ক্লাসের যেই ছেলেটা অংকটা একটু বেশি বুঝে এবং দ্রুত করে ফেলতে পারে স্যাররা তাকে দিয়ে বোর্ডে অংক করায়।তার দাম অন্যদের থেকে বেশি।অন্য ছাত্ররা তার কাছে অংক নিয়ে হাজির হয় বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।এমনিভাবে অন্য বিষয়গুলোতে যে পারদর্শী,অন্যদের থেকে এগিয়ে,সে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।পড়ালেখা শুধু নয়,অন্যান্য এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে যারা ফ্রন্টলাইনার তাদের গুরুত্ব বেশি থাকে ক্লাসে।অর্থাৎ যার বিশেষ কোনো গুণ আছে তার গুরুত্ব আছে।আর যার কোনো বিশেষ গুণ নেয়,আমজনতার মধ্যে তাকে কেউ চিনবে না তাকে কেউ গুরুত্বও দিবে না।
এটা শুধু একটা শ্রেণীকক্ষের জন্য প্রযোজ্য এমন নয়,সমাজে,কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় এই নীতি প্রযোজ্য।লোকের চোখে পড়তে হলে নিজের মধ্যে বিশেষ গুণ সঞ্চারণ করতে হবে।গুণ বলতে শুধু ঈশ্বরপ্রদত্ত এমন কিছু না,এটা পরিশ্রমের মাধ্যমেও অর্জন করা যায়।একজনের গায়ক হওয়ার ইচ্ছা,কিন্তু তার কন্ঠ শ্রুতি মধুর না, সে যদি প্রচুর পরিমাণে রেওয়াজ করে এবং লেগে থাকে তাহলে একদিন সে গায়ক হবেই।হ্যাঁ আরেকজন হয়তো এমন আছে,যার কন্ঠ এমনিতেই শ্রুতিমধুর,হয়তো তাকে বেশি পরিশ্রম করতে হবে না,গায়ক হওয়ার জন্য।কিন্তু তাই বলে যার কন্ঠ শ্রুতিমধুর না সে যে একদম পারবে না এমন কোনো বিষয় না।
সে কথা যাক,নিজের মধ্যে বিশেষ কিছু থাকলে দুই একজন এমন পাওয়া যায়ই যারা একটু গুরুত্ব বেশি দেয়।এই দুই একজনের মধ্যে এমন এক-দুইজন আছে যারা মন থেকে আপনার সেই বিশেষ কিছুকে সম্মান করবে,কোনো প্রকার সাহায্য পাওয়ার আশা ছাড়া।আবার দুই-একজন এমন হবে যারা আপনার সেই বিশেষ কিছুকে গুরুত্ব দিচ্ছে আপনার সেই বিশেষ কিছু তার নিজের মধ্যে অর্জন করার জন্য,আবার দুই-একজন এমনও হবে যারা তোষামোদি করবে সেই বিশেষ কিছুর(তোষামোদীটা যদিও সত্য,মিথ্যা না)।
তবে মোট কথা আপনার মধ্যে যদি বিশেষ কিছু থাকে তাহলে গুরুত্ব বেশি পাওয়া যাবেই।
আপনার যদি ইচ্ছে থাকে সবাই আপনাকে গুরুত্ব দিক,আপনাকে লোকে গনায় ধরুক তাহলে আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না,আপনার মধ্যে বিশেষ কোনো গুণের সঞ্চারণ করতে হবে।যা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে।
ধন্যবাদ।