ইট ভাঙলামঃ বুঝলাম কতো কঠিন

Words
254
Reading
2 min
Listen
Play
6y

রাস্তার চলার পথে প্রায়ই দেখা যায় বড় বড় বিল্ডিং তৈরির জন্য বিল্ডিং এর সামনে ইট ভাঙা হচ্ছে।অনেক জায়গায় পুরুষ আবার অনেক জায়গায় মহিলারাও ইট ভাঙে। এখন অবশ্য ইট ভাঙার মেশিন বের হয়েছে,কিন্তু সব জায়গায় সেই মেশিন পাওয়া যায় না,শহরে থাকলেও গ্রামের দিকে ইট এখনও মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙে।

দেখে মনে হয় ইট ভাঙা কতো সহজ।হাতুড়ি দিয়ে টাসটুস দিচ্ছে আর ইট ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যাচ্ছে।যেগুলো ঢালাই এর কাজে ব্যবহার করা হবে।বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হবে।

IMG_20210123_131825.jpg

কিন্তু আজ নিজে ইট ভেঙে বুঝলাম ইট ভাঙা কত কঠিন কাজ।আমাদের বাথরুম পাকা করার সময় কয়েক ঝুড়ি ইটের টুকরা কম পড়াতে পাশের বাড়ি থেকে এনে কাজে চালানো হয়েছিল।
এখন ইট আনা হয়েছে,তাদের ইটের টুকরা ফেরত দিতে হবে।বাথরুমের কাজ শেষ,তাই শ্রমিক নেই।এই কয়েকটা ইট ভাঙার জন্য শ্রমিক নেওয়াও ঝামেলা।তাই ভাবলাম কয়েকটা ইটইতো আমি নিজেই ভেঙ্গে দিয়ে দেই।

প্রথমে শখের বশে টুসটাস দিচ্ছিলাম জোরে জোরে,ইটগুলোও ভেঙে যাচ্ছিল।কিন্তু একটু পরই আর হাতে জোর পাচ্ছিলাম না।প্রথম দিকে হাতুড়ির এক বাড়িতে ইট টুকরা টুকরা হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু পরের দিকে কয়েকটা বাড়ি দেওয়ার পরও ইট অর্ধেক খন্ড হচ্ছিল না।

একটু পর দেখলাম হাতের মধ্যে "টুসা" পড়ে গেছে।মানে হাতের চামড়া এক জায়গায় ছোট ছোট গুটলি বেঁধে ভিতরে পানি চলে এসেছে।সেই জায়গায় ধরলে পরে ব্যাথা করতে লাগলো।
এখন পর্যন্ত হাত ব্যথা করছে।মনে হচ্ছে হাত অবশ হয়ে গিয়েছে।আর শ্রমিকেরা স্তুপের স্তুপ ইট কেমনে ভাঙে?

এক ঝুড়ি ইট ভেঙে মনে হচ্ছিল,মানুষ এতো পরিশ্রম কেন করে।এগুলো মেশিনের কাজ, মানুষের করা উচিত না।কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম,জীবিকার তাগিদে এর থেকে কতো বেশি পরিশ্রমের কাজ,স্বল্প পারিশ্রমিকে কতোজনে করছে এর হিসাব নেই।দৃষ্টি নন্দন আকাশ ছোঁয়া স্থাপনাগুলো শ্রমিকের অমানবিক পরিশ্রমের ফসল,অথচ তাদের পারিশ্রমিক যথা সামান্য...

ইট ভাঙলামঃ বুঝলাম কতো কঠিন | Ecency