আমার মামা বলতেন "রক্ত" কোনোদিন বিশ্বাসঘাতকতা করে না।সত্যিই কি তাই!কিন্তু আমি যে দেখেছি সম্পদের জন্য এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করেছে।ভাইয়ের সম্পত্তির অংশ অসুস্থ বাবাকে দিয়ে জালিয়াতি করে লিখিয়ে নিয়েছে।শুধু কি তাই বড় ভাই এর বউ এর সাথে ছোট ভাই এর পরকীয়া আশেপাশে আমরা মাঝেমধ্যেই দেখি।তাহলে কিভাবে এক কথায় মেনে নেওয়া যায় যে রক্ত কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না!
আবার অনেকে বলেন আপনের থেকে পর ভালো পর থেকে জঙ্গল ভালো!এই কথাটাই বা আমরা কিভাবে প্রমাণ করবো,যেখানে একটি নিরব রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আগে আমাদের ভাবতে হয় রাস্তাটা আদৌও কি নিরাপদ!রাস্তায় যখন একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে এলোপাতাড়ি কোপায়,চার পাশ থেকে শতশত মানুষ ভিডিও করায় ব্যস্ত থাকে,কিন্তু একজন মানুষও এগিয়ে যায়না তাকে রক্ষা করতে।তখন আমরা কিভাবে প্রমাণ করবো কোন সম্পর্ক ভালো আর কোন সম্পর্ক মন্দ!কোন সম্পর্কে আমরা বিশ্বাস করবো,আর কোনটায় করবো না!
আসলে সম্পর্ক রক্ত কিংবা আত্মীয়তা কিংবা সাহচর্য দিয়ে তৈরি হয়না।আমার কাছে সম্পর্ক একটা পারিবারিক শিক্ষা,একটা বোধ শক্তির নাম।আপনি ছোটো থেকে সম্পর্কগুলো যেমন দেখবেন আপনার কাছে সম্পর্কের মানে ততটাই হবে।সম্পর্ক হোক সেটা রক্তের কিংবা হৃদয়ের কিংবা মানুষের সাথে মানুষের, সব আপনার কাছে গভীরতা পাবে যদি আপনি ছোটোবেলা থেকে ভালোবাসা,আদর,স্নেহ,সম্মান আর মনুষ্যত্বের মাঝে বড় হোন তাহলে প্রতিটা সম্পর্ক হবে আপনার কাছে মূল্যবান,প্রাণের চেয়ে প্রিয়তর,বিশ্বাসঘাতকতা যেখানে প্রশ্নাতীত।
আর যদি আপনি বড় হোন অবহেলা,ঘৃণা,ঝগড়াবিবাদ আর ফিৎনা-ফেসাদের মাঝে তবে কিভাবে বুঝবেন আপনি সম্পর্কের মর্যাদা!নিষ্ঠুরতা হবে আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।বিশ্বাস সেতো আপনার কাছে কল্পনাতীত।
যে সম্পর্ক তৈরি হয় বিশ্বাস,ভালোবাসা আর ভরসা দিয়ে, সেই সম্পর্ক হোক রক্তের কিংবা আত্মার,পার্থক্য খুঁজে পাবেন না আপনি কখনও।
আজকালকো শুনা যায় পরকীয়া প্রেমের কারণে নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে মা!এখানে সম্পর্কের কোন ব্যাখ্যা দিবেন আপনি?এখানে কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করবেন আপনি মায়ের নির্মমতা।তাহলে কি এই মায়ের সাথে সন্তানের নাড়ির সম্পর্ক ছিলো না?নাকি রক্ত দোষিত হওয়ায় ক্যান্সারের ভয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো রক্ত?
আসলে সম্পর্ক,ভালোবাসা,বিশ্বাস,ভরসা এসব নির্ভর করে তার বেড়ে উঠার পরিবেশ,পারিবারিক শিক্ষার উপর।পঁচে যাওয়া মানসিকতার কাছে সম্পর্ক,বিশ্বাস,ভরসা সবই মূল্যহীন।তাই আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে সুস্থ সুন্দর নির্মল পারিবারিক পরিবেশ।তাহলেই প্রশ্ন উঠবে না সম্পর্কের উপর।সব সম্পর্কই হবে মধুময় পবিত্র।সমাজ হবে সুন্দর,জীবন হবে আনন্দময়।