রাস্তা দিয়ে হাঁটছি,দূরে রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধ ব্যক্তিতে দেখতে পেলাম।রাস্তার পাশে ঘাসের উপর বসে ছিলেন,দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।লাঠির উপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে দাঁড়ালেন,আবার বসে পড়লেন,বুঝা গেলো শক্তি পাচ্ছেন হয়তো।আমি ওনার কাছে যাচ্ছি,আর ওনাকে চিনবার চেষ্টা করছি।কিন্তু চিনতে পারছি না।গ্রামে এর আগে ওনাকে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।বৃদ্ধ মানুষ কোথা থেকে আসলেন,কোনো বাড়িতে বেড়াতে আসলেন নাকি।
এসব ভাবতে ভাবতে ওনার কাছে গেলাম।আমাকে বললেন,বাবা একটু হাতটা ধরে দাঁড় করিয়ে দিতে পারবে কষ্ট করে।আমি ওনার হাত ধরে দাঁড় করিয়ে দিতে দিতে ওনার চেহারাটা কাছ থেকে দেখলাম,আর এবার ওনাকে পরিচিত মনে হচ্ছিল।মনে হচ্ছে ওনাকে চিনি,কিন্তু কোথায় দেখেছি বা কে ওনি এসব কিছুই মনে পড়ছে না।
যাইহোক,ওনাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পর লাঠি ভর দিয়ে হাঁটতে থাকলেন,আর আমারও তাড়া ছিলো তাই চলে গেলাম,কিন্তু ওনাকে চিনার চেষ্টা করতে থাকলাম।
পরের দিন আমি বাড়ির সামনে বসে আছি,এমন সময় দেখলাম লাঠি ভর দিয়ে একটু দূর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ঐ বৃদ্ধ ব্যক্তিটি।আম্মা পাশেই ছিলো,আম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম,ওনি কে,ওনাকেতো আগে দেখিনি।
আম্মা বললেন,ওনি পাশের বাড়ির ফালু মিঞা।বাড়িতে থাকেন না,গতকাল অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছেন।
এটা বলার পরই আমি চিনতে পারলাম তাকে এবং বুঝতে পারলাম কেনো তাকে এতো চিনা চিনা লাগছিলো।
পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় খেলা করার সময়,কোথা থেকে না জানি একটা পলিথিন পেলাম,পলিথিনের ভিতর ক্লিপ দিয়ে আটকানো একটা কাগজ ,কাগজটা খুললাম,খুলার পর দেখি ভিতরে একটা ছবি।ছবিটা দেখে ছোট আমি একদম ঘাবড়ে গেলাম।ছবিটা বর্ণনা করতে পারছি না,অশ্লীল একটা ছবি,ছবিতে এই বৃদ্ধ লোকটা,তখন যুবক,মোটা গোঁফ,সুঠাম দেহ,লম্বা।আরেকটা মেয়ে,তখন লোকটাকে চিনতে পারলাম না,কিন্তু মেয়েটাকে চিনতে পারলাম,পাশের বাড়ির হাজেরা,ছবিটা তুলার সময় তার বয়স পনের-ষোল হবে।
ছবিটা পাওয়ার পর আমি ছবিটা আগুনে পুড়িয়ে ফেললাম,কিন্তু এর কি ঘটনা সেটা জানতে ইচ্ছে হলো।আম্মাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি।তারপর আম্মা কাহিনাটা বললো।
ফালু মিঞা হাজেরার সাথে প্রেম করেন।ফালু যখন বুঝতে পারে তার এই প্রেম হাজেরার পরিবার মেনে নিবে না,তখন সে তার প্রেমিকাকে নিয়ে বাজারের স্টুডিওতে গিয়ে এই ধরনের অশ্লীল ছবি তুলে,যাতে এই ছবিগুলোকে সে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।পরবর্তীতে তাদের প্রেম ভেঙে যায়,আর ফালু অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলে,কিন্তু এই ছবিগুলোকে সে গ্রামে ছড়িয়ে দেয় যার একটা কপি আমিও পেয়েছিলাম অনেকদিন পর।মেয়ে মানুষের এইরকম ছবি প্রকাশ হওয়ার পর ঐ মেয়েকে আর কেউ বিয়ে করতে আসবে না এটা স্বাভাবিক,গ্রামে তাকে চরিত্রহীনা হিসাবে ধরে নেওয়া হলো,তার আর বিয়ে হলো না।
আর ফালু মিঞাও তার বউকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান।আর বাড়িতে আসেন নি।তাই তাকে চিনি না।এখন শেষ বয়সে বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
আজকের এই অসহায় শক্তিহীন ফালু মিঞাকে দেখে আমার মনে হতে লাগলো,এককালে গরম রক্তের প্রভাবে কতো কুকর্মই না করে বেড়িয়েছেন। আজ কোথায় গেলো তার সেই শক্তি?একটা অবুঝ মেয়ের সাথে কুকাজ করে মেয়েটার জীবন নষ্ট করেছেন,এখানে মেয়েটার যে দোষ নেই তা নয়,তারপরও বয়সে যেহেতু মেয়েটা ছোট ছিলো,তাই বুঝতে পারেনি,কিন্তু ফালু মিঞাতো তখন যুবক,সে বুঝেও নিজের জৈবিক চাহিদা চরিতার্থ করার জন্য এমন অশ্লীল কাজ করে।
এসব ভাবছি আর দূরে ফালু মিঞাকে দেখা যাচ্ছে,একটু পর দেখলাম রাস্তার পাশে বসলেন,এই যে বসলেন নিজ থেকে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি এখন তার নেই।