ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে বছরের অপেক্ষা শেষে সকলের হাসি।এগুলো ছোট থেকে শোনা কয়েকটা চিরন্তন সত্য কথা।
ঈদ মানে স্বর্গীয় আনন্দ তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ঈদ আসে ধনী, গরীব, ছোট, বড় সকলের জন্য। কিন্তু আপনি যদি ভাবতে বসেন কোন বয়সে কেমন ছিল আপনার ঈদের অনুভূতি? আপনি বুঝতে পারবেন শিশু কালের অনুভূতিই ছিল শ্রেষ্ঠ। আজ বৃষ্টি ভেজা ঈদের দিনে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। তাই নতুন জামা পড়ে মায়ের হাতের পিঠা পায়েস খাচ্ছি আর ভাবছি কেমন ছিল আমার ছোট বেলার ঈদ।
কোরবানি ঈদের পরের দিন থেকে শুরু হতো পরের বছরের রোজা ঈদের অপেক্ষা। আমাদের এলাকায় ঈদুল ফিতর কে রোজা ঈদ বলা হয়।এর পর যেদিন রমজানের চাঁদ দেখতাম সেদিন থেকে শুরু হত ঈদ আনন্দ। আমাদের এলাকায় রমজান মাসটায় যায় উৎসবের মধ্যে দিয়ে। তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি অন্যতম।নিজে পিঠা তৈরি করতে না পারলেও আম্মা আর আপাদের পিঠা বানানো দেখে আর তাদের কে সাহায্য করে আমার সময় কেটে যেত।
চাঁদ রাতে চাঁদ দেখার পর প্রথম কাজ বিটিভিতে রমজানের "ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ" গানটা শুনা আর উচ্চস্বরে গাওয়া।সুর কোন বিষয় না তা যেমনি হোক। এরপর মেহেদী লাগানো। টিউব মেহেদী না। গাছ থেকে মেহেদী পাতা উঠিয়ে পাটায় বেটে সে মেহেদী দেওয়া। কার মেহেদীর রং কত বেশি গাঢ় হবে তার প্রতিযোগিতা। চাঁদ রাত শেষ হতে চাইত না।বার বার ঘুম ভেঙে যেত।ফজরের আযান দেওয়ার সাথে সাথে উঠে যেতাম। গাঁ কাঁপানো শীতেও ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে নতুন জামা পরতাম।আমাদের বাড়ির সামনে থেকে তিনটা রাস্তা দেখা যায় যা তিন দিক থেকে এসে ঈদগা মাঠের সাথে মিলিত হয়ছে।
ঈদের দিনে সকালে মুসল্লিরা যখন তিনটি রাস্তা দিয়ে দিয়ে নামাজের জন্য যায় এ যেন এক স্বর্গীয় দৃশ্য। তখন ভাবতাম ঈদ বছরে একদিন হয় কেন।প্রতিদিন ঈদ হলে কি হয়।কে বলেছে একদিনই ঈদ হতে হবে।এমন হাজারো প্রশ্নে জর্জরিত হত মন। কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেস করা হতোনা কখনো। এরপর ঈদগাহে যেতাম সেখানে প্রধান আকর্ষন ছিল মেলা। মেলা থেকে পিস্তল, মাটির তৈরি হাতি ঘোড়া বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনতাম।খাবারের মধ্যে প্রধান ছিল ডাল দিয়ে বানানো একধরনের ভাজাপোড়া। যাকে আমাদের এলাকায় বলে ডাইলবরি।
মেলা থেকে বাড়ি আসার পর আমার ভিষণ কষ্ট হতো। মনেহত এবার ঈদ শেষ হয়ে যাবে। তখন বড়দের উপর রাগ হত ভাবতাম বৈশাখী মেলা যদি তিন দিন থাকতে পারে তাহলে ঈদ কেন একদিনে শেষ হতে হবে।এর পরের সময়টা হয় খেলা করতাম নয় মামার বাড়ি যেতাম। এরপর আবার অপেক্ষা কোরবানি ঈদের জন্য। ছোট বেলা ঈদের থেকে ঈদের অপেক্ষা ছিল বেশি আনন্দের।
আজকের ঈদটা কেটে গেলো বৃষ্টির রোমঝোম শব্দে। তেমন কিছু করার সুযোগ হয়নি।কখন বিদ্যুৎ গতিতে ছুটবে সময় চলে আসবে কোরবানি ঈদ বুঝতে ও পারবনা। বেঁচে থাকলে গরু কাটতে কাটতেই হয়ত শেষ হবে সে ঈদ।ডিজিটাল এ যুগে ঈদ মানে ফেইসবুকে ঈদ মোবারক স্টেটাস আর সারাদিনের ছবি আপলোড।
যাইহোক ঈদ মোবারক সকলকে।