স্মৃতিধারণ ক্ষমতা

Words
530
Reading
3 min
Listen
Play
4y

কোনো জিনিস বেশি ব্যবহার করলে তার ক্ষয় হবে এটাই স্বাভাবিক।প্রথমে ক্ষয় হবে, তারপর নষ্ট হয়ে যাবে,আর ব্যবহার করা যাবে না।তবে বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের ক্ষেত্রে ঘটে উল্টো ঘটনা।বিদ্যুৎ চালিত যেকোন যন্ত্র যদি ঘরে ফেলে রাখা হয় তাহলে কিছুদিন পর দেখা যায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে।অথচ একি মানের অন্য আরেকটি যন্ত্র যেটাকে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ঠিকই অনেকদিন ভালো থাকে।স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারে জিনিসের ক্ষয় হয়,পুরাতন হয়,নষ্ট হয় কিন্তু বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রের জন্য নিয়মটা একটু আলাদা।এদের ব্যবহার করলে এরা ভালো থাকে আর ব্যবহার না করে ফেলে রাখলেই নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত।তবে আবার এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে,নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সেটা আর কোনদিন নষ্ট হবে না।নষ্টতো একদিন হবেই,কিন্তু স্থায়িত্বের দীর্ঘতা ভিন্ন হবে।

এধরনের আরেকটা উদাহরণ দেওয়া যায়।লোহার তৈরি কোন জিনিসের ক্ষেত্রেও একি ঘটনা ঘটে।যখন তা ব্যবহার করা হয় তখন দেখতে যেমন সুন্দর থাকে এবং কাজেও ঠিকঠাক থাকে।কিন্তু যখন ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয় তখন প্রথমে মরীচিকা ধরে,এই মরীচিকার মাধ্যমে লোহা ক্ষয় হয়ে যেতে থাকে।ক্ষয় হতে হতে এক সময় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়,আর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না।বল প্রয়োগের সাথে সাথেই ভেঙে যায়,অথচ সেটার সমান ক্ষমতা সম্পন্ন লোহার তৈরি আরেকটি যন্ত্র যাকে নিয়মিত ব্যবহার করা হতো,ঐটা ঠিকই পূর্বের মতো শক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

মানুষের মস্তিষ্কও এইসব বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র আর লোহার মতো।এটাকে যত ব্যবহার করা যায় তত সচল থাকে।মস্তিষ্কের নাম শুনলেই আমরা মনে করি এটা স্মৃতিধারণ করার একটি অঙ্গ।যদিও মস্তিষ্কের কাজ শুধু স্মৃতিধারণের সাথে সম্পর্কিত না,শরীরের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজই নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক।আমরা যাই করি না কেনো সবি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক।তবুও যদি আপাতত মস্তিষ্কের একটি কাজ স্মৃতিধারণ নিয়ে পর্যালোচনা করা যায়,তাহলে দেখা যাবে স্মৃতিধারণ করার যে ক্ষমতা মস্তিষ্কের থাকে তা ততই বাড়তে থাকবে যত বেশি তাকে ব্যবহার করা হবে।আবার একিভাবে স্মৃতিধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে যদি তার ব্যবহার না হয়।

একজন ভালো ছাত্র যে কিনা নিয়মিত পড়াশোনা করে, তার কোনো জিনিস মুখস্থ করার ক্ষমতা, আর যে ঠিকমতো পড়ালেখা করে না, তার মুখস্থ করার ক্ষমতার মধ্যে বিরাট ফাঁরাক থাকে।ভালোছাত্রটি দেখা যায় খুব সহজে অল্প সময়ে কোন একটি পড়া মুখস্থ করে ফেলেছে,আর খারাপ ছাত্রটি দীর্ঘ সময় ধরে পড়েও সেটা মুখস্থ করতে পারছে না।এটা দেখে অনেকেই বলবে যে ঐ ভালো ছাত্রটির স্মৃতিধারণ ক্ষমতা খুব ভালো বলেই এতো দ্রুত মুখস্থ করতে পারে।আর বেচারা খারাপ ছাত্রটির মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতাই কম তাই তার মুখস্থ করতে এতো দীর্ঘ সময় লাগে।বেচারার কি দোষ! মস্তিষ্ক যে সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন,তিনি ক্ষমতা একটু কম দিয়েছেন তার করার কিছু নেই।

আসলে কথাটা ভুল ঐ যে যাকে খারাপ ছাত্র বলছি,সে আসলে শিক্ষা জীবনের প্রথম থেকেই পড়ালেখায় ফাঁকি দিয়ে এসেছে,পড়ালেখা করেনি,তাই তার মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণের অংশটুকু তেমন সচল হওয়ার সুযোগ হয়নি আর যার কারণেই সে এখন কোন কিছু মুখস্থ করতে গেলে মস্তিষ্কের সাড়া পেতে বিলম্ব হয়।

ছেলেবেলায় দেখা আলিফ লায়লার আলাদিনের জাদুর চেরাগ অংশটুকুতে একটি দৃশ্য ছিলো এমন,আলাদিন যখন জাদুর প্রদীপটি একটি গুহা থেকে নিতে যাবে তখন এই প্রদীপের পাহারাদার দৈত্য এসে আলাদিনকে তিনটি প্রশ্ন করে যেগুলোর উত্তর দিতে পারলে প্রদীপটি নিতে দিবে।এর মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিলো, এমন কি আছে যা বিলিয়ে দিলে ক্ষয় হয় না বা কমে যায় না বরং বাড়তেই থাকে,বাড়তেই থাকে।আলাদিন তখন উত্তর দিলো শিক্ষা।আসলে শিক্ষা ধারণের স্থানইতো হচ্ছে মস্তিষ্ক।শিক্ষা যত বিলি করা যায়,মানে অন্যকে শিখানো যায় ততই মস্তিষ্ক বেশি কাজ করার সুযোগ পায়,আর যত কাজ করবে তত বেশি তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির একটিই উপায়, যত বেশি পারা যায় থাকে কাজের মধ্যে রাখা,মানে পড়াশোনা করা।যত বেশি পড়াশোনা হবে তত তার স্মৃতিধারণ ক্ষমতা বাড়বে।

cute-brain-cartoon_24640-54404.jpg

স্মৃতিধারণ ক্ষমতা | Ecency