একটি কুুকুর এবং পারিবারিক শিক্ষা

Words
438
Reading
2 min
Listen
Play
6y

কুকুর আর শিয়ালের ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো।বুঝলাম না বেপারটা,কুকুর আর শিয়াল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ডাকছে মনে হচ্ছে। কুকুর-শিয়ালের বন্ধুত্ব হলো কবে থেকে!শব্দ এক জায়গা থেকেই আসছে আর প্রচন্ড জোরে কানে এসে লাগছে।একটানা ডেকেই যাচ্ছে।খুব বিরক্ত লাগছে।বেপারটা কি বুঝার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে উঠান পাড় হয়ে পুকুর পাড়ের দিকে গেলাম।

2312066-bigthumbnail.jpg

সেখানে গিয়ে বুঝলাম,আসলে কোনো কুকুর-শিয়াল এমন ডাকাডাকি করছে না।কিছু উঠতি বয়সের বখাটে ছেলে হুবহু কুকুর-শিয়ালের কন্ঠে এমন ডাকাডাকি করছে।বেপারটাতে তারা খুব আনন্দ পাচ্ছে। কিন্তু এতে যে গ্রামের অন্যসব মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে সেই খেয়াল তাদের নেই।হয়তো তারা মানুষকে বিরক্ত করেই মজা পাচ্ছে।
এরি মধ্যে শুনলাম,পাশের বাড়ির একজন ঘুম থেকে উঠে বাহিরে এসে জোরে চিৎকার করে এই ছেলেগুলোকে গালি দিচ্ছে,এই কুকুরের বাচ্চারা....

post2.jpg

ছেলেগুলো এই অকাজ করে নিজে গালি খাচ্ছে সাথে তাদের নির্দোষ মা-বাবাকেও গালি খাওয়াচ্ছে।অবশ্য তাদের মা-বাবাকে নির্দোষ বলা সমীচীন হবে না।কারণ সন্তানকে ছোটো থেকেই নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।বাল্য বয়সের পারিবারিক শিক্ষা ব্যাক্তির পরবর্তী জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলে।সুতরাং ছেলেগুলোর চারিত্রিক এই অধপতনের দায়ভার তার মা-বাবাকে নিতে হবে।
তবে কিছু সন্তান এমন হয় যারা ছোট থেকেই অবাধ্য।কিন্তু কেউ কি খারাপ হয়ে জন্মায়?না তাতো হওয়ার কথা নয়।তার এই অবাধ্যতার কারণ হয়তো তার পরিবেশ।তার আশপাশের পরিবেশে এমন কোনো উপাদান হয়তো আছে যা তাকে অবাধ্য হতে বাধ্য করেছে।
গ্রামের দিকে বেশিরভাগ ছেলেরা স্কুলে গেলেও সঠিকভাবে পড়াশোনা তারা করে না।স্কুলও তাদের কে পড়াশোনা করতে বাধ্য করে না।ঢিলেঢালাভাবে চলে তাদের পড়াশোনা।যার ফলশ্রুতিতে স্কুলেও নৈতিক শিক্ষা তারা পায় না।এই শিক্ষার অভাবেই তারা এইসব অসামাজিক কাজ করে বেড়ায় মনের আনন্দে।

বখাটে ছেলেগুলোর মধ্যে রাজা রাজা একটা ভাব দেখা যায়।যেইদিকেই তারা যায় সেই জায়গাকে তারা নিজের রাজত্ব মনে করে।অথচ সবাই যে তাকে মনে মনে,প্রকাশ্যে গালি দেয় তারা তা বুঝে না।রক্তের গরমে তারা অকাজ করে।

রক্তের গরমতো সুশিক্ষিত পরিবারের একজন ভদ্র ছেলেরও আছে।কিন্তু তার গরম রক্ত শীতল করে দিয়েছে তার পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা।তবে তার রক্তও গরম হয়।কখন গরম হয়?যখন তার আশপাশে কোনো অন্যায় হতে দেখে,যখন তার দেশমাতার উপর আঘাত আসে।

যেই ছেলে ছোট থাকতে তার মা-বাবাকে ঝগড়া করতে দেখবে,সেই ছেলে বড় হয়ে লাঠি দিয়ে অন্যের মাথা ফাটাবে এটাই স্বাভাবিক।স্কুল থেকে সহপাঠীর কলম লুকিয়ে নিয়ে আসার পরও যার মা তার হাতে বেতের বাড়ি দেয়নি,সে বড় হয়ে অফিসের হাজার-হাজার টাকা নয়-ছয় করবে এটাই স্বাভাবিক।মা যখন পাশের বাড়ির মহিলার সাথে গালিগালাজ করে চিল্লাপাল্লা করে ঝগড়া করে,আর ছোট থেকে যে ছেলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেটা দেখেছে,ঐ ছেলে রাতের বেলা এইভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্যের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য কুকুর-শিয়ালের কন্ঠে ডাকাডাকি করবে এটাই স্বাভাবিক। আর এটাই হয়।

হ্যাঁ কিছুক্ষেত্রে হয়তো খারাপ মা-বাবার সন্তানও ভালো,গুণী মানুষ হয় সেটা অস্বাভাবিক।হাজারে হয়তো একজন এমন হয়।

সঠিক শিক্ষা দিয়ে একটা কুকুরকেও শান্ত-ভদ্র বানিয়ে ফেলা যায়। আর মানুষতো সৃষ্টির সেরা জীব।চাইলেই তাকে সঠিক পথে নিয়ে আসা যায়।
আর তার জন্য দরকার সঠিক পারিবারিক শিক্ষা।
আর হ্যাঁ সেই শিক্ষা জন্মের পর থেকেই দিতে হবে,যেমন দিতে হয় খাদ্য।
ধন্যবাদ

একটি কুুকুর এবং পারিবারিক শিক্ষা | Ecency