আজকালকার অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রায়ই "কিচ্ছু ভাল্লাগে না" নামক একটা রোগে আক্রান্ত হয়।এটা যখন হয় তখন তাদের কিছুই ভাল্লাগে না।পড়লেখা করতে ভাল্লাগে না,খেতে ভাল্লাগে না,বসতে ভাল্লাগে না,কথা বলতে ভাল্লাগে না,ঘুরতে যেতে ভাল্লাগে না।যা করবে সেটাই ভালো লাগবে না।সবকিছুর প্রতিই অনীহা,সবকিছুই তাদের কাছে বিরক্তিকর।পৃথিবীটাই তাদের কাছে পানশে,রংহীন।অল্পতেই রেগে যাবে,কেউ ভালো কিছু বললেও মনে মনে তাকে গালি দিবে।তাদের মেজাজ থাকে খিটখিটে।কেউ তাদের সাথে মজা তামাশা করতে আসলে তাকে রেগেমেগে কড়া কথা শুনিয়ে দেয়।
কেনো তারা এই কিচ্ছু ভাল্লাগে না সমস্যায় আক্রান্ত হয়?
এই সোশ্যালমিডিয়ার যুগে মানুষ খুব সহজেই সবকিছু হাতের মুঠোয় পেয়ে যাচ্ছে।ভোগ-বিলাসী সব পন্য তাদের সামনে খুব সহজে চলে আসে।সারা পৃথিবীর কে কোথায়, কিভাবে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে তা খুব সহজেই দেখা যায়।দৃষ্টি নন্দন পোশাক,মুখরোচক খাবার,চোখ জোড়ানো গাড়ি-বাড়ি হুটহাট চোখের সামনে চলে আসে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের পর্দায়।এসব যখন কম বয়সী ছেলে মেয়েরা দেখে তখন তাদের মনের মধ্যেও বাসনা জাগে,ইশ্ আমি যদি এটা পেতাম।কিন্তু চাইলেইতো আর পাওয়া যায় না,আর তখনি তাদের কিছুই ভালো না লাগতে শুরু করে।
"ফারিয়া কতো সুন্দর জামা পড়ে ছবি দিলো,আমার এইরকম একটা সুন্দর জামা নাই"
"বুশরারা এই সপ্তাহে সুইজারল্যান্ড ঘুরতে গেছে,আর আমার ফ্যামিলিরতো ঢাকার বাহিরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ারই সামর্থ্য নাই"
"মিশকাত তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে গোলাপ গ্রামে ঘুরতে গেছে,কভার ফটোতে তাদের দুইজনকে কতো সুন্দর লাগছে,আর আমি কি পরিবারে জন্মাইলামরে ঘর থেকে বেরই হতে দেয় না,দূর ছাই কিচ্ছু ভাল্লাগে না"
"আরিফের প্রোফাইল পিকচারটা কি গর্জিয়াসরে ভাই, দামি বাইকটার উপরে বসে আছে,আমার যদি একটা বাইক থাকতো"
"মুন্নার ডিএসএলআর ক্যামেরা হাতে স্টোরিটাই বোধহয় লাভ রিয়েক্টের বন্যা বয়ে গেছে,আমি যে কবে এইরকম একটা ছবি স্টোরি দিতে পারবো"।
এই ধরনের হাজারো বাসনা যা অন্যেরটা দেখে মনের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তা এই ডিজিটাল জেনারেশনের ছেলে মেয়েদের কিচ্ছু ভাল্লাগে না রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।সোশ্যাল মিডিয়ার এতে কি দোষ?এইসব বেপারতো তারা চোখের সামনেই দেখতে পারে বাহিরে বের হলে,তখনওতো তাদের একি অবস্থা হবে।তা ঠিক কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে সারা পৃথিবীর সুখ,ভোগ বিলাস দেখা যায় তা সরাসরি দেখা সম্ভব নয়।
তাছাড়া এই সমস্যা সৃষ্টির আরেকটি কারণ হচ্ছে ছোট পরিবার।ছোট পরিবার থাকার কারণে ছেলে মেয়েরা ছোট থেকে নিজের সমবয়সী কারো সাথে মিশার সুযোগ কম পায়।যার কারণে নিজের মনের মধ্যে লোকানো কথাগুলো প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।বড় পরিবার হলে সারাক্ষণ চিৎকার,চেঁচামেচি হইহট্টগোল লেগে থাকে,তখন এই ফুরসত থাকে না একা বসে বসে ভাববে যে কিচ্ছু ভাল্লাগে না।
কিচ্ছু ভাল্লাগে না বলার আরেকটি প্রধান কারণ হচ্ছে প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা।প্রেম-ভালোবাসাকে কেউ যখন ভালো লাগার,ভালো থাকার একমাত্র কারণ বানিয়ে ফেলে,আর এমতাবস্থায় সে যদি এই সেক্টরে ব্যর্থ হয় তখন তার জগৎ সংসারের কিছুই ভালো লাগে না।
এতোগেলো কেনো "কিচ্ছু ভাল্লাগে না" নামক সমস্যা মনের মধ্যে বাসা বাধে।এর প্রতিকার কি পরবর্তী পর্বে এর প্রতিকার সম্পর্কে কিছু কথা বলবো।
ধন্যবাদ।