ঐ পাড়ার মন্টু তিন-চার বছর হলো বিদেশ গিয়ে পাকা বাড়ি করে ফেললো,প্রচুর জমিজমা কিনলো, আর ব্যাংকেও টাকা জমিয়েছে অনেক,সাথে তার পরিবারের রাজকীয় হালের চলা দেখে আপনি ভাবছেন বিদেশ মনে হয় টাকার খনি আছে গেলেই মুঠো ভরে দেশে পাঠানো যাবে।না হলে যেই মন্টুর পরিবার খেতে পেতো না কয়েকদিনে তাদের এই রাজকীয় হাল হয়ে গেলো।
না, বিদেশে টাকা রাস্তায় পড়ে থাকে না,মন্টু যে কতো পরিশ্রম করে টাকা ইনকাম করে সেটা কেউ দেখতে পাচ্ছে না বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে খুব সহজেই হয়তো সে টাকা আয় করছে।এখন যদি আপনি এটা ভাবেন যে,বিদেশ যাবো আর মন্টুর মতো প্রচুর টাকা ইনকাম করবো সহজেই,ভেবে আপনি বিদেশ চলে গেলেন,গিয়ে দেখেন যে এ তো প্রচুর কঠিন কাজ, একটা টাকা ইনকাম করতে হলেও পরিশ্রম করতে হয় তখন আপনি খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হয়ে পড়বেন।সেই কাজ আপনার কাছে আরো বেশি কঠিন মনে হবে,কারণ ইতোপূর্বে আপনি যা ভেবেছেন তার সাথে বাস্তবের মিল পাচ্ছেন না।
বিদেশের বেপারটা একটা উদাহরণ দিলাম মাত্র।প্রতিটা কাজের সেক্টরেই একি কথা প্রযোজ্য।সেই সেক্টরের সবচেয়ে সফল ব্যক্তির ধন-দৌলত পাওয়ার সহজলভ্যতা দেখে মনে হয় এই সেক্টর থেকে সফল হওয়া হয়তো খুব সহজ।আপনি সেই সফল ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ডের,অতীতের স্ট্রাগল জানেন না বলে এমনটা মনে হয়।তার আজকের এই অবস্থানে যাওয়ার জন্য তাকে যে কাঁটাযুক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তা জানতে পারলে তার আজকের অর্থ উপার্জনের সহজলভ্যতাকে দুর্বোধ্য মনে হত।
সেই জলপরী আর কাঠুরের গল্পে,এক কাঠুরের স্বর্ণের কুড়াল পাওয়া দেখে একি পদ্ধতিতে আরেক কাঠুরে স্বর্ণের কুড়াল পাওয়ার জন্য সেই স্বর্ণের কুড়াল প্রাপ্ত কাঠুরের পথ অনুসরণ করে ব্যর্থ হয়।অন্যের সফলতা দেখে তার সফলতার পাওয়ার পথ অনুসরণ করা উচিত নয়।বরং নিজে যেই পথে আছেন সেই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।সফল ব্যক্তির সফলতা দেখে আপনি আপনার পথ ছেড়ে তার অনুসরণে তার পথের দিকে ছুটলেন,পরে মাঝপথে গিয়ে বুঝবেন সেটা ছিলো মরিচীকা।মরিচীকা কেনো?ঐ যে আপনি শুধু তার সফলতাটাই দেখেছেন,সফলতার পিছনের সংগ্রাম দেখেননি।
তাই অন্যকে অনুসরণ না করে আপনার পথের কাঁটাগুলো নিজ চেষ্টায় অতিক্রম করলে আপনি আপনার পথের শেষ সীমানায় পৌঁছাতে পারবেন অর্থাৎ সফলতা পাবেন।
ধন্যবাদ