বর্ষাকাল মাছ ধরার মৌসুম।কিন্তু এখন "চৈত্র" মাস।খাল-বিল,নদী-নালা,জলাশয় সব শুকিয়ে গিয়েছে।বর্ষাকালে যেমন সব জায়গায় পানি থাকে এবং মাছও পাওয়া যায়,এখন তেমন না হলেও নিজস্ব পুকুরেতো সারাবছরই মাছ থাকে।বর্ষাকালে মাছ ধরা কঠিন তখন পানি বেশি থাকে,আর এখন তুলনামূলকভাবে সহজ কারণ পানি কম।
এমনিতে বরশি দিয়ে মাছ ধরি।কিন্তু আজ পুকুরে নেমে পড়লাম মাছ ধরার জন্য।ছোট মাছ ধরার জন্য আমাদের গ্রামে যে জাল ব্যবহার করা হয়,তাকে বলে "ধর্ম জাল"।" ধর্ম জাল" চার কোণা।" ঠেলা জাল" দিয়েও ছোট মাছ ধরা হয়,এটি তিনকোণা।"ঠেলা জাল " মাটির সাথে মিশিয়ে ঠেলতে হয়,ঠেলার সময় মাছ গিয়ে কোণায় জমা হয়, পরে কিনারে নিয়ে তুলে মাছ সংগ্রহ করতে হয়।আর "ধর্ম জাল" পানিতে ফেলে রাখতে হয়,আর হঠাৎ করে তুলে ফেলতে হয়,তখন যে মাছগুলো জালের উপর ঘুরাঘুরি করছিলো সেগুলো ধরা পড়ে।
আর বড় মাছ ধরার জন্য গোল কোণাকৃতির যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তার নাম আমাদের গ্রামের ভাষায় "ফলো"। এর নিচের দিক চওড়া গোল,আর উপর দিকও গোল কিন্তু সংকীর্ণ।চওড়া অংশ জলের মধ্যে ফেলা হয় যাতে মাটি স্পর্শ করে,যদি মাছ ভিতরে আটকা পড়ে তাহলে উপরের ছিদ্র দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ বের করে আনা হয়।
বড় মাছ তেমন পাইনি।ছোট মাছই সব।পুঁটিই সবচেয়ে বেশি,তারপর রয়েছে কৈ মাছ,শোল মাছ যেটাকে আমাদের এইখানে "লাঠি মাছ" বলে।মলা মাছের সাইজের একধরনের মাছ রয়েছে যেটাকে বলে "দারহিনা মাছ",ঐ মাছও পাওয়া গেছে অনেক।তাছাড়া কয়েকটা শিং,কিছু চিংড়ি আর অন্যান্য কয়েক প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে।
মাছগুলো একদম তাজাতো বটেই,এইসব মাছে নেই কোন রাসায়নিক,প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে উঠেছে।কৃত্রিমভাবে চাষ করা মাছের থেকে এইসব মাছের স্বাদ অনেক বেশি মজা।দেখে যেমন চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে,খেয়েও তৃপ্তি পাওয়া যাবে।