মিনুর হাসি

Words
446
Reading
2 min
Listen
Play
6y

মানুষ সুখে থাকলে,আনন্দে থাকলে হাসে।কোনো মজার কথা শুনলে হাসে।কোনো সুখস্মৃতি মনে করে হাসে।কিন্তু আমার এক মামাতো বোন,নাম তার মিনু।সে কারণে অকারণে,সময়-অসময়ে হাসে।এই হাসিকে আবার পাগলের হাসি ভেবে ভুল করবেন না।তার কাছে হয়তোবা সব কিছুই সুখের,সবকিছুতেই সে আনন্দ পায় তাই সে হাসে।যেখানে আজকাল মানুষ হাসতে ভুলে যাচ্ছে,হাসিমুখে আর কাউকে কথা বলতে দেখা যায় না,সবাই মুখ ভার করে মেজাজ দেখিয়ে কথা বলে।সেখানে মিনু সব বিষয়েই হাসে।
সেও মানুষ তারও হয়তো রাগ উঠে,কিন্তু দেখি সে রাগের মাঝখানে হেসে দেয়।মনে করেন,আপনার উপর কেউ রেগে গেলো,রেগে গিয়ে আপনাকে হয়তো কিছু কথা শুনিয়ে দিবে,নয়তো মুখ ভার করে থাকবে,আপনার সাথে কিছু দিন কথা বলবে না।তো আপনি কি করবেন?আপনিও হয়তো তার সাথে কিছু দিন কথা বলবেন না।
কিন্তু মিনুর ক্ষেত্রে কি হবে,সে কোনো বিষয়ে হয়তো আপনার প্রতি রেগে গেলো,মেজাজ দেখিয়ে কিছু বলতে যাবে,তখনি সে হেসে দিবে,তার মিষ্টি হাসি দেখে আপনারতো আর খারাপ লাগার কথা না।
কারো সাথে ঝগড়া লাগার সময়ও সে হেসে দিবে,কথা কাটাকাটি হচ্ছে এমন সময় সে হেসে দিবে,তখন যারা খুব ঝগড়া প্রিয় তাদের আফসোস করে বলতে হয়,"দূর মেয়েটা ঝগড়াটাই জল করে দিলো"।আপনি কাউকে কটু কথা শুনাচ্ছেন,তার প্রতিউত্তরে সেও কটু কথা শুনাচ্ছে।তবেইতো ঝগড়া,কথা-কাটাকাটি কড়াভাবে হয়।কিন্তু কটু কথার উত্তরে সে যদি হেসে দেয় তাহলে সেই ঝগড়া সামনে এগোবার সম্ভবনা শুন্যের কোটায় নেমে আসে।
আপনার সামনে সারাক্ষণ এমন হাসোজ্জল কেউ থাকলে আপনার কখনও মন খারাপ হতে পারে না।

PicsArt_09-06-05.26.48.jpg

সে কেনো বেশি হাসে?এটা কি কোনো রোগ?

না এটা কোনো রোগ না,মানুষ হাসে তখনি যখনি সে মজার কোনো বিষয় দেখতে পায় বা শুনতে পায়,সেই অনুভূতি স্নায়ু মস্তিষ্কের সাবকর্টেক্স অঞ্চলে নিয়ে যায়,যা হাসির উদ্রেক ঘটায়।তার মস্তিষ্কের সাবকর্টেক্স অঞ্চল খুব সাধারণ বিষয় গুলোকেও মজার বা আনন্দের বিষয় বলে ধরে নেয় এবং হাসির উদ্রেক ঘটায়।যার ফলে অল্প মজার কিছুতেও সে খুব বেশি আনন্দ পেয়ে হাসে।যে জোকস বলে কিছুতেই অন্যকে হাসাতে পারবেন না।সেই জোকস শুনে সে হো হো করে হাসবে।তাছাড়া হাসলে মানুষের শরীরে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।দশ মিনিট ব্যায়াম করলে হৃদস্পন্দন যে পরিমাণ বাড়ে এক মিনিটের হাসিতে সমপরিমাণ বাড়ে।সেই হিসাবে হাসি মারাত্মক উপকারি।

এমন কেউ পরিবারে থাকলে,যে কি না এইভাবে হাসে,সেই পরিবারে দুঃখ,ঝগড়া বিবাদ,মন খারাপ উদাও হয়ে যাওয়ার কথা।দেখুন,মুখ ভার করে থাকা মানুষকে দেখতে ভালো লাগে না।সেই হিসাবে এমন হাস্যরসাত্মক কেউ সারাক্ষণ সামনে থাকলে আপনার মনও সবসময় ভালো থাকবে,এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু তার পরিবারের অনেকেই তার হাসি নিয়ে বিরক্ত।কারণ অনেক সিরিয়াস বিষয়ে সে হেসে দেয়।মনে করেন,খুব গুরুগম্ভীর কোনো বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে,এর মধ্যে তার হয়তো কোনো বিষয় মজা লেগে গেলো সে হেসে দিবে।পাশের বাড়ির মহিলার ছাগল অটোরিক্সার নিচে পরে মারা গেছে,মহিলা কান্নাকাটি করতেছে,সেটা দেখে সে হো হো করে হাসছে।এটাতে তার পরিবারের লোকেরা কিছুটা বিব্রত।
কিন্তু আমি চিন্তা করি একটু অন্য রকমভাবে।আমার তার হাসিতে বিরক্ত লাগে না।বরং মনে হয়,সবাই যদি তার মতো হাসতো।তাহলে হয়তো দুঃখ বলে কিছু থাকতো না।মন্দ কি, হেসে যদি সুখে থাকা যায়।
হাসতে সবাই চায়,কান্না করতে কি কেউ চায়?
মিনু তুমি হাসতে থাকো....

মিনুর হাসি | Ecency