জহির বেপারিকে ফোন করা হলো।বিকেল বেলায় জহির বেপারি দৌড়াতে দৌড়াতে এসে হাজির।
কী বেপার সুন্দরীরা,হঠাৎ এই নগন্য ব্যক্তিকে জরুরি তলব!
"হেয়ালি করার দরকার নাই,আপনাকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াইতে আনি নাই,জরুরি কাজ আছে তার জন্য আপনাকে ডাকছি",আসমা বললো।
"হ্যাঁ, তা আর আমার বুঝতে বাকি নাই,কাজ ছাড়া কি আর তোমরা আমারে ডাকবা,ঐ সৌভাগ্য কি আর আমার আছে"
"এসব কথা বাদ দেন,কাজের কথাই আসি,আপনি নিশ্চয়ই জানেন বাজারের কাছে রাস্তার পাশে আমাদের একটা জমি আছে,সোজা কথায় বলতে আব্বা সেইটা মতিন চাচার কাছে বিক্রি করে দিছিলো,আশার কথা কোনো কাগজ করে নাই,সেই পয়েন্ট ধরে আমরা জমিটা দখল করতে চাইছিলাম,কিন্তু গ্রামের কিছু পন্ডিত লোকদের জন্য পারি নাই,এখন আপনার সাহায্য দরকার,আপনি বুদ্ধি দেন কি করা যায় এখন"
আসমা একটানে কথাগুলো বললো।আফিয়া,আকলিমারাও ছিলো।তাদের মা কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ, ঘরে সারাক্ষণ শুয়ে বসে থাকে,তার মেয়েরা কি সব ষড়যন্ত্র,পরিকল্পনা করছে এসব সম্পর্কে কিছুই জানে না সে।
জহির বেপারি হেসে বললো,"হ্যাঁ বুদ্ধি দেওয়ার জন্যতো আমি আছিই,বুদ্ধি দিবো,তোমরা এতো দামি জমি পেয়ে যাবা,এতে আমার লাভ কি,আমি কি পাবো?"
"আপনার নজর কোন দিকে আমরা জানি,আপনি কি চাচ্ছেন সেটাও জানি,সমস্যা নাই আপনি যা চাচ্ছেন পেয়ে যাবেন,রাতের বেলা চলে আইসেন আমরা চার বোনতো আছিই,অবশ্য ছোটটা এসবের মধ্যে নাই,যাইহোক চলে আইসেন",
আসমা বললো।
জহির বেপারির পরামর্শ নিয়ে আসমারা নতুন পরিকল্পনা করলো।মতিন মিঞা একা মানুষ,বিয়ে-সাদি করেন নাই।তাকে কোনো ভাবে সরানো গেলেই এই জমি তারা দখল করতে পারবে।প্রথমে ভাবা হয়েছিলো মতিন মিঞাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেওয়ার।কিন্তু পরে যখন তারা ভাবলো যে সম্প্রতি যেহেতু মতিন মিঞার সাথে তাদের ঝামেলা হয়েছে,এখন মতিন মিঞার কিছু হলে প্রথম সন্দেহই তাদের উপর পড়বে।এইসব ভেবে মতিন মিঞাকে খুন করার বেপারটা তারা বাদ দিলো।
পরবর্তীতে জহির বেপারি নতুন বুদ্ধি দিলো,যে মতিন মিঞাকে খুন না করে,বরং তাকে খুনের কেইসে ফাঁসিয়ে দিলেই খেল খতম।তাহলে কাকে খুন করা হবে!
মতিন মিঞা ইতস্তত করতে লাগলো,শুনো আসমা তোমরা আমার কাছে জমি আনার জন্য সাহায্য চেয়েছো,আমি বুদ্ধি দিচ্ছি,তোমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবা নাকি সেটা তোমরাই জানো।
-এতো প্যাচানোর দরকার নাই,সরাসরি বলেন।
" কয়েকদিন যাবৎ যাতায়াত করতেছি,চাচী দেখলাম ঘরে পড়ে আছে,অসুস্থ, বয়সতো অনেক হলো,চিকিৎসা করাও নাই"?
আকলিমা বললো,"টাকা কই চিকিৎসা করাবো,যা চিকিৎসা করাইছি তাতে কাম হইতাছে না,রোগ যায় না"
"দেখো এভাবে ঘরে পড়ে কষ্ট করার থেকে মৃত্যু ভালো"
আফিয়া চেঁচিয়ে উঠলো,আপনি কি বলতে চাচ্ছেন।
"যা বললাম,সোজা হিসাব,মতিন মিঞাকে যদি তোমাদের মার খুনের কেইসে ফাঁসাইয়া দেওয়া যায়,তাহলে পুলিশ ওরে ধরে নিয়ে যাবে আর তোমাদের রাস্তা ক্লিয়ার,মতিন মিঞারতো আর কেউ নাই,সুতরাং তখন জমিটা তোমাদের হয়ে যাবে" জহির বেপারি দ্রুত কথাগুলো বললো।
আকলিমা আর আফিয়া রাগে চিল্লাতে লাগলো,আপনার সাহায্যের দরকার নাই,কতো বড় কথা আমাদের মাকে খুন করতে বলে,আপনি চলে যান এখান থেকে।
কিন্তু এসবের মধ্যে আসমা একটা কথাও বললো না,সে চুপচাপ থাকলো।
"আমাকে বুদ্ধি দিতে বলেছো আমি দিয়েছি,এখন তোমরা ভেবে দেখো আর সিদ্ধান্ত আমাকে জানাইও", এই বলে জহির বেপারি চলে গেলো।
চলবে...