গতবার যখন আমাদের ছাগলটা একটা বাচ্চা জন্ম দিলো,ভাবলাম বাচ্চাটাকে নিয়ে একটা লিখা লেখি,সাথে কিছু ছবি তুলে রাখি।কালো একটা খাসি জন্ম দিয়েছিল,নাদুসনুদুস বড়।স্বাভাবিকভাবে ছাগল একবার একসাথে দুইটা-তিনটা বাচ্চা জন্ম দেয়। কিন্তু ঐবার মাত্র একটা বাচ্চা জন্ম দেওয়ায় পুষ্টি পেয়েছে বেশি,তাই বাচ্চাটা জন্মের পর থেকে আকৃতিতে বড় হয়।ভাবলাম আরেকটু বড় হোক তখন ছবি তুলবো এখনতো ছোটো দেখতে ভালো লাগবে না।কিন্তু আমার সে আশায় গুড়েবালি!
কয়েকদিন পর বাচ্চাটা মারা যায়।সকাল থেকে খাওয়া-দাওয়া করছিলো না,চুপচাপ এক জায়গায় বসে ছিলো।বাজারে গিয়ে পশু ডাক্তারকে এই কথা বলায় ওনি বললেন হজমে সমস্যার কারণে এমন হয়েছে,তাই ওনি একটা স্যালাইন দিলেন, খাওয়াতে বললেন।রাতে সেই স্যালাইন খাওয়ানোর পর বাচ্চাটা আরো দুর্বল হয়ে গেলো,সকালবেলা মারা গেলো।আসলে বাচ্চাটার হজমের সমস্যা হয়নি,বরং জ্বর এসেছিল,জ্বরের মধ্যে স্যালাইন খাওয়ানোর কারণে আরো বেশি অসুস্থ হয়,শেষ পর্যন্ত ভুল চিকিৎসার কারণে মারা যায়।
পোষা পশু-পাখি মারা যাওয়ার কষ্ট ঘরের একজন সদস্য মারা যাওয়ার কষ্টের প্রায় সমান।
যাইহোক,এইবার ছাগলটা আবার বাচ্চা জন্ম দিয়েছে তিন দিন হলো।দেরি না করে কতগুলো ছবি তুলে নিলাম।পূর্বের মারা যাওয়া খাসিটার কোনো স্মৃতি নেই বলে বেশি কষ্ট লেগেছিল।
এবার দুইটা বাচ্চা একসাথে জন্ম দিয়েছে ছাগলটা।একটা ছেলে ছাগল আরেকটা মেয়ে ছাগল।খাসিটা কালো কালার আর বকরিটা কালো আর সাদার মিশ্রণ।মেয়ে ছাগলটা আকৃতিতে একটু বড় আর খাসিটা আকৃতিতে ছোট, পেটে থাকাকালীন হয়তো পুষ্টি কম পেয়েছে।
তিনদিন আগে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়,যদিও বৈশাখ মাস এখনও আসে নি।ঝড়ের সময় হঠাৎ ছাগলের ঘর থেকে বাচ্চার আওয়াজ শুনা যায়,আম্মা তাড়াতাড়ি ঝড়ের মধ্যে দিয়ে চাবি নিয়ে গিয়ে ঘর খুলে দেখে একটা বাচ্চা মাটিতে পড়ে আছে,আরেকটু অপেক্ষা করার পর আরেকটার জন্ম হয়।আকৃতিতে ছোট খাসিটা আগে হয়,আর তারপর বড়টার জন্ম হয়।
গতবারের বাচ্চাটা মারা যাওয়াই এবারের বাচ্চা দুটোকে বাড়তি যত্ন করা হচ্ছে।
বাচ্চা দুটো যাতে বেঁচে থাকে,সুস্থ-সবলভাবে বড় হয়,রোগ বালাই যাতে তাদের না ছুঁই,রোগ বালাই হলে সঠিক চিকিৎসা যাতে দিতে পারি এই কামনা।