"শীতের কাঁপুনি"
রমজানে সেহরিতে উঠতেই হবে যদিও রোজা রাখতাম না।সেহরিতে উঠে কনকনে শীতে কাঁচুমাচু হয়ে আম্মা আর বোনদের সাথে বসে সেহরি খাওয়া।ছোটবেলা শীত মানেই বুঝতাম রমজান আসছে।মানে ঐসময়টাতে চন্দ্রমাস রমজান,শীতকালে ছিলো।রমজান মানেই ছিলো এক উৎসব তার উপর শীত আরও এক উৎসব।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বাহির বাড়িতে গিয়ে চারপাশে তাকালে কুয়াশার জন্য কিছুই দেখতে পাওয়া যেতো না,আর যত বেশি কুয়াশা হতো তত আমার ভালো লাগতো।
তারপর অল্প যখন রোদ উঠতো তখন রোদের জায়গায় পাটি বিছিয়ে সেখানে নতুন বই নিয়ে পড়তে বসতাম।কারণ জানুয়ারিতে নতুন বই দিতো আর ঐসময়ই শীত থাকতো।
দুপুরে গরম পানি দিয়ে গোসল করে,তারপর রোদে গিয়ে রোদ পোহানো।আম্মা লেপতোশক রোদে দিয়ে রাখতেন খালি ক্ষেতের মাঝে।শীতকালে ধানের ক্ষেত খালি থাকে, কারণ শীতের শুরুতেই ধান কেটে নেওয়া হয়।
বিকাল হতেই শীতের কাপড় পড়ার একটা আনন্দ ছিলো।আর সকাল-সন্ধ্যা আগুন জ্বালিয়ে আগুনের তাপে সবাই মিলে বসে আড্ডা দেওয়া।
আর শীত মানেই রাত হলেই ওয়াজ-মাহফিল।গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো।
ধানের ক্ষেতকে ছেলেরা শীতকালে তাদের খেলার মাঠ বানিয়ে নিতো।কারণ শীতকালে ক্ষেত থাকে শুকনা।গোল্লাছুট থেকে ক্রিকেট সব খেলা।
তারপর ব্যাডমিন্টনতো শীতের খেলা বলেই আমরা জানি।বিকালে ব্যাডমিন্টন খেলতাম।আমি অবশ্য বেশি খেলতাম না,কিন্তু বড়রা যারা খেলতো তাদের খেলা বসে বসে দেখতাম।
শীতে আমার দুইটা রুপ থাকে।একটা রুপ হচ্ছে কোনো শীতের কাপড় পড়ি না,একদম পাতলা একটা টি-শার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াই।আবার যেদিন মনে হবে না শীতের কাপড় পড়তে হবে সেদিন একদম পা থেকে মাথা সব কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে ফেলতাম,হাত-পা মোজা,টুপি সহ মোটা মোটা সুয়েটার।
তারপর ঢাকা চলে আসার পর দেখলাম ঢাকা শহরে শীত বলতে কিছু নেই।রুমের ভিতরে থাকলেতো বুঝাই যায় না শীতকাল চলছে নাকি।
আমি রুমের ভিতর কৃত্রিমভাবে শীত তৈরি করার চেষ্টা করতাম।জানালাসব খুলে দিয়ে,ফ্যান পুরোদমে চালিয়ে দিলে একটু শীত লাগতো,মানে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আরকি।
তবে শীতকালে সবসময় ছুটি থাকে কিছুদিন।এমন কোন শীত নেই যে আমি শীতের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যায়নি,সারাবছর না গেলেও শীতকালে যাবোই।কারণ শীত উপভোগ করা যায় গ্রামে শহরে শীত উপভোগ করার কিছুই নেই।