শোভাশিষ আর তার বউ নতুন বাসা কিভাবে করবে তা নিয়ে আলোচনা করছে।
বউ বলে তিন ইউনিটের বাসা এক ইউনিটে আমরা থাকলে দুই ইউনিট ভাড়া দিয়ে কত টাকা আর আসবে!লোন নিলে শোধ হবে কিভাবে। কষ্ট তো অনেক করেছো আর এক বছরে দুই তালাটা কমপ্লিট করে আসলে ভালো হয়।আমরা আর এক বছর বাড়িতে থাকি।তারপর দুই তলাটা হয়ে গেলে আমরা এক ইউনিটে চলে যাবো। পাঁচ ইউনিট ভাড়া দিয়ে আমাদের ভালো ভাবে চলে যাবে।ঠিক আছে তাই হবে।দুই তলায় তিন ইউনিট হলেও শোভাশিষ বলে এক ইউনিট আলাদা করবে আর দুই ইউনিটের জায়গায় এক ইউনিট করবে নিজেদের জন্য।নিজেদের ইউনিট নিজের মতো করবে তাই টাকার ব্যবস্থা করে একবারে চলে এসেছে।
নিজের মতো করে চারটা বেডরুম, খোলা বারান্দা, প্রত্যেক বেড রুমে এটাস্ট বাথরুম, মর্ডান কিচেন,রাজকীয় ড্রয়িং তৈরি করেছে।জীবনের ত্রিশ বছর প্রবাসের পর দেশে এসে দুই ছেলের মুখে বাবা ডাক শুনে আবেগে আপ্লূত হয় ক্ষনে ক্ষনে। ছেলেদের জেলা সদরে ভর্তি করে দিয়েছে। তাই নতুন বছরের আগেই বাসায় উঠতে হবে।তাই দ্রুত গতিতে কাজ হচ্ছে। বাসার কাজ শেষ হয়ে এসেছে। গৃহ প্রবেশের তারিখ ঠিক করা হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে শোভাশিষের হাসি যেনো ধরেনা।
শোভাশিষ সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই হয়।আমরা একি পাড়ার লোক। জেলা সদরেও আমাদের পাশাপাশি বাসা।তাই প্রায়ই সাক্ষাৎ হয়।বিদেশ থেকে আসার পর কথায় কথায় আমি একদিন বলেছিলাম "আপনার ভাই গুলো আপনাকে ঠকিয়েছে।আপনি করে দেখিয়া দিয়েছেন"।তিনি হেসে হেসে বলেছিলেন "ভাইদের প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই। আগে ভাইদের ভবিষ্যৎ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে নিজের সন্তানদেরও ভবিষ্যৎ করতে পেরেছি তাতেই আমি খুশী। এবার সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে পারলে বাকী জীবনটা ইবাদত বন্দেগী করে শান্তিতে কাটিয়ে দেবো"।এরপর অনেকবার দেখা হয়েছে কিন্তু কুশল বিনিময় ছাড়া তেমন কথা হয়নি।মধ্যে প্রায় একমাস বাড়ির কাজ বন্ধ। ভাবলাম খবর নিবো আর হয়নি। ব্যস্ততার মধ্যে আর সুযোগ হয়নি।
আজ হঠাৎ দেখি আমার সামনে দিয়ে ওনি হেঁটে যাচ্ছেন। আমি পিছন থেকে ডাক দিলাম।পিছনে ফিরে আমাকে সালাম দিলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম মধ্যে দেখলাম বাড়ির কাজ বন্ধ। ডিসেম্বরে উঠবে বলেছিলে ওঠোনি কেনো।
কাজ শেষ করতে পারিনি।
এখন কাজ শেষ, এ মাসে পনেরো তারিখ ওঠবো।ওর সাথে কথা বলতে বলতে ওর বাসায় ঢুকলাম সত্যিই রাজ প্রাসাদ বানিয়েছে।শোভাশিষের মুখটা আজ বিমর্ষ। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম কিছু হয়েছে কি না।
ও বলে, আমার ছেলেদের একটু দেইখো ও পার থেকে ডাক এসেছে সব ছেড়ে যেতে হবে।
আমি কিছু বুঝলাম না।পরে শুনলাম গত সপ্তাহে হঠাৎ ওর ঘার ব্যথা। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখে ক্যান্সারের লাস্ট স্টেইজ।তাই এই রাজ প্রসাদে আর থাকা হবে না।