ছোট বেলা থেকে আমরা কিছু বাণী বড়দের কাছ থেকে শিখি।অর্থ্যাৎ সব পরিবারের বড়রা চেষ্টা করে ছোটদের ভালো কিছু শিখাতে।যেমন সদা সত্য কথা বলিবে,মিথ্যা বলা মহা পাপ,বড়দের সম্মান করবে ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। তবে শিক্ষার মানে কি বইয়ের কিছু কথা মুখস্থ করা।আমরা হয়তো সেটাই মনে করি।ছোট বাচ্চাটাকে সত্য বলতে বলে, ওর সামনে অনবরত মিথ্যা বলে যায়।আমাদের পার্থিব জীবনের জটিল কথা না বুঝলেও তারা তাদের সাথে বলা কথা গুলো নিশ্চয়ই বুঝে।ওকে একটা কিছু ধরতে দিবো না তাই ওর সামনে কেড়ে নিয়ে বলি, চিলে নিয়ে গেছে। অথচ সে দেখে তার চোখের সামনে অন্য জায়গায় রেখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিন সে আপনার সাথে এমনটা করবে এটাকে আমরা দুষ্টুমি বলে মজা পাই।মিথ্যা সেতো মিথ্যায় তার আবার ধরণ কি।এভাবে পরিবার থেকেই মিথ্যা চর্চা শুরু হয়। আমরা খেয়ালই করিনা।
আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল বাঙালি। বাংলা ছড়া শিশুদের শিখাই বা না শিখাই ইংরেজি রাইম না হইলে দাঁতে খড়ি হয় না।আজকাল যেকোনো ছোট বাচ্চাকে যদি বলি একটা কবিতা বলো 'জনি জনি' নামের একটা রাইম বলে দেবে পঁচানব্বই শতাংশ বাচ্চা।কিন্তু আমার মাথায় আসে না এটা আমরা কেনো বাচ্চাদের শিখাই।জনি জনি,ইয়েস পাপা,ইটিং সুগার, নো পাপা।তার হাতে চিনির বয়াম।সে চিনি খাচ্ছে। অথচ বাবা জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে সে বলছে নো পাপা। মানে কি! এটা এমন হয়নি যে আমরা হাতে ধরে মিথ্যা বলা শিখাচ্ছি?মুখে বলছি সদা সত্যি কথা বলিবে।
আমি মাঝেমধ্যে ইসলামি স্কলারদের বক্তব্য শুনি ওনারা বলেন একটা শিশুর বয়স যখন বিশ দিন তখন সে তার মায়ের মন পড়তে পারে।মায়ের চলাফেরা, আচার-আচরণ তার উপর প্রভাব ফেলে। মায়ের পেটে থেকে সে মায়ের কাছ থেকে শিখে নেয় অনেক কিছু। আর আমরা তার সামনে খারাপ কথা বলি। আবার পরে বলি খারাপ কথা বলতে নেই। বড় হয়ে একটা বাচ্চা তার মা-বাবার কথা শুনে চলবে কিনা তা নাকি নির্ভর করে তার সাথে ছোট থেকে যেমন আচারণ করা হয় তার উপর। তার মানে মা বাবার সাথে সন্তান যেমন আচরণ করে তার সম্পূর্ণ দায়ভার মা বাবার। সন্তান তখনই তার মা-বাবাকে সম্মান করতে পারবে, মা বাবা যখন তার সন্তানকে সম্মান করবে।
তাই পারিবারিক শিক্ষা ধরে রাখা প্রয়োজন তবে তার ধরণ পরিবর্তন করাও প্রয়োজন।পুঁথিগত শিক্ষা বাদ দিয়ে হাতে কলমে শিখাই ভালো মন্দের তফাৎ।এতে কিন্তু আমাদের ও কাজ কমবে আলাদা করে শিখানোর প্রয়োজন হবে না।শিশুরা ধীরে ধীরে ব্যবহারিক শিক্ষার মতো শিখে যাবে।