কিরে বন্ধু বাচ্চা কয়টা?
বাচ্চা কয়টা মানে,বিয়েই করলাম এক বছর হলো।
না মানে,বাচ্চা নিস নাই এখনো!
অনেকদিন পর দুই বন্ধুর সাক্ষাৎ হয়েছে,কুশল বিনিময়ের পর অন্য কিছু জিজ্ঞেস না করে প্রথমেই জিজ্ঞেস করে,বাচ্চা কয়টা।বিয়ে করেছে মানে বাচ্চা থাকতেই হবে।
আরেকজনের বিয়ে হয়েছে তিন-চার বছর।বাচ্চা হচ্ছে না,স্ত্রীর সমস্যার কারণে।চারপাশের মানুষ জানে যে সমস্যার কারণে বাচ্চা হচ্ছে না,তাও জিজ্ঞেস করবে যে, বাচ্চা নিচ্ছ না কেনো।অনেকদিনতো হলো বিয়ের,বাচ্চা নিয়ে নাও।আত্মীয় স্বজন উঠতে বসতে এক কথা বংশ কি এখানেই থেমে যাবে নাকি,পরিবারের অন্যরা বলে আমরা কি আমাদের বংশের বাতি পাবো না।
বাচ্চা হচ্ছে না এটার জন্য নিজের কষ্ট লাগে,তার উপর মানুষের এইসব কথা আর সহ্য হয় না।
বারবার এইসব কথা শুনতে শুনতে লোকটি তার প্রিয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন বিয়ে করে বংশের বাতির সন্ধানে।
আরেক দম্পতি সংসার গুছিয়ে উঠতে পারছে না তাই বাচ্চা নিচ্ছে না।এতেও মানুষের সমস্যা!বাচ্চা কবে নিবা?পরে দেখবা বাচ্চা হবে না,তখন পরবা বিপদে।যেনো ওদের সংসার নিয়ে,ওদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশপাশের মানুষেরই বেশি চিন্তা, ওরা বাচ্চা নিচ্ছে না বলে মনে হয়,রাতে ঐসব মানুষের ঘুম হয় না।
বাচ্চা নিবে কিনা বা সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করবে কিনা,তাদের বাচ্চার দরকার আছে না নেই এটা তারাই বুঝে,তারাতো আর নাবালক না,এই বিষয়ে তাদের চিন্তা আছে।শুধু শুধু এই সব বিষয়ে প্রশ্ন করে অন্যকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার,অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কি মানে হয়?নিজেরটা নিয়ে নিজের চিন্তা করলেই হয়।তাদেরটা তাদেরকে বুঝে নিতে দেওয়া উচিত।
সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন তার সৃষ্টিকে কার কাছে কখন দুনিয়াতে পাঠাবেন।তিনি কার কোল ভরিয়ে দিবেন আর কার কোল কতদিন খালি রাখবেন এটা একান্তই তার ইচ্ছা।তিনিই সর্বোচ্চ পরিকল্পনাকারী।এর জন্য মানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো মানে নেই,এটা উচিতও নয়।সন্তানহীন দম্পত্তিকে এই ধরনের নিম্নমানের প্রশ্ন করে,তাদেরকে বিব্রতকরা বা কষ্টের মধ্যে ফেলা একান্তই কাম্য নয়।