আপনারা জানেন হয়তো,পুরুষ বিড়ালকে বলা হয় মার্জার,আর স্ত্রী বিড়ালকে মার্জারী। এটা বলে রাখলাম,কারণ পরবর্তীতে পুরুষ এবং স্ত্রী বিড়াল নিয়ে কথা বলবো।তাই ডাকার সুবিধার্থে নাম দুটি বললাম।
আমাদের একটা মার্জারী আছে।সে কিছুদিন পর পর বাচ্চা দেয়।কিন্তু সেই বাচ্চাগুলো ঠিকে না।ঠিকে না বলতে বেঁচে থাকতে পারে না।কারণ,মার্জার বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে।বাচ্চা হওয়ার পর যেখানেই রাখা হোক না কেনো,কেরামতি করে মার্জার ঠিকি বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে।
হয়তো তার নিজেরি সন্তান, তারপরও মার্জারীর পাশে বাচ্চা সে সহ্য করতে পারে না।মার্জারী, মার্জারকে আগের মতো সময় না দিয়ে বাচ্চাদের কে সময় দেয়, এটা একটা কারণ হতে পারে।এই সময়টাই মার্জার আর মার্জারীর মধ্যে চরম ধন্দ দেখা দেয়।মার্জারী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে মার্জার যাতে বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলতে না পারে।আমরাও বাচ্চাগুলোকে আগলিয়ে রাখতাম।কিন্তু,অল্প একটু ভুল করে বাচ্চাগুলো একা থাকলেই শেষ, মার্জার সাথে সাথে আক্রমণ করে মেরে ফেলে।
এইবার অনেক কষ্ট করে একটা বাচ্চাকে বাঁচানো গেলো।বাচ্চাটা পুরুষ। তো মা তাকে খুব আদর করে।কারণ একবারও তার বাচ্চা বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।এইবার যেহেতু রয়েছে,নিজে না খেয়ে বাচ্চাটাকে খেতে দেয়।সারাদিন পিছনে পিছনে থাকে যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।
কিন্তু বাচ্চা মার্জার টা যখন বড় হতে লাগলো,দেখলাম মা তার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। কারণ মনে হয় বাচ্চাটা মার্জার অর্থাৎ পুরুষ।
যখন দুধ খাওয়া ছেড়ে দিলো,তখনি মা ছেলের মধ্যে বিরাট ঝামেলা শুরু হলো,একটা আরেকটা কে সহ্য করতে পারে না।মার্জারী বাচ্চা মার্জার কে ফেলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো।
বাচ্চাটা যদি মার্জারী হতো তাহলে হয়তো বেপারটা অন্যরকম হতে পারতো।কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের হওয়ার কারণে সহাবস্থান করা সম্ভব নয় বলে মার্জারী তার সন্তানকে নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো।
যেই বাচ্চাকে সে এতো কষ্ট করে বাঁচিয়ে রাখলো,বড় হওয়ার পর সেই বাচ্চার কারণেই থাকে ঘর ছাড়তে হলো।
পশুদের ক্ষেত্রে, এই মা-বাচ্চার সম্পর্ক কিছুটা ভিন্ন।নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা এই সম্পর্কের দায়িত্ব পালন করে।কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক আজীবনের।এটাই হয়তোবা অন্যান্য প্রাণী আর মানুষের মধ্যে পার্থক্য।
ধন্যবাদ