অনন্য সুন্দর এ পৃথিবীর কতটুকু দেখেছি আমি। দেখলেই বা কতটুকু মুগ্ধতা আহরণ করতে পেরেছি। আমরা প্রায়ই সৌন্দর্য আহরণের জন্যে সাত সাগর তের নদী পাড়ি দিয়ে সমুদ্র জলে পা ভিজায় কিংবা আকাশ চুম্বিপাহাড়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি।আমরা কাব্য করি বিভিন্ন চিরন্তন বানী নিয়ে।যেমন, প্রকৃতি মনকে শান্ত করে, মনের বিকাশের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা অপরিহার্য আরও কত কি।কিন্তু আমাদের হাতের নাগালে থাকা প্রকৃতির কতটুকু দেখেছি আমরা!
প্রজাপতি, কে না দেখেছি আমরা?আমাদের ঘরের আশেপাশে, মাঠে ঘাঠে কিংবা পুকুর পাড়ে সর্বত মুক্তভাবে উড়ে বেরায়। আমাদের অবচেতন চোখ তা সর্বদাই দেখতে থাকে।কিন্তু তার রং বেরঙের পাখাগুলো সৃষ্টিকর্তা কতোটা সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তার কতটুকু অনুভব করতে পারি আমরা।প্রজাপতির পাখাগুলো রংধনুর সাত রংকেও হার মানায়। রং এর বৈচিত্র্য খোঁজার জন্য এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি না।
ফুলের নাম নিলেই ওঠে আসে গোলাপ, রজনীগন্ধা,গন্ধরাজ কিংবা জবার মত স্বযত্নে বেরে উঠা ফুলের নাম। কিন্তু আপনার ঘরের পিছনে জঙ্গলে, বাঁশঝাড় কিংবা রাস্তার ধারে অযত্মে বেরে উঠা কাঠ ফুল গাছের সাদা ধবধবে গন্ধ হীন সে ফুলের সৌন্দর্য দেখেছেন কখনো! কি শুভ্রতা ছড়িয়ে যাচ্ছে অকপটে! যেন অহিংসার এক মূর্ত প্রতিক।
আমরা লক্ষ টাকা খরচ করে সমুদ্র জলে স্নান করতে যায়। কিন্তু জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদে অতিষ্ট হয়ে আষাঢ়ের অঝোর ধারা কান্নায় মাঠঘাট যখন জলে থৈথৈ তখন কলাগাছের ভেলায় গা ভাসিয়ে জলে পা ডুবিয়ে মৃদু হাওয়ায় ভেসে বেরিয়েছেন কখনো!এক আষাঢ়ে কুড়িয়ে নিতে পারেন সারা বছরের মন সতেজের রসদ।ধনী ব্যক্তিরা কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রমোদ তরী তৈরি করে কৃত্রিম আনন্দ সৃষ্টি করে,
এতে আনন্দ মিলে স্বর্গীয় তৃপ্তি মিলে না।
আমন ধান আর বুরো ধানের মৌসুম এর মাঝে লম্বা একটা সময় জমি গুলো খালি থাকে। শুষ্ক উর্বর জমি গুলো তখন বিভিন্ন ঘাসে ভরে উঠে। লতানো দূর্বা জাতীয় ঘাস।আর সেই ঘাসে ফুটে উঠে শত শত রং বেরঙের ফুল। সাদা, কালো,লাল,সবুজ, হলুদ,গোলাপি, বেগুনি কোন রং নেই?আমরা চলতে গিয়ে প্রতি মূহুর্তে পিষে দেই এই ফুলগুলো, সৌন্দর্য উপভোগ সে অনেক পরের বিষয়। যদি চোখ মেলে এর সৌন্দর্য আহরণের চেষ্টা করতাম তাহলে বুঝতে পারতাম কি মুহমায়ায় জড়ানো এই ফুল গুলো।
ছোট্ট এ জীবন অতি আনন্দে কাটিয়ে দেওয়া যায়।পাখির ডাকের কথা আসলেই আমাদের অপেক্ষা বসন্তের কোকিলের জন্য।আচ্ছা আপনি কখনো দোয়েলের শীস শুনেছেন কিংবা পায়রার বাকবাকুম কিংবা কুটুম পাখির কুটুমদের ডাকা শুনেননি! তাহলে আর কিভাবে বুঝবেন বাধ্য যন্ত্রের সুর হয়তো সৃষ্টি হয়েছে এসব সুর থেকেই।
সৃষ্টি কর্তা তার এ জগৎটাকে এত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন যে এর সৌন্দর্য খুঁজার জন্য সাগরে, পাহাড়ে কিংবা হাজার মাইল ভ্রমণের দরকার হয় না। এর জন্য প্রয়োজন দুটো চোখের সাথে সুন্দর একটা মন।
আমি বলছি না যে ভ্রমন করার প্রয়োজন নেই।আমি বলছি আমরা যদি সৌন্দর্য আহরণ করতেই না পারি তা অন্বেষণে তেমন কোন ফল নেই।