জীবনের "পর্যায়"

Words
481
Reading
3 min
Listen
Play
5y

home-staircase-steps-vastu-1.jpg

মানুষের জীবন অনেকগুলো ধাপে বিভক্ত।বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধাপগুলো পরিবর্তন হতে থাকে।ধাপগুলোর মর্মার্থ এই যে নিচের ধাপে থেকে উপরের ধাপ সম্পর্কে কোনো ধারণাই করা যায় না।আর এটাতো প্রকৃতির একটি অতি সাধারণ কথা,নিচের পর্যায়ে থেকে উপরের পর্যায় সম্পর্কে ধারণা থাকার কথা নয়,কিন্তু এটা শুধু ধারণা থাকার বেপার নয়।কেউ যদি উপরের পর্যায় সম্পর্কে আপনাকে বলে,অনেক ভালোভাবে বুঝায় তারপরও সেই পর্যায়কে উপলব্ধি করতে পারবেন না,যতদিন না আপনি সেই পর্যায়ে উঠেন।

বিষয়টা একটু গোলমেলে লাগছে তাই না।একটি উদাহরণ দিলেই বুঝা সহজ হবে।মনে করেন,সন্তানের বাবা হওয়া কিংবা মা হওয়া বয়সের একটি পর্যায়ের বিষয়।এর যে অনূভুতি এটা যদি আপনাকে এমন কেউ যে কি না,ইতোমধ্যে এই অনুভূতির অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সে আপনাকে ভালোভাবে বুঝায়,সারাদিন যাবৎ বুঝায় তারপরও আপনি এর বিন্দুমাত্রও অনুভব করতে পারবেন না।আর আপনি যখন সেই পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন,সেই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাবেন তখন আপনাকে বুঝানোর কোনো প্রয়োজন নেই, এমনিতেই আপনি সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন।

ছোট সময় যখন কোনো দায়দায়িত্ব ছিলো না,পড়ালেখা ছিলো না তখন মনে হতো এই খেলাধুলায় মানুষের জীবন।যেই খেলনাগুলো ভালো লাগতো ঐ খেলনা গুলো যদি কিনতে পারা যায় বা ঐ খেলনাগুলো নিজের করে পেলেই বুঝি জীবন সার্থক হয়ে যাবে।ঐ খেলনাটা পেলেই আমি সারাজীবন মনে হয় সুখে থাকতে পারবো।সেই ছোট্ট বালকমন জানতো না,সামনে আরও কতো কিছু দরকার হবে,কতো কিছুই পেতে মন চাইবে জীবন চলার পথে।

একটু বড় হওয়ার পর যখন পড়ালেখার জগতে প্রবেশ করে মানুষ।তখন মনে হয়,ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারার মধ্যেই বুঝি জীবনের সার্থকতা।কোনো সবজেক্টে সবার থেকে বেশি নাম্বার পেলেই বোধহয় সুখের সীমানা থাকবে না জীবনে।তখনকার মন জানতে পারে না,সামনে আরও কতো কিছুই আছে জীবনে।

আরও একটু বড় হলে যখন যৌবনের ছৌঁয়া লাগে তখন জীবনের পরবর্তী ধাপকে বুঝার ক্ষমতা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়।পুরুষের মনে হতে থাকে নারীই হচ্ছে মানবজীবনের একমাত্র সার্থকতা।তাছাড়া জীবনে আর কিছুই নেই।নারীর ক্ষেত্রেও হয়তো এরকমই মনে হয়।একজন ছেলে যখন কোনো মেয়ের প্রেমে পড়ে তখন তার কাছে মনে হয়,এই মেয়েকে পেলে জীবনে আর কোনো কিছুরই দরকার পড়বে না,জীবনের অন্যসব চাহিদা তখন তার পায়ের কাছে মুখ থোবড়ে পড়ে। পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র এমনকি পুরো দুনিয়ার বাকি সবকিছুই তার কাছে অতি নগন্য লাগে তার প্রেয়সীর তুলনায়।

পরবর্তিতে জীবনের দরকার-চাহিদা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ তার মন বলে উঠে,এই মেয়েকে যদি নিজের করে পাই,তাহলে আজীবন আমার আর কিছুরই দরকার পড়বে না,খেয়ে না খেয়েই সুখে থাকতে পারবো পুরো জীবন। এই বয়স এই অভিজ্ঞতা পার করে আসা কেউ যখন তাকে বুঝাতে চেষ্টা করে এটাই জীবনের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া নয়,সামনে আরও অনেক পথ বাকি,পরিবার-সমাজের দায়দায়িত্বের বাস্তবরুপ বিষয়ে যখন তাকে বুঝাতে চেষ্টা করে, তখন সেই সদ্য যৌবনের ধাপে পা দেওয়া যুবকের কাছে এসব বাস্তব কথাকে পাগলের প্রলাপ কিংবা অযথা বকবক বক্তৃতা ছাড়া কিছুই মনে হয় না।এতে ঐ যুবকের কোনো দোষ নেই,কারণ সে জীবনের পরবর্তী পর্যায় সম্পর্কে কিছুই জানে না, যদি অভিজ্ঞ কারোর মাধ্যমে জানতেও পারে, তারপরও সে এই বিষয়টা কখনই বুঝতে পারবে না বা বাস্তবতা বলে উপলব্ধি করতেই পারবে না।

এভাবেই জীবনের প্রতিটি পর্যায় মানুষকে নতুন নতুন বিষয় সরাসরি শিখানোর মাধ্যমে অভিজ্ঞ করে তুলে।এটা কখনওই সম্ভব নয় কেউ জীবনের প্রথম পর্যায়ে থেকেই পড়ালেখার মাধ্যমে বা অন্যের মাধ্যমে জানার মাধ্যমে পরবর্তী জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝতে পারবে,পুরোপুরিতো দূর অল্প পরিমাণও উপলব্ধি করা কঠিন।সঠিক সময়ে সঠিকটা জীবনই শিখিয়ে দেয় মানুষকে।

জীবনের "পর্যায়" | Ecency