ছোটোবেলার সেহরি

Words
373
Reading
2 min
Listen
Play
5y

ছোটবেলায় রমজান মাসে শীত থাকতো।বছর ঘুরে শীতকালেই আরবি রমজান মাস পড়তো।কনকনে শীতের রাতে ঘুম থেকে উঠা কষ্টদায়ক।সেহরির সময় উঠতে একটু কষ্ট হতো ঠিকি কিন্তু ছোটবেলায় সেহরি,ইফতারি,রোজ রাখা এসব একধরনের উৎসবের মতো মনে হতো।সেহরি খেতে চাইতাম,আগে থেকে আম্মা আর বোনদের বলে রাখতাম সেহরির সময় ডাক দেওয়ার জন্য।কিন্তু আমাকে তারা ডাক দিতে চাইতো না।কারণ সেহরি যদি খায় তাহলে রোজা রাখতে চাইবো,যেহেতু ছোটো ছিলাম আর স্বাস্থ্যও সব সময় খুব খারাপ থাকতো তাই আম্মা ভাবতো রোজা রাখলে হয়তো আমি মারাই যাবো।তাই রোজা রাখতে দিতো না।আর সেহরি খেতেও দিতে চাইতো না।

সেহরির সময় ডাক না দিলে পরের দিন কান্নাকাটি করতাম খুব।সেহরি না খেয়েই রোজা রাখার চেষ্টা করতাম।কিন্তু শরীরে সায় দিতো না,দুপুরের পর রোজা ভেঙে ফেলতে হতো।আমার বোনরা তখন সান্ত্বনা দিয়ে বলতো,দুপুর পর্যন্ত এক রোজা হয়ে গেছে,দুপুরেই এক ইফতার আর সন্ধ্যায় আরেকবার ইফতার করলে দিনে দুইটা রোজা হবে,মাসে তোর ষাটটা রোজা হবে,তুই আমাদের চেয়ে দ্বিগুণ রোজা রাখতে পারবি।এটা মেনে নিয়ে দিনে দুইটা করে রোজা রাখতাম।

image-412171-1618522064.jpg


আবার মাঝে মধ্যে সেহরির সময় ঘুম ভেঙে যেতে, ঘুম ভেঙে যেয়ে দেখতাম,সবাই সেহরি খাওয়ায় ব্যস্ত।তাদের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেছে,আর শীতকাল থাকায় সেহরির সময়ই আম্মা রান্না করতো,কারণ সন্ধ্যা বেলায় রেঁধে রাখলে,খাবার ঠান্ডা হয়ে যেতো।তো ঘুম থেকে জেগে গেলেও বিছানা ছেড়ে উঠতাম না,অপেক্ষা করতাম আম্মা বা বোনরা কখন ডাক দেয়,নিজের একটা আত্মসম্মান আছে না!আবার মনে মনে ভাবতাম আত্মসম্মান দেখাতে গিয়ে তারপর যদি আবার ডাক না দেয়,তাই একটু নড়াচড়া করে বুঝাতাম যে আমার ঘুম হালকা অবস্থায় আছে,ডাক দিলেই উঠতে পারবো।তখন আম্মা বুঝতে পেরে ডাক দিতেন।

রোজা রাখি বা না রাখি ইফতারের সময় সবার সাথে ইফতার করতে বসতাম।আর সবাই যখন আজানের জন্য অপেক্ষা করছে তখন আমিও অপেক্ষা করতাম যদিও আমি রোজা রাখিনি,তারপরও ঐ সময়টাই কিছু খেতাম না,আজান দেওয়ার পরই সবার সাথে খেতাম।
গ্রামের বাড়ি তাই বেশিরভাগ সময়ই ইফতারে শুধু বুট আর মুড়ির ব্যবস্থা থাকতো,অন্য কিছু মানে ভাজাপোড়া পিঁয়াজু,বেগুনি,আলুর চপ এসব থাকতো না।বুট আর মুড়ি মাখানো হলে আমি শুধু খুঁজে খুঁজে বুট খেতাম,মুড়ি বেশি একটা খেতাম না।তাছাড়া বিভিন্ন মৌসুমি ফল থাকতো ইফতারে,তবে ফল-পাকুড় খেতে ছোটো সময় থেকেই বেশি ভালো লাগতো না,তাই খেতাম না।

রোজা না রেখেও তারবির নামাজ পড়তে যেতাম।পাড়ার অন্য ছেলেরা তারাবির আগে এসে ডাকাডাকি করে নিয় যেতো।সবারই আগে থেকে প্ল্যান করা থাকতো,গ্রামের একটা ছেলেও বাদ থাকবে না তারাবির নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া থেকে,জোর করে হলেও নিয়ে যেতো।

ছোটোবেলায় রোজার মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে পুরো রমজান মাসই একটা উৎসব উৎসব আমেজে কাটতো,আর মহোৎসব ঈদের অপেক্ষায়...

ছোটোবেলার সেহরি | Ecency