আমাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটা মুচি বাড়ি আছে।মুচি বাড়ি বলতে ঐ বাড়ির লোকেরা জুতা সেলাই করে।মুচি বাড়ি বলেই আগে তাদের পরিচিতি ছিলো।কিন্তু এখন ঐ বাড়ির পরিচয় মানিক কবিরাজের বাড়ি।কিভাবে মানিক কবিরাজ এলাকার বিখ্যাত কবিরাজ হয়ে উঠলেন সেই গল্পই আজ বলবো।
মানিক কবিরাজ হাড় ভাঙা রোগের চিকিৎসা করেন।হাত-পা ভেঙে গেলে,মচকায়ে গেলে তিনি তার চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করে তুলতে পারেন।দূরদূরান্ত থেকে হাড়ভাঙা রোগী তার কাছে আসে।ঢাকার হাসপাতাল থেকে যেসব রোগী হতাশ হয়ে ফিরে আসে,সেসব রোগীকেও তিনি তার বনালা ঔষধ এর মাধ্যমে ভালো করে তুলতে পারেন।তার কবিরাজিতে কোনো ঝাড় ফুঁকের বেপার নেই।তার চিকিৎসার মাধ্যম হচ্ছে গাছ-গাছালির ধারা তৈরি এক ধরনের পেস্টজাতীয় ঔষধ।যেই ঔষধ ভাঙা হাড়ের মধ্যে লাগিয়ে লেপটিয়ে বেঁধে দেন।কিছুদিন পর সেই ভাঙা হাড় জোড়া লেগে যায়।
তিনি ঐ ঔষধের পেস্টে কোন গাছ বা লতাপাতা ব্যবহার করেন তাতো অবশ্যই গোপনীয়।তিনি ছাড়া কেউ জানেন না।তবে এই পেস্ট তিনি আবিষ্কার করেন নি।তিনি আরেকজনের কাছ থেকে শিখেছেন।শুনা যায় অনেক সাধনা করে থাকে এটা শিখতে হয়েছে।যার কাছ থেকে শিখেছেন তার কোনো সন্তান ছিলো না বলেই হয়ত তার কাছ থেকে এই বিদ্যা তিনি শিখতে পেরেছিলেন।
যে ব্যক্তি এই ঔষধটি আবিষ্কার করেন,তিনি বিয়েসাদী করেন নি।এক জঙ্গলের কাছে একটা কুঁড়ে ঘরে একা একা থাকতেন।তো হলো কি,একদিন রাতে তিনি বাজার থেকে কিছু মাংস কিনে কলাপাতায় মুড়িয়ে নিয়ে আসছিলেন।জঙ্গলের কাছে আসতেই তার প্রাকৃতিক কাজ সাড়ার প্রয়োজন পড়লো।ওনি কি করলেন,মাংসগুলোকে সামনে থাকা লতাপাতায় জড়িয়ে বেঁধে এক জায়গায় রেখে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে গেলেন।কাজ সেড়ে এসে তিনি মাংসের পোটলাটা লতাপাতা জড়ানো অবস্থায়ই বাড়ি নিয়ে গেলেন।বাড়ি নিয়ে মাংসের উপর থেকে লতাপাতা সড়িয়ে তিনি অবাক হয়ে গেলেন।মাংসগুলো অবশ্যই তিনি টুকরা অবস্থায় কিনে এনেছিলেন।কিন্তু তিনি দেখলেন যে মাংসগুলো সব একসাথে জোড়া লেগে গিয়েছে।তখন তিনি জোড়া লাগার কারণ সন্ধান করে বুঝতে পারেন যে হয়তো এই লতাপাতার মধ্যেই কোনো ঔষধি গুণ আছে যা মাংসগুলোকে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছে।বুদ্ধি কাটিয়ে এরপর থেকে তিনি এই লতাপাতা দিয়ে হাড়ভাঙা রোগের চিকিৎসা করা শুরু করলেন।মানুষ যেহেতু সত্যি সত্যি উপকার পায় সেহেতু তার নাম ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো।ওনি অবশ্য বেশি দিন চিকিৎসা করতে পারেন নি মারা যান।মারা যাওয়ার আগে তিনি মানিক সাহেবকে এই বিদ্যা শিখিয়ে জান,অর্থাৎ গাছটা চিনিয়ে যান।তার সাথে মানিক সাহেবের কি সম্পর্ক ছিলো সেটা অবশ্য জানি না।
যাইহোক,আমি ভাবছি যে হয়তো এই লতা গাছটি আমাদের সামনেই কতো না তুচ্ছভাবে পড়ে থাকে।হয়তো আমরা কতো পায়ে মাড়িয়ে চলে যায় ঐ গাছের উপর দিয়ে।কিন্তু মানিক সাহেবের কাছে ঐ গাছ অনেক মূল্যবান,কারণ তিনি তার গুরুত্ব জানেন।এই লতাগাছ দিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করছেন এবং কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছেন।
ঠিক তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও,কারো কাছে সে মূল্যবান তাকে ছাড়া চলবে না এমন একটা অবস্থা,কারো কাছে হয়তো সে মূল্যহীন,তুচ্ছতাচ্ছিল্যের স্বীকার.......