ঘুরতে ইচ্ছে করে আমার পদ্মা নদীর ঘাটে
যেইখানেতে নৌকা চলে মাঝির গানের তালে।
ঘুরতে ইচ্ছে করে আমার সবুজ শ্যামল মাঠে
যেইখানেতে ফসল দুলে রাখালের সুরের মাঝে।
ঘুরতে ইচ্ছে করে আমার গ্রামবাংলার হাঠে
যেইখানেতে কেনাবেচা হয় মধুর বাক্যালাপে।
দেখতে ইচ্ছে করে আমার সোনালি ধানের ক্ষেত
যেই ক্ষেতেতে লুকিয়ে আছে আশা নিরাশার সমেত।
যেতে ইচ্ছে করে আমার ছোট্ট বিলের পাড়ে
যেই বিলেতে সাঁতার কাটে ছেলেরা মজা করে।
পুড়তে ইচ্ছে করে আমার গ্রীষ্মের কাঁঠফাটা রোদে
যেই রোদেতে পুড়ে মরে হিংসা-বিদ্বেষ অকাতরে।
ভিজতে ইচ্ছে করে আমার বর্ষার প্রবল ধারায়
যেই বৃষ্টিতে ধুয়ে মনের সকল দুঃখ হারায়।
যেতে ইচ্ছে করে আমার শরতের কাশবনে
যেই বন সাড়া জাগায় কালো ব্যাথার মনে।
যেতে ইচ্ছে করে আমার হীম শীতের প্রাতে
যেই প্রাতেতে মা বানায় গরম গরম পিঠে।
শুনতে ইচ্ছে করে আমার বসন্ত কোকিলের সুর
যেই সুরেতে জেগে উঠে প্রেমিকের মনের বাসর।
যেতে ইচ্ছে করে আমার হাল্লা দিঘির ঘাটে
যেই দিঘিতে কেলি করে হাসেরা দলে দলে।
যেতে ইচ্ছে করে আমার কৃষক বধুর ঘরে
যেই ঘরেতে মিলেমিশে আছে সবাই সুখে।
শুতে ইচ্ছে করে আমার দুঃখী মায়ের কোলে
যেই কোলেতে খোকন ঘুমায় সকল দুঃখ ভুলে।
যেতে ইচ্ছে করে আমার বাংলা গানের আসরে
যেই আসরে গান হয় মন মাতানো সুরে।
গাইতে ইচ্ছে করে আমার সেই গানের কলি
যেই কলিতে আছে শুধু বাংলা মায়ের ভুলি।
যেতে ইচ্ছে করে আমার মমতাময়ী মায়ের কাছে
যেই মা অপেক্ষা করে সারাটি বছর ধরে
কখন তার খোকা আসবে সব কাজ ফেলে
দেখবে সে তার খোকাকে দুই নয়ন মেলে।
যেতে ইচ্ছে করে আমার কুটনি বুড়ির আলয়ে
যেই বুড়ি বেঁচে আছে শুধু পান্তা-ভাত খেয়ে।
চড়তে ইচ্ছে করে আমার কুঞ্চিত গরুর গাড়ি
যেই গাড়িতে চড়ে নববধু যায় বাপের বাড়ি।
আঁকতে ইচ্ছে করে আমার বাংলা তরুণীর মুখ
যেই মুখ দেখে সবাই মনে পাবে সুখ।
লিখতে ইচ্ছে করে আমার বাংলা মায়ের গল্প
যেই গল্পে দুঃখের কথা থাকবে ওনা অল্প।
ঘুরব,ফিরব,চড়ব আমি শুধু বাংলার তরী
থাকব আমি সেথায় আমার সারা জীবন ধরী।