সুখের সন্ধানে

Words
483
Reading
3 min
Listen
Play
4y

IMG_9420.jpg

জীবন ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়।কখনও সুখ কখনও দুঃখ।কখনও আনন্দ, কখনও বেদনা।সুখ আর আনন্দ কি একি জিনিস?কোনটাকে আমরা সুখ বলি?কোনটাকে বলি আনন্দ?আমি মনে করি সুখ হচ্ছে চাওয়া পাওয়ার পরিমাপক।চাওয়ার সাথে যত প্রাপ্তি যোগ হবে একজনের সুখের পরিমাণ ততো বাড়বে।কিন্তু এর সাথে বাড়বে তার চাহিদা।তাই তার কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাপ্তিতে সুখ স্থায়ী হবে না।সুখ স্থায়ী তখনই হবে যখন তার চাহিদার সাথে সাথে প্রাপ্তি বাড়তে থাকবে।সেটা হতে পারে টাকা-পয়সা,বাড়ি-গাড়ি,গহনা,ক্ষমতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

মনে করেন একজন খুব গরিব।প্রতিদিন পান্তা খায় কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে।হঠাৎ তার রুজি বৃদ্ধি পেলো,এখন সে রুটি,আলু ভাজা খেতে পারে।কিন্তু এখন তার মনে হবে সাথে ডিম ভাজা হলে আরও ভালো হতো।যখন সে ডিম ভাজা খেতে পারবে,তখন মনে হবে রুটির সাথে মাংস হলে বেশ হতো।এভাবে শুধু চাহিদা বাড়তে থাকবে।এভাবে সে যত সুখের পিছে দৌড়াবে চাহিদাও তার পিছে তত দৌড়াবে,যার ফলে সুখী মানুষ হওয়া তার পক্ষে কখনও সম্ভব হবে না।

কিন্তু সে যদি ভাবে আমার যা আছে তাই নিয়েই আমি আনন্দের সাথে বাঁচবো,তাহলে সে খুব সহজেই আনন্দের সাথে বাঁচতে পারবে।কারণ বাস্তবিক অর্থে আনন্দ খুঁজার জন্য টাকা-পয়সার দরকার হয় না বা আনন্দের সাথে চাহিদার কোন সম্পর্ক নেই।একটা ছোট্ট কৌতুক একজনকে যেমন আনন্দ দিতে পারে,একটা ছোট্ট পাওয়াও তাকে তেমন আনন্দ দিতে পারে।অবশ্য যদি সে সেটা থেকে আনন্দ কে নিংড়ে নিতে পারে।

আমার এই ছোট্ট জীবনর কিছু কথা বলি।আমি এর আগেও অনেকবার বলেছি,আমার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন কিন্তু কখনও পরিশ্রমী আর দায়িত্ববান ছিলেন না।আমার জন্ম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে।তাই আম্মাকে খুব কষ্ট করে সংসার চালাতে হতো।তাই খুব ছোট বয়স থেকে আমি সংসারের জন্য কিছু করতে চাইতাম।আর এই ভাবনা থেকেই ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে আমি ছাত্র-ছাত্রী পড়ানো শুরু করি।সেই থেকে শুরু হলো আমার টাকার পিছনে দৌড়ানো।উপার্জন দিন দিন বাড়তে লাগলো,তার সাথে দিন দিন বাড়তে লাগলো চাহিদা।একসময় ঈদে সবার জন্য এক থেকে দেড় হাজার টাকায় কেনাকাটা করতে পারলে,আনন্দে নাচানাচি শুরু করতাম।
এরপর আস্তে আস্তে এমন সময় চলে আসলো,শুধু নিজের জন্য একটা জামা কিনি পাঁচহাজার টাকা দিয়ে তাতেও মন ভরে না।

আর টাকার পিছনে ছুটতে ছুটতে এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে ব্যস্ততার কারণে দিনের সূর্য আর রাতের চাঁদ কতদিন যে দেখিনি তা নিজেও বলতে পারিনি।এর মধ্যে হঠাৎ করে করোনা আসলো।লকডাউনে ইচ্ছা না থাকলেও ঘরে থাকতেই হবে।আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো সবাই মিলে একসাথে ঘরে থাকা,একটা বিশেষ কিছু রান্না করে সবাই মিলে একসাথে খেতে গিয়ে গল্পগুজব হাসি ঠাট্টা এ যেনো এক অন্য রকম জীবন।ঘরে বসে দাবা খেলা,লুডু খেলা ছোট ছোট আনন্দময় মূহুর্ত যেনো জীবনকে স্বার্থক করে তুলেছে।আমি ধীরে ধীরে অনুভব করতে পারলাম কি করেছি আমি!টাকা আমাকে সাময়িক সুখ দেয়,আবার মূহুর্তেই হারিয়ে যায়।কিন্তু এই ছোট ছোট আনন্দগুলো যেনো আমাকে জীবন্ত করে তুলেছে।

আমি অস্বীকার করছি না টাকা জীবনের জন্য অপরিহার্য।আর সুখেরই প্রতিফল আনন্দ।তাই বলে টাকা মানে জীবন নয়।আমার যা আছে তা থেকে ছোট ছোট আনন্দগুলো নিংড়ে নিয়ে বাঁচতে পারলেই সুখে থাকা সম্ভব সবসময়।দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছি সুখে থাকার মূলমন্ত্র।তাই আমার মনে হয়,আমাদের সবার উচিত সুখের পিছনে না ছুটে নিজের যা আছে তার মধ্যে সুখ খুঁজে নেওয়া।তাহলেই আমরা সুখে জীবন কাটাতে পারবো।সুখ সন্ধানের ক্ষেত্রে এটা আমার নিজস্ব মতামত, যে কেউ চাইলে এটার সাথে এক মত নাও হতে পারে,কিন্তু যে কেউ চাইলেই এভাবে সুখে থাকার চেষ্টা করতে পারে।