"ডেসটিনেশন"

Words
593
Reading
3 min
Listen
Play
4y

একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে যখন সম্পর্ক শুরু হয় তখন দুইজনেরই "ডেসটিনেশন" অর্থাৎ গন্তব্য একি থাকে।সম্পর্কটাকে তারা ঐ ডেসটিনেশনের দিকেই টেনে নিচ্ছে এমন মনে হয়।মনে হয় যেনো দুইজনেরই উদ্দেশ্য দুইজনকে খুশি রাখা তাছাড়া আর অন্য কিছু নয়।
কিন্তু দিন যত যেতে থাকে তত বুঝা যায়,অন্যকে খুশি রাখার চেয়ে নিজেকে খুশি রাখায় বেশিরভাগ মানুষের উদ্দেশ্য থাকে।যেমনটা থাকে একটা জুটির দুইজনার মধ্যেই।মুখে হয়তো সে বলছে,তোমাকে খুশি রাখাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য,আমার জীবন দিয়ে হলেও তোমাকে খুশি দেখতে চাই।কিন্তু এটা এজন্যই বলছে যে,এটা বললে হয়তো বিপরীত মানুষটা তাকে আরও বেশি প্রাধান্য দিবে এই ভেবে যে আমার খুশির কথা ও কতো ভাবে!অর্থাৎ নিজের স্বার্থের জন্যই বলছে।তাতে হয়তো যাকে বলছে,সে খুশি হয়ে গেলো।কিন্তু তাকে খুশি করা তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো না বরং নিজের প্রতি বিপরীত মানুষটাকে আকৃষ্ট করাই তার উদ্দেশ্য ছিলো।

কেউ হয়তো বলছে,আমিতো আমার পার্টনারকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসি।নিঃস্বার্থ বলতে যেখানে নিজের কোনো স্বার্থ নেই।ধরে নিলাম একজন তার পার্টনারের জন্য এমন সব কিছু করে যাতে নিজের বাহ্যিক কোনো স্বার্থ পূরণ হয় না।রাত বিরাতে তার বিপদে ছুটে যায় বা অযথাই যখন যা বলে সব করে।বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে এটাতে তার কোনো স্বার্থ নেই।কিন্তু এখানেও স্বার্থ আছে।সে এসব এজন্যই করে যে,এসব করে সে মজা পায়,মনে আনন্দ পায়,নিজের মনের আনন্দের জন্য করে।তাহলেতো দেখা যাচ্ছে নিজের একটা চাহিদা পূরণ হয়ে গেলো।মানে নিজের স্বার্থ।তবে এটাকে নিঃস্বার্থ কিভাবে বলা যাবে?

শর্তহীন ভালোবাসা বলে যতই চিৎকার করুক না কেনো,ভালোবাসার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লোকায়িত শর্ত থাকেই।কোনো ছেলে হয়তো তার প্রেমিকাকে এইজন্য ভালোবাসে যে তাকে দেখলে তার ভালো লাগে। না এটা বলছি না যে মেয়েটা সুন্দর এইজন্য ভালোবাসে।তবে ছেলেটার মেয়েটার চেহারা ভালো লাগে বলেই ভালোবাসে।এমন কোনো প্রেমিককি আছে যার কাছে তার প্রেমিকার চেহারা ভালো লাগে না? যদি না থাকে তাহলে বুঝা গেলো এই চেহারাটাকে নিজের করে পাওয়াই ছিলো প্রেমিকের মূল ডেসটিনেশন!
আচ্ছা এই চেহারাটা যদি কোনোদিন ঝলসে যায়!তখন কি হবে?তখনও কি প্রেমিকাকে সমানভাবে ভালো লাগবে?

আর প্রেমিকা হয়তো মুখে বলছে তোমাকে পেলে আমার আর কিছু লাগবে না।কিন্তু মনের মূল উদ্দেশ্য তোমার কাছে যদি আমি নিরাপত্তা পাই তাহলেই তোমার কাছে থাকবো। না আমি এটা বলছি না প্রেমিকের অর্থকড়ি ভোগ করা তার ডেসটিনেশন।তবে প্রেমিক যদি রাস্তার ভিখারি হয়ে যায়,তাহলে কি আর সেই প্রেমিককে সে আর গ্রহণ করতে চাইবে?

তাহলে শর্তহীন বা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বলতে কিছু নেই।সব ভালোবাসাই শর্ত আর নিজ স্বার্থের ভেড়াজালে বন্দী।আমার নিজের স্বার্থ আর শর্ত দুটোই যখন পূরণ হচ্ছে তখন তোমার সাথে সারাজীবন থাকতে কি ক্ষতি!কিন্তু আমার স্বার্থে আঘাত লাগলো,কিংবা আমার মনের মধ্যে লোকায়িত শর্ত তুমি ভেঙে দিলে,না বাবা তোমার সাথে থেকে আমার পোষাবে না,তুমি তোমার রাস্তা মাপো,আমি আমার রাস্তা মাপি।

"ডেসটিনেশন"

আমাদের ডেসটিনেশন অজানা ছিলো,
কোথায় যাচ্ছি তাও জানা ছিলো না।
তবে এটাতো জানতাম এই অশিষ্ট স্বার্থের শহর,
কখনোই আমাদের ডেসটিনেশন ছিলো না।
হয়তো ছিলো কোনো সুখ দ্বীপ,
যার অনিলে সুখ ভেসে বেড়ায়।
তোমাকে নিয়ে সুখ সাগরের ডুব,
কিংবা সুখের ভেলায় মাঝনদীতে,
আশপাশে শুধু সুখের ঢেউ।
এগুলাই তো ছিলো ডেসটিনেশন।

ঝড়-ঝঞ্ঝাতো সুখ সাগরে আসবেই,
এতো অতিশয় সামান্য বেপার।
তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে ছিলাম ঘূর্ণিঝড়ে,
ঘূর্ণিঝড় শেষে দেখি আমার হাত ফাঁকা।
ওমা,তোমার হাত অন্য কারো হাতে।
নির্লজ্জের মতো নির্লিপ্ত চাহনিতে হাত বাড়ালাম,
ফিরে এসো,ফিরে এসো,আমার কাছে সুখ আছে।

তুমি বললে,ঘূর্ণিঝড়কে রুখতে দালান থাকতে হয়,
তোমার ঐ সুখেভরা কুঁড়েঘর উড়ে যাবে ঘূর্ণিঝড়ে।
"তোমার এই নড়বড়ে আদিম শরীর-মন,
কিন্তু ফ্রেঞ্চ কিস করা যুবক আমার প্রয়োজন।"

তোমার রাজদালানের আকাঙ্ক্ষা,
লাল-নীল চশমা পড়া রাজপুত্র ,
যার বুকে পশ্চিম নগরের ট্যাটু,
হাতের মুঠোয় কোহিনূরের বাক্সে বন্দী পৃথিবী,
মুখের স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজের ভুলিতে আছে সুরা,
মাথার মুকুটের প্রত্যেকটি পাথরে আছে,
তোমাকে পৈশাচিক মোহে ডুবানো তন্ত্র-মন্ত্র,
যে আসে চোঁখ ধাধানো যান্ত্রিক টাট্টু ঘোড়ায় চড়ে,
এসবে যে তুমি মাতাল হও,
আমার ছিলোনা জানা।

আমি দিতে চেয়েছি সুখ,শুকনো সুখ।
তোমার মনে ছিলো উচ্চাভিলাষ।
স্বার্থ আমার ডেসটিনেশন ছিলো না ঠিকই,
কিন্তু তোমার মগজে,হৃদয়ে,
পাকস্থলী,যকৃত,অন্ত্রে,
শিরা, উপশিরা,ধমনীতে,
তরুণাস্থি কিংবা অস্থির হ্যাভারসিয়ান ক্যানেলে,
সর্বত্র ছিলো শুধু লোভ,স্বার্থ আর বিশ্বাসঘাতকতা।

Screenshot_2022_0615_155308.png

"ডেসটিনেশন" | Ecency