লেভ তলস্তয়ের "সাড়ে তিন হাত জমি" গল্পে পাখোম নামের এক লোভী চাষির কথা বলা হয়।যে কিনা ঘটনাচক্রে এমন এক সুযোগ পায় যে সারাদিনে অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সে যতটুকু জমি দৌড়িয়ে যেতে পারবে সব জমি তার নিজের হয়ে যাবে।এই সুযোগ পেয়ে, সারাদিন সে একটুও বিশ্রাম না নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।জমি পাওয়ার লোভ সে সংবরণ করতে পারেনি।অথচ সে যদি বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে দৌড়াত তাহলে তার মৃত্যু হতো না,জমিও পেয়ে যেতো।
পাখোমের মতো এইরকম দুনিয়াবি সম্পদ লোভী মানুষ বাস্তব জগতেও রয়েছে।হ্যাঁ এটা ঠিক ধন-দৌলত সবাই চায়।কিন্তু কিছু মানুষ আছে অতিরিক্ত লোভী,সম্পদের মোহে পাগল প্রায় তাদের অবস্থা।
আমাদের গ্রামের এইরকম একজনের উদাহরণ দিতে পারি,যে কিনা জমির মোহে এতোটাই আসক্ত যে তার মনে হয় রাতে ঘুম হয় না এইভেবে কিভাবে তার জমিটাকে একটু বড় করা যায়। কেনো বলছি এই কথা?গ্রামের কৃষিজমিগুলো স্বাভাবিকভাবে আইলের মাধ্যমে বিভক্ত থাকে।তো এই ধরনের লোকেরা কি করে,প্রতিবার ফসল রোপণের আগে আইলের নিজের জমির ভিতরের অংশ অল্প করে কেটে অন্যের জমির দিক দিয়ে ভরাট করে দেয়।আইল কাটার মাধ্যমে এক ইঞ্চি পরিমাণ জমিও যদি বাড়াতে পারে তাহলেই তাদের স্বার্থকতা।এই অল্প জমি বাড়িয়ে কি হবে?ঐ যে মনের লোভ।এই অল্প বাড়ছে এতেই তাদের মনে আনন্দ বয়ে যায়।যদি পারতো বেশি বাড়াতো,কিন্তু সেটাতো লোকের চোখে পড়ে যাবে,মাপ এনে ঝামেলা করতে পারে।তাই অল্প অল্প করেই বাড়ায়।অন্যের জমির অংশ নিজের করে নিচ্ছে,এটা যে বেঠিক সেটা তাদের বুঝানো যাবে না।
দেখি সারাদিন সে জমির দিকে তাকিয়ে থাকে।হ্যাঁ এটা ঠিক কৃষি জমির প্রতি মায়া থাকা কৃষকের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে দিনরাত জমির মোহে পড়ে থাকাতো আর স্বাভাবিক না।বাড়িতে গিয়ে তার মন টিকে না,কি জানি জমির কোনো ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে কিনা এই চিন্তায়।তার জমির আশপাশ দিয়ে কোনো মানুষ গেলেও তার সহ্য হয় না,যদি দূর্ঘটনাবশত তার জমির উপরে পড়ে যায়,তাহলে ফসল নষ্ট হবে।আশপাশে কোনো গবাদি পশু গেলেতো আর উপায়ই নেই মেরে ওটাকে তক্তা বানিয়ে ফেলবে।
জমিজমা নিয়ে সে এমন কার্যকলাপ করে যে মনে হয় এসব জমি মৃত্যুর পর সে সাথে নিয়ে যেতে পারবে এটা সে নিশ্চিত জানে।
যাদের চিন্তা-ভাবনা এই ধরনের নিচু স্তরের,যারা শুধু পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং সম্পদকেই জীবন মনে করে,তারাই অন্যের উপর জুলুম করে,অন্যের হকে হাত দেয়,দুর্নীতি করে,চুরি বাটপারি করে সম্পদ আত্মসাৎ করে।কারণ তারা কখনোই এক মূহুর্তের জন্য হলেও মৃত্যুর কথা চিন্তা করে না।যে ব্যক্তি চিন্তা করবে, একদিন আমাকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে,সে কখনোও স্বাভাবিক জীবনধারণের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যতিরেকে বাড়তি কিছু আশা করতে পারে না,অথবা সে নিজের পরিশ্রমে,নিজের কষ্টে যতটুকু অর্জন করে ততটুকুর মধ্যেই সন্তুষ্ট থাকে,অন্যের সম্পদ কেড়ে নেওয়ার চিন্তা তার মধ্যে আসবে না।
ঐসব, জুলুমকারী,লোভী মানুষের নিষ্ঠুর হৃদয়ের মধ্যে মৃত্যুভয়,মৃত্যুর চিন্তা উদ্ভাসিত হোক এই কামনা।
ধন্যবাদ।