চাওয়া-পাওয়ার অনুপাত হিসাব করে সুখ পরিমাপ করা হয়।একজন ব্যক্তি যা চায় তা যদি পেয়ে যায় তবে সেই ব্যক্তি নিজেকে সুখী মানুষ বলে দাবি করতে পারে এবং সে বলতে পারে সে সুখে আছে।কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে দেখা যায়,মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ থাকে না।
একটা উদাহরণ দেওয়া যাক,ধরুন যে ব্যক্তির পা নেই সে চাচ্ছে আহা,আমার যদি পা থাকতো,আমি যদি হাটতে পারতাম।যার পা আছে দিব্যি হেটে বেড়ায়,সে চাচ্ছে আমার যদি একটা সাইকেল থাকতো তাহলে কতো সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারতাম।একজন সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে সে দেখলো তাকে অতিক্রম করে ভোঁ ভোঁ করে মোটরসাইকেল চলে গেলো এটা দেখে সে ভাবতে থাকলো আমার যদি একটা মোটর সাইকেল থাকতো,মোটরসাইকেল ওয়ালা ভাবছে আমার যদি একটা প্রাইভেট কার থাকতো।যার প্রাইভেট কার আছে তার আর কিসের অভাব? তার মনের আকাঙ্ক্ষা আমার যদি একটা হেলিকপ্টার থাকতো তাহলে উড়ে বেড়াতে পারতাম।
তাহলে দেখা যাচ্ছে সে একটা জিনিস চাইলো এবং পেয়েও গেলো,আপাত অর্থে কিছু সময়ের জন্য সে সুখ পায়,কিন্তু একটু পরই তার চেয়ে ভালো কিছু সে আশা করতে শুরু করে তখনি তার মনের মধ্যে দুঃখ এসে বাসা বাঁধে।আহারে,এই জিনিসটা আমার কতো দরকার,এটা যদি পেতাম তাহলে কতোইনা ভালো হতো এইসব চিন্তা তাকে আবার দুঃখী করে তুলে।
চাওয়া আর পাওয়ার সাথে যেহেতু সুখের সম্পর্ক,কিছু চাইলে সেটা পেলে সুখ পাওয়া যায়,কিন্তু মানুষের চাওয়ারতো শেষ নেই,আর সব চাওয়া,সব মনের ভাসনাতো পূর্ণ হওয়ার নয় তাই জগতে সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না।
এখন দেখা যাচ্ছে সুখী মানুষ হতে হলে "এটা চাই" "ওটা চাই" চাওয়া নামক মানসিক প্রবৃত্তির গলা টিপে ধরতে হবে।যা নিজের আছে তার মধ্যে সন্তুষ্ট রাখতে হবে মনকে।আমার চেয়ে বেশি আছে এমন মানুষের দিকে নজর দেওয়া যাবে না।বরং আমার চেয়ে কম আছে এমন মানুষকে দেখে অনুভব করতে হবে যে, আমার যা আছে অনেক মানুষের তাও নেই।
কিন্তু এখন কথা হচ্ছে আপনি চাচ্ছেন আপনার মনকে বুঝাতে যে আপনার কিছুই চাওয়ার নেই,সেই চাওয়াটা পূর্ণ হবে কিভাবে,কেনোনা মনতো শুধু চাওয়ার উপর থাকে।অল্পতে সন্তুষ্ট, যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে।নিজের মনের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ না ই থাকতে পারে কিন্তু মনকে বুঝাতে বুঝাতে আর পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা করতে করতে এক সময় ঠিকই মন মেনে যাবে যে তার চাওয়ার আর কিছুই নেয়।আর তখনি হওয়া যাবে সুখী মানুষ।
ধন্যবাদ।