কিছু দিন যাবত আমি কত গুলো বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে আছি।সত্যি বলতে, আমি খুব তুচ্ছ বিষয়ে(যে বিষয়টা আমার ভালো লাগবে না)ডিপ্রেসড হয়ে পরি।কারন যেকোনো বিষয় নিয়া আমি খুব ভাবি।একটা ছোট বিষয়কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে সেটাকে বড় করে ফেলি এবং সেটা আমার ঘুম হারাম এর কারণ হয়ে দাড়ায়।তা যাই হোক ,এখন আসল কথায় আসা যাক।আমার বর্তমান মানসিক অশান্তির(চরম অশান্তি) কারণ কি?
আমার কোনো বড় ভাই নাই।ইনফেক্ট কোনো ভাই ই নাই।আমার বাবা নেই।আমি যখন খুব ছোট ,ছোট বলতে আমার যখন ২ মাস বয়স তখন তিনি মারা যান।এই কারনে,মানে পুরুষ মানুষের অভাব এর কারনে,ছোট থেকে আমি কোনো মধ্য বয়সি ছেলে মানুষ দেখলেই তার ভক্ত হয়ে যাই।যাইহোক,এরকম অনেক ছেলে আছে,যারা ছোট থেকে আমাকে খুব আদর করতো।ছেলেবেলায় আমি খুব সুন্দর আর নাদুস নুদুস ছিলাম।যার কারনে তারা আমায় আদর করতো।আর যে ছেলের বাপ নেই,তাকে সবাই আদর করে।তো এমনি একজন ছিলেন আমার এক দূর সম্পর্কের কাকা এজিদ।তিনি আমাকে প্রচন্ড আদর করতেন।এই ধরেন,আমি সবসময় তার কাঁধে চড়ে বসে থাকতাম,তিনি আমাকে সবসময় কাধে নিয়ে ঘুরতেন,কাধে চড়ার আনন্দ যে কি তা বুঝা যাবে না, যদি না চড়ে থাকা হয়।তার একটা দোকান ছিল সেই দোকানে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলতেন,যা মন চাই তা নিয়ে নে।এইসব আরো অনেক আদরের নিদর্শন আছে,সেগুলো বললে রাত শেষ হয়ে যাবে।অতএব সেসব থাক।গত ৭ দিন আগে আমার সে প্রিয় কাকা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছেন মানে হারিয়ে গেছেন।আসলে শেষ বয়সে তার মাথায় একটু সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই বিপত্তি।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও থাকে পাওয়া যাইনি।বাড়িতে গেলে থাকে দেখতে পাওয়ার যে একটা আকাঙ্ক্ষা ছিলো এখন সেটা আর নেই।
ছোট থেকেই আমি আমার প্রিয় মানুষদের কিছু অতিবাংলা শব্দ দ্বারা ডাকি।এই ধর বোনদেরকে দিদি,মেজো,ছোটো,কাকীকে বৌমা,বড় ভাইদেরকে দাদা,আর ভাবীকে বৌদি।যত সমস্যা হয়েছে এই 'বৌদি'কে নিয়ে।আমাদের সমাজের লোকেদের এই ধারনা যে এই শব্দগুলো ধারা শুধু হিন্দুরা ডাকে। আমার এক ফুফাত ভাই এর বৌ,যাকে যথারীতি আমি বৌদি বলে ডাকি।বৌদিকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি,পছন্দ করি, আমাকে আদর করেতো তাই।কিন্তু তার স্বামী এই বৌদি ডাকটা পছন্দ করেনা।এই নিয়ে বৌদির স্বামীর সাথে আমার তর্ক হয়।যার ফলে সে বৌদিকে নিষেধ করছে আমার সাথে কথা বলতে।অনেকদিন যাবৎ ওনার সাথে কথা হয় না।
এটাও আমার মন খারাপের একটা কারণ।
আমাদের পাশের বাসায় থাকত একটা মেয়ে।যাকে আমি নিরু আপু বলে ডাকতাম।হ্যা সেই আপু যাকে আমি প্রথম 'আপু' বলে ডাকি।আগেই বলেছি আমার বোনদের আমি দিদি বলে ডাকি।আজকালকার মানুষ সব মেয়েদের আপু বলে ডাকে।আমার সে অভ্যাস নেই।অপরিচিত বা আপন বাদে অন্য কাউকে আমি আপু বা ভাই বা তুমি বলে ডাকি না।যাইহোক,সেই নীরু আপুর বিয়ে হওয়ার পর সে চলে যাই।চলে যাওয়ার পর আমার খুব খারাপ লেগেছিল।সবসময় ভাবতাম তার সাথে যদি আমার দেখা হত।কিন্তু কখনও ফোন বা মেসেজ দিতাম না।আমি একটু আদিম কালের মানুষের মতো ।ডিজিটাল যোগাযোগ আমার কাছে ভাল লাগেনা।আমার আসলে এই যোগে আসা উচিত হয়নি।সত্যি বলতে সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই উনিশ শতকের দুনিয়াতে পাঠানোর প্লেন করেছিলেন।কিন্তু কোনো অসুবিধার কারনে তখন পাঠাননি।এই সব আমি স্বপ্নে দেখি।এই জন্যই বোধহয় আমার মধ্যে একটা এনালগের ভাব আছে।সেসব থাক।তো ১১-১২ দিন আগে ফার্মগেট গিয়েছিলাম ,ওভারব্রিজ থেকে নামার পথে সেই নীরু আপুর সাথে দেখা।দেখে আমার চোখে জল এসে গেল.........তারপর অনেক কথা হল।সেসব থাক।এখন আসল কথা হল থাকে দেখার পর থেকে আমার খুশি থাকার কথা।কিন্তু আমি কষ্টে আছি।কারন সে দেখা দিয়ে আমার পুরনো ক্ষত যেটা প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছিল যেটা হয়েছিল তার চলে যাওয়ার সময় সেটা নতুন করে তুললেন।
এতক্ষণ শুধু শুধু বকবক করলাম।কিভাবে করলাম জানিনা।মানুষ কষ্টের সময় কম কথা বলে,আর আমি বেশি বলি।যাইহোক সংক্ষেপে বলি।
আমার গ্রামের বাড়ির একটা মেয়েকে আমি ভালবাসি।নাম অন্তু।বয়স বেশি না ১৬-১৭ হবে।ক্লাস টেন এ পড়ত।বেশিদিন না অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার পর থেকে আমাদের সম্পর্ক।পরীক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে যাবার পর সেখানে আমি থাকে প্রথম দেখি।কী আশ্চর্য গ্রামের মেয়ে যে গ্রামে আমি দুই মাস অন্তর অন্তর যাই,কিন্তু আগে তাকে কখনও দেখিনি........ভালবাসার কথা থাক।দুঃখের কথা বলতে বসেছি সেটাই বলি।আজ থেকে ৫ দিন আগে বুধবার বিকাল ৫ টাই আমার কাছে একটা ফোন আসে।ফোন করেছে আমার গ্রামের এক ভাই।সে যা বললো তাতে আমার হাত কেঁপে ফোন ফ্লোরে পরে গিয়ে স্ক্রেচ ভেঙ্গে ব্যাটারি বের হয়ে গেল।কথা হচ্ছে অন্তু আর নেই।অন্তু ঐদিন পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল সেই পুকুর যেই পুকুর পাড়ে বসে আমরা কত গল্প করেছি,আমি বরশী হাতে মাছ ধরতাম আর ও পাশে বসে থাকত।
যেদিন সে ডুবে যায় সেদিন তার সাথে ছোট বাচ্চারাও ছিল।তাদের ভাষ্য মতে অন্তু তাদের সাথেই গোসল করতে নেমেছিল।একবার ডুব দেওয়ার পর আর উঠেনি।বাচ্চাগুলো ভয়ে বাড়িতে এসে তত্ক্ষনাত কিছু বলেনি,যদি তাড়াতাড়ি গিয়ে বলত তবে আমার অন্তু আজ বেঁচে থাকত।মনে হয় অন্তু ডুব দেওয়ার পর পাড়ের দিকে যেখানে অনেক গাছের মূল ছিল সেখানে এসে পড়েছিল, যার ফলে মনে হয় তার মাথা মূলের ফাঁকে ঢুকে পরে এবং সে আর মাথা বের করতে পারেনি।শেষবারের মতোও তাকে দেখতে পেলাম না পরীক্ষার জন্য।কি আর করার নিয়তির বিধান কে খন্ডায়।
এত দুঃখের পর পরীক্ষা ভাল কি করে হয়?মনে হয় অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় পাশ করা আর হবে না।এই কয়েকবছরে শুধু পড়ালেখার পেছনে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে,অনেক শ্রম দিয়েছি।এর প্রতিদান যদি পরীক্ষায় অকৃতকার্যতা হয়...