে ঘরে টাকা বিতরণ করেছেন। টাকা নিতে কেউ অস্বীকার করেনি তবে ভোট দেয়নি। ভোট দিলেতো জয়ী হতেন।

এইবার যখন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন তখন তার বসত ভিটা ছাড়া কোন সম্পদ ছিলো না। তাই তিনি সাতাশ লক্ষ টাকায় বসত ভিটা বিক্রি করে নির্বাচন করেছেন। এইবার তিনি জয়ী হয়েছেন। কিন্তু পরিবার নিয়ে থাকার জন্য পায়ের নিচে যে মাটির প্রয়োজন সেটাও তার নেই। যিনি নিজ পরিবারের মৌলিক চাহিদা পুর্ণ করতে হিমশিম খাচ্ছে তিনি সমাজ সেবায় কতটুকু মনোনিবেশ করতে পারবেন তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। তাছাড়াও তিনি যে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাতে জনগনের অবদান কতটুকু। জনগণ কি তাকে ভালোবেসে বা দয়া করে বা বিবেচনা করে জন প্রতিনিধি বানিয়েছেন?উত্তরটা সবারই জানা। তাহলে সেই জনগণকে তিনি কতটুকু ভালোবাসতে পারবেন?ভোট জনগণের অধিকার তাই তারা যদি সেটা অনৈতিক ভাবে বিক্রি করতে পারে তাহলে অনিয়মতো নিয়মে পরিনত হবেই। তখন আসলে তাদের দেওয়া নেওয়ার নীতিকে নিয়ে কিছু বলার থাকে না। এই জন্য আমি তাদের এ নীতি কে বাহবা দিচ্ছি তা নয়।

২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে আমাদের এক আত্মীয় মহিলা মেম্বার পদে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের পর ওনার সাথে আমার কথা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন নির্বাচনে নাকি তার আট লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। একজন মহিলা মেম্বারের বেতন কত টাকা। কেন সে আট লক্ষ টাকা খরচ করে মেম্বার পদে নির্বাচন করবে? কিংবা এ খরচ গুলো নির্বাচনের কোন খাতে? এই প্রশ্নের উত্তর গুলো সবাই জানে কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে না কেউ। তাই বলে কি সে সত্য কি আর মিথ্যা হয়ে যায়!

যারা চেয়ারম্যান মেম্বার পদে নির্বাচন করে তারা বেশিরভাগ সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের। এই টাকাগুলো কোন উদ্দেশ্যে খরচ করে? জনগণই বা কেন এসব টাকা গ্রহন করে?জনগণ যদি যোগ্য ব্যক্তিকে প্রতিনিধি বানায় তাহলে কিন্তু শ্রেষ্ঠ জনই প্রধান হয়।আমরা প্রত্যেকে যদি নীতিবান হওয়ার চেষ্টা করি তাহলে সমাজ এমনিতেই নীতিতে চলে আসবে...

"প্রধান" নির্বাচন | Ecency