গতবছর যখন করোনা মহামারি শুরু হলো,স্কুল-কলেজ সব বন্ধ দিয়ে দিলো।বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা যারা শহরে পড়াশোনা করতো তারা গ্রামের বাড়িতে চলে গেলো।আমিও ঠিক তেমনি গ্রামের বাড়ি চলে আসলাম,প্রথমে ভেবেছিলাম বেশিদিন হয়তো বন্ধ পাবো না শীঘ্রই ফিরে যেতে হবে,কিন্তু করোনার প্রকোপ বাড়াতে সাত দিনের ছুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য হয়ে গেলো।ছোটো থেকে মা আর জন্মভিটা ছেড়ে শহরে থাকি,মাঝে মধ্যে সপ্তাহখানেকের ছুটি পেলে বাড়িতে আসতাম,এই সপ্তাহখানেক বাড়িতে থেকে কখনোই তৃষ্ণা মিটানো যেতো না।সবসময় ভাবতাম আর কয়েকটা দিন যদি থাকতে পারতাম,তাহলে কত আনন্দই না লাগতো!
অতঃপর করোনা সেই সুযোগ করে দিলো।মনের আনন্দে ছুটি কাটাতে লাগলাম।
গতবছরের মাঝামাঝি সময়,পড়ালেখা নেই,কাজকর্ম নেই,তখন ইতিমধ্যে তিন মাস ছুটি কাটিয়ে ফেলেছি।মহামারি চলাতে গ্রামের বাহিরে যাওয়া যেতো না,এক জায়গার মধ্যে থেকে সারাদিনই মোবাইলফোন চাপাচাপি করতে হতো সময় কাটানো জন্য।একদিন আমার বন্ধু সৌরভের(sourovafrin) সাথে ফোনে কথা বলছি,এমন সময় সে বললো,সারাদিনতো বসেই থাকিস কোনো কাজকর্ম নেই,চাইলে লিখালিখি করতে পারিস এক জায়গায়।সৌরভ জানতো এমনিতে টুকটাক লিখালিখির অভ্যাস আছে আমার।সৌরভ আমার স্কুল জীবনের একমাত্র বন্ধু যার সাথে এখনোও যোগাযোগ আছে।আর অন্য কারো সাথে তেমন যোগাযোগ নেই।
আমি আগে থেকেই জানতাম সৌরভ অনলাইনে কোথাও কাজ করে,পোস্ট লিখে সেগুলো আমার সাথে শেয়ার করতো।আগে স্টিম নামের ব্লকচেইনে ছিলো,পরে যা হাইবে পরিণত হয়।হাইব সম্পর্কে এইটুকুই জানতাম।
যাইহোক,ঐদিন সৌরভ আরও বললো যে,ফেইসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করার চেয়ে, হাইবে তুই লিখিস,পোস্ট করিস বা না করিস, হাইবের লিখাগুলো যদি অন্তত পড়িস তাহলে অনেক কিছু শিখতে পারবি।ঐখানে যারা লিখালিখি করে তাদের লেখা পড়লে,নিজে লিখার দক্ষতাও অর্জন হবে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,কোন ভাষায় লিখতে হবে, সে বলেছিলো,Bd Community তে যদি পোস্ট করিস তাহলে ইংরেজিতে লিখতে পারলে ভালো,আর বাংলাতেও লিখা যাবে।
এরপর থেকে আমি অল্পস্বল্প লিখা শুরু করি,আর যারা বিডি কমিউনিটির "সদস্য" প্রথম পর্যায়ের লেখক তাদের লিখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে যায়।নিজে লিখি বা না লিখি বিডি কমিউনিটিকে একটা বই হিসাবে মনে করে রীতিমতো পাঠ করা শুরু করি।
অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা পোস্ট করে,তাদেরকে লেখক বলা না হলেও,হাইবে বিশেষ করে বিডিকমিউনিটির অনেক পোস্টকারীকে লেখক বলা যাবে,শুধু লেখক না তারা উচ্চমানের লেখক।বইমেলায় বই প্রকাশের যোগ্যতাও তাদের আছে।
হাইবের আরেকটা বিষয় আমার নিজস্বভাবে ভালো লেগেছে যে এখানে কোনো দুইনম্বরি চলে না।অন্যের লেখা চুরি যাকে কপি-পেস্ট বলা হয় সেটা এখানে একদম নিষিদ্ধ, আর করলেই ধরা পড়তে হয়।একদম প্রথম দিকে আমি এই বেপারটা তেমন না বুঝার কারণে,একটি পোস্টের কয়েকটা তথ্য আমি এক জায়গা থেকে কপি করে এনে বসিয়ে দিই,কিন্তু পোস্ট করার সাথে সাথেই আমার সেই ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয় এবং আমাকে সাবধান করে দেওয়া হয়।আমি অবাক হয়ে যায়,কয়েকটামাত্র লাইন কপি করেছি এটাও তাদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারেনি।এরপর থেকে আমি আর কখনোও একটা শব্দও কপি করিনি,নিজের মৌলিক লিখাগুলোই পোস্ট করেছি।
আর হাইবের বিডিকমিউনিটির ডিসকর্ড গ্রুপের কনভারসেশনগুলো দেখলে মনে হয়,এটা একটা পরিবার।প্রতি শুক্রবার পরিবারের সবাই একসাথে আড্ডা দেয়।আর সারাসপ্তাহ,সারাদিনই একজন আরেকজনের খবর নিচ্ছেন।কমিউনিটির উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
হাইবের বিডিকমিউনিটির অতিক্ষুদ্র একটি অংশ হতে পেরেছি বলে এবং দীর্ঘ একবছর যাবৎ থাকতে পেরেছি বলে আমি গর্বিত।
ধন্যবাদ।