কোনো ব্যক্তি যখন নিজের কোন স্বার্থ ছাড়া অন্যের উপকার করে তখন তাকে পরোপকারী বলে।কিন্তু মানুষ সব সময় নিঃস্বার্থ ভাবে পরোপকার করে না।যারা নিঃস্বার্থ ভাবে পরোপকার করে আমি মনে করি তারা বিরল প্রজাতি।তাদের খুঁজে পাওয়া সত্যিই মুশকিল। তাই বলে পরোপকারীর কোনো অভাব নেই। ডিজিটাল এ যোগে ফেইসবুকে চোখ রাখলে পরোপকারী দেখবেন হাজারে হাজারে। কেউ চাল বিলাচ্ছেন তো কেউ ডাল, কেউ আবার বিলিয়ে দিচ্ছেন পটলের সাথে ঝাল।যদিও চাল বিলাচ্ছেন শতেক টাকার,তবে ক্যামেরা একটা সাথে থাকে লাখ টাকার।যাইহোক এসব ব্যপারে আলোচনা বা সমালোচনা আমার লেখার উদ্দেশ্য নয়।
নিজের উদ্দেশ্য সাধনে পরোপকার করা হোক আর নিঃস্বার্থ ভাবে পরোপকার করা হোক তার ফল খুব মিষ্টি। পরোপকার মানুষকে অনেক কিছু দেয়।নাম,যশ,খ্যাতি, সম্মান সবি পাই একজন পরোপকারী মানুষ। কথায় বলে, যে অন্যের জন্য করে, সৃষ্টি কর্তা তার জন্য করে।কথাটা আমি অনেক ছোট থেকে বিশ্বাস করি।
ছোটবেলা থেকে আম্মাকে দেখি সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে এলাকার বাচ্চাদের কোরআন শিখান।বিকেলে আবার বাংলা পড়ান।কিন্তু কোনো পারিশ্রমিক নেন না। আমাদের আশেপাশে অনেক প্রতিবেশি বাস করে।প্রতিদিন দেখতাম অমুক দাদার বউ বাড়িতে নেই তাই আম্মা রান্না করে দিচ্ছেন। অমুকের মা অসুস্থ তাই আম্মা ওনাদের বাড়ির কাজ করে দিচ্ছেন। অমুকের বাবা হাসপাতালে সেখানে রান্না করে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে আব্বা রাগ করে বলতেন তোর মাকে বল সব ছেড়ে সমাজ সেবায় লেগে যাক।
আমরা মাঝে মাঝে বিরক্ত হলেও পরে দেখতাম পাড়া প্রতিবেশীরা আমাদের অন্য রকম সম্মান করে।ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও আমাদের ডেকে নিয়ে যাবে।ছেলেমেয়েদের বিয়ে হলে আম্মাকে শাড়ি দেবে, দাওয়াত দেবে,না গেলে খাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে।আম্মাকে দেখে দেখে আমরা ভাই বোনও এমন হয়েছি কারও বিপদ দেখে ঠিক থাকতে পারি না।নিজের সমস্যা হলেও সেটা সমাধানের চেষ্টা করি।
আমাদের ভাই বোনদের কোন সমস্যা হলে খুব সহজে সমাধান হয়ে যায়।যত অপরিচিত জায়গায় হোক সাহায্য করার মানুষের অভাব হয় না কখনও।অপরিচিত মানুষ এমন আচারণ করে মনে হয় যেনো হাজার বছরের পরিচিত।এগুলো দেখলে আমার মনে হয় আম্মা যেমন অন্য মানুষের জন্য করে আমরা ভাইবোনরা তা ফিরে পাই।
তাই আমার বিশ্বাস এটাই যে,যে ব্যক্তি অন্যের উপকার করে,উপরওয়ালাও অন্য কারো মাধ্যমে তার উপকার করেন।