"আমার অংক মেলে না কেনো!"

Words
524
Reading
3 min
Listen
Play
4y

হিসাব মেলানো খুব কঠিন বেপার।কি ভাবছেন বলবো,জীবনের হিসাব মিলানো খুব কঠিন! না,সেটা অনেক পরের কথা।আমারতো খুচরা বাজার করে আসার পর সেই হিসাব মেলাতেই দুই-তিন ঘন্টা লেগে যায়,জীবনের হিসাব নিয়ে বসলে মৃত্যুর দূত এসে দরজায় কড়া নাড়বে কিন্তু সেই হিসাব মেলাতে পারবো না।আমি অংকে খুব কাঁচা কিনা।না না, গণিতে কাঁচা ছিলাম না কখনও।ছোট থেকে বেশিরভাগ গণিত পরীক্ষায় একশোতে একশোই পেতাম।গণিত বই এর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব 'সমস্যা' এক নিমিষেই মেলাতে পারতাম।গণিত বই এর পিছনে উত্তর দেওয়া থাকে,গণিত করে সেই উত্তর মিলানো সবার স্বভাব,আমাকে কখনওই সমাধান করে সেই উত্তরের সাথে মিলিয়ে, হতাশ হয়ে ফিরে এসে, আবার ঘষামাজা করা লাগেনি।তাহলে যে বললাম,অংকে কাঁচা!

এই অংক হচ্ছে যোগ বিয়োগের অংক,নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বাজার করতে গেলে যে অংক করতে হয় সেই অংক।অনেকে দেখি একটা দোকানে গিয়ে অনেক জিনিস কিনলো,দোকানদারের সাথে সাথে সে নিজেও সব জিনিসের দাম হিসাব করে বের করে ফেলেছে।আমার আম্মাকেও দেখি চটজলদি এইসব হিসাব করে ফেলেন ক্যালকুলেটরের গতিতে।
আমি এটা কখনোই পারি না।এই হিসাবগুলো করতে আমার প্রচুর সময় লাগে,কিছুতেই মেলেনা।

ছোটবেলায় একটা বাংলা নাটক দেখেছিলাম।আজ থেকে তের-চৌদ্দ বছর আগে দেখেছিলাম তবে কয়েকটা জিনিস মনে আছে। অভিনেতা মোশারফ করিমের মূল চরিত্রে সফল হিসেবে প্রথম নাটক ছিলো ঐটা।নাটকের নাম 'ক্যারাম'।সেই নাটকে মোশারফ করিম কয়েকটা জিনিস কিছুতেই করতে পারে না,যেমন,মশারি টাঙাতে পারে না,তাই মশারি শরীরে কাঁথার মতো জড়িয়ে শুয়ে থাকে।আবার সে কিছুতেই টাকা গুণতে পারে না,মানে হাতে কয়েকটা নোট দিলে সেটা গুনতে পারে না।তো আমারও এমন হয়, আমি কিছুতেই হিসাব করে টাকা মেলাতে পারি না, যতক্ষণ না কোন যন্ত্রের সাহায্য নিবো।যন্ত্র বলতে ক্যালকুলেটর আরকি।

এই হিসাব নিয়ে এতো সব প্যাঁচাল পারার কারণ হচ্ছে, আজকে এই ধরনের হিসাব না মেলার এক ঘটনা ঘটেছে।
মেডিকেলে যারা পড়ে তাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাত হচ্ছে চাঁদরাত।এমন বলার কারণ হচ্ছে,মেডিকেলে সপ্তাহের প্রতিটা দিনই পরীক্ষা থাকে।আর এটা স্বাভাবিক অন্য স্কুল-কলেজের মতো শ্রেণী পরীক্ষা না।প্রতিটা পরীক্ষায় ফাইনাল পরীক্ষার সমান গুরুত্বপূর্ণ।কারণ এই ছোট পরীক্ষাগুলোর মধ্যে একটাও ফেইল থাকলে ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।এসব কারণে পুরো সপ্তাহ খুব চাপের উপর দিয়ে যেতে হয়,কিন্তু শুক্রবারে তো ক্লাস বন্ধ,পরীক্ষাও বন্ধ।সুতরাং বৃহস্পতিবার রাতটা একটু শান্তিতে কাটানো যায়।তারউপর বিকালবেলা বৃষ্টি হয়েছে।আবহাওয়াও চমৎকার।এমন দিনে ঘরে বসে আকাশ কুমুম চিন্তা করা,কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর চেয়ে শান্তি আর কিছুতে নেই।বাহিরে বের হওয়া অসম্ভব।

কিন্তু বিধিবাম,ঘরে বাজার নেই।বাজার আনতে বাজারে যেতে হবে।শুনে মনটা খারাপ হলো,কিন্তু কি আর করার, মনের চেয়ে পেটের গুরুত্বপূর্ণ বেশি।সুতরাং,আরামকে কাঁচকলা দেখিয়ে বাজার করতে চললাম।সাথে নিলাম ৫০৭০ টাকা।বাজার থেকে মাছ,মুরগি,শাক-সবজি কিনে বাসায় এলাম।এখন হিসাব করার পালা,কতো টাকার বাজার করলাম,কতো টাকা ফেরত এলো!হিসাব করে দেখলাম বাজার করেছি ৫০৭০ টাকার,কিন্তু ফেরত এসেছে ৫০০ টাকা।এখন সমস্যা হচ্ছে, আমি নিয়েই গিয়েছিলাম ৫০৭০ টাকা,কোনো টাকাই ফেরত আসার কথা না,কিন্তু পাঁচশো টাকা আসলো কোথা থেকে।প্রথমে বাজার থেকে আনা জিনিসপত্র দেখে দেখে মুখে মুখে হিসাব করছিলাম।কিছুতেই হিসাব মেলে না।পরে ক্যালকুলেটরের শরণাপন্ন হলাম,তবুও মিললো না।আমি ভাবছিলাম যে, এটা মনে হয় আমার সেই সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে,হিসাব কিছুতেই মিলবে না।কিন্তু না,পরে বেপারটা বুঝতে পারলাম।এক সবজির দোকানদারের কাছ থেকে সবজি কিনলাম ২৯০ টাকার,তাকে আমি দিলাম পাঁচশো টাকার একটা নোট।তিনি আমাকে ফেরত দিবেন ২১০ টাকা।কিন্তু তিনি হয়তো ভেবেছেন ঐটা এক হাজার টাকার নোট,তাই ফেরত দিয়েছেন ৭১০ টাকা।মানে এই সেই পাঁচশো টাকা।

আসলে,হিসাব মেলে না বলতে কিছু নেই।সব হিসাবই মিলবে,শান্তভাবে চিন্তা করে কিছু করলে সব হিসাবই মিলবে,সে বাজারের হিসাবই হোক বা জীবনের হিসাব।তবে কারো হিসাব খুব সহজে দ্রুত মিলে যায়,আর কারো হিসাব মিলতে একটু সময় লাগে এই যা।ধৈর্য ধারণ করতে পারলে সব হিসাবই মিলে।

91wmeu8AtKL._SL1500_.jpg

"আমার অংক মেলে না কেনো!" | Ecency