মানিয়ে নেওয়ার ইতিকথা

Words
439
Reading
2 min
Listen
Play
4y

সহপাঠীর সাথে নিজের বসবাসরত এলাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বার বার বলে ফেলছিলাম,'আমাদের খিলক্ষেত' এর পাশে বিমানবন্দর,প্রায়সব বাসা থেকে বিমানের রানওয়ে দেখা যায়,'আমাদের খিলক্ষেতে' এটা পাওয়া যায়, ঐটা পাওয়া যায়।সহপাঠী প্রতিবাদ করে বললো,"আমাদের খিলক্ষেত মানে!খিলক্ষেত কি তোর জন্মস্থান নাকি?তুইতো এসেছিস গ্রাম থেকে!"
তখন আমি বললাম,"কি করবো ছোট থেকে বাস করিতো,তাই মুখ ফসকে আমাদের শব্দটা বের হয়ে যায়।"

মানুষ যে এলাকায় দীর্ঘদিন থাকে সেই এলাকাকেই তার আপন বলে মনে করতে থাকে।হ্যাঁ এটা ঠিক,জন্মস্থানের প্রতি আলাদা একটা টান থাকে।তারপরও মানুষ ছোট থেকে যে এলাকায় বেড়ে উঠে সেই এলাকাকেই তার কাছে নিজের এলাকা বলে মনে হয়।

কোন একজন দেশ থেকে প্রবাসে যাওয়ার পর,অনেকদিন সে বিদেশে থাকার পর যখন তার সাথে কোন বিষয়ে কথা বলা হয় তখনও তাদের দেখা যায় এমন বলে,"আমাদের এখানেতো এই জিনিসটা এমন।"অর্থাৎ নিজের জন্মস্থান দেশ এখন অন্যের,আর সে যেখানে বাস করছে সেটাই এখন আপন।

শুধু এলাকার ক্ষেত্রে নয় মানুষের ক্ষেত্রেও এরকম হয়,মানুষ খুব সহজে এক মানুষকে ছেড়ে অন্য মানুষকে আপন করে নেয়।আজ যাকে বলছে 'আমার ওমুক', কাল অন্য জনকে বলবে 'আমার তমুক'।এর কারণ হয়তো মানুষের অভিযোজন ক্ষমতা।নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নামই অভিযোজন।

অবশ্য বিজ্ঞানের ভাষায় অভিযোজন অন্য বিষয়।যে প্রাণী যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশে বাস করার জন্য শারীরিক যেসব বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে সেটাই অভিযোজন।ছোটবেলা বিজ্ঞান বই এ পড়েছিলাম,মাছ শ্বাস নেয় ফুলকার সাহায্যে,তার ফুসফুস নেই।কারণ ফুলকা দিয়ে পানিতে সরাসরি শ্বাস নেওয়া সহজ।আর বায়ু থেকে নিতে হলে ফুসফুস দরকার।আর তাই মানুষ বা ডাঙায় বাস করা প্রাণীর রয়েছে ফুসফুস।আর এটাই হচ্ছে মাছের আর মানুষের অভিযোজন।

তবে আমি যে অভিযোজনের কথা বলছি সেটা ঠিক শারীরিক নয় মানসিক।শারীরিকও হতে পারে তবে সেটা খুব কম।যেমন একজন ব্যক্তি গ্রামে থাকতো এখন সে শহরে এলো,তো শহরের পরিববেশে সে খাপ খাইয়ে নিবে মানসিকভাবে,কারণ শারীরিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার তেমন কিছু নেই।হ্যাঁ,একটা বিষয় আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিষয়ক।গ্রামের আবহাওয়া ঠান্ডা,শীতল,শান্ত আর শহরের আবহাওয়া গরম,অশান্ত হওয়ায় তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অল্প সমস্যা দেখা দিবে,কিন্তু সেটা কয়েকদিনেই ঠিক হয়ে যাবে।তবে পরিবর্তন ঘটবে মানসিকতার।কারণ শহরের সংস্কৃতি আর গ্রামের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এক্ষেত্রে অভিযোজন ক্ষমতার দরকার হয়।একেকজনের অভিযোজন ক্ষমতা একেকরকম।কেউ দেখা যায়,যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে।আবার কেউ দেখা যাচ্ছে যে পরিবেশে,যে সংস্কৃতিতে থেকে এসেছে দীর্ঘদিন, তার বাহিরে গেলেই সে কুপোকাত।আবার কেউ কিছুদিন সংগ্রাম করে তারপর মানিয়ে নিতে পারে।

তবে একদিন না একদিন মানুষ সব মেনে নেয়,কেউ একদিন আগে কেউ একদিন পর।তাইবলে কি আর গ্রামের এক মধ্যবয়সী কৃষিকাজ করা তরুণ যে কিনা ছোট থেকে গ্রামের সংস্কৃতিতে বড় হয়েছে,তাকে পশ্চিমের কোন অত্যাধুনিক শহরের সংস্কৃতিতে মানানো যাবে?
হ্যাঁ এটাও সম্ভব।হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে,কিন্তু একদিন না একদিন সেও পশ্চিমাদের মতো হয়ে যাবে,তাকে আর গ্রামবাসীদের সাথে মেলানো যাবে না,তখন সে গ্রামে গিয়ে বলবে,"আমাদের শহরেতো এতো বড় বড় দালানকোটা কি আর বলবো!"

মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল।নিজের সুবিধা অনুযায়ী নিজেকে গড়ে নিতে পারে।নিজের সুবিধা অনুযায়ী যেকোন জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে,মানিয়ে নেয়তো নেয়ই আবার বলে,"আরে, এতো আমার এলাকা!"

IMG_20220910_013132_052.jpg

মানিয়ে নেওয়ার ইতিকথা | Ecency