কেউ যদি একটি বড় কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে,তাকে শুরু করতে হবে ছোট থেকে।মানে বুঝাতে চাচ্ছি,ধরেন কারো কোনো বদঅভ্যেস আছে,সে চাচ্ছে সেটা তার জীবন থেকে মুছে ফেলতে।এখন সে যদি ভাবে যে আজকে মনে হলো এই বদঅভ্যেসটা থাকা উচিত নয়,কাল থেকে এটা আর আমি করবো না বা ভাবলো আজ থেকেই আর এটা করবো না।এমন ভেবে থাকলে তার পুরো উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।সে হয়তো আজকে সেটা করবে না,কিন্তু কাল থেকে দেখা যাবে যেই লাউ সেই কদু।তার সেই বদঅভ্যেস রয়েই যাবে।
মানুষের সবকাজ একটা নির্দিষ্ট প্রসিডিওর(কার্যপ্রণালী) অনুসরণ করে হয়।কেউ যেমন এক লাফে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে পারবে না।ঠিক তেমনি কোনো কাজ বা অভ্যাসের শুরু করে মাঝের পথটুকু পার না হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠা যাবে না।
ছোটসময় বাংলা দ্বিতীয় পত্র বই এর সারাংশ অধ্যায়টাতে পড়েছিলাম,কারো হয়তো ধূমপান করার বদঅভ্যাস আছে।সে যদি সেটা ছাড়তে চায়,তাহলে এটা করা উচিত হবে না যে আমি কাল থেকে আর ধূমপান করবো না।দেখা গেলো,সে পরেরদিন ঠিকই ধূমপান করলো না,কিন্তু এইভাবে দুইদিন চলার পর, মাথা পাগলের মতো হয়ে গেলো,তার মনে হতে লাগলো, এখন ধূমপান যদি সে না করে হয়তো আর বাঁচবে না।এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণ, মানব স্বভাবের চিরচরিত নিয়ম সে অনুসরণ করে নি।হুটহাট কোনো কিছুতেই মানুষের মন অভিযোজিত হতে পারে না,নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।সে যদি এমন করতো যে,আমিতো প্রতিদিন চারটা করে সিগারেট খাই,আজকে থেকে প্রতিদিন দুটা করে খাবো।এর কিছুদিন পর হয়তো দুই দিনে দুইটা করে খাবে,এভাবে সপ্তাহে দুইটা,পনের দিনে দুইটা।একপর্যায়ে তার আর সিগারেটের প্রতি আকর্ষণ থাকবে না।বেপারটা হচ্ছে ধীরে ধীরে কমাতে হবে।
এই বেপারে আমার একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ভিডিও গান দেখতাম আগে।তাতে আমার প্রচুর সময়ের অপচয় হতো। আর ধর্মগত কারণে ভাবলাম এটা আমার বাদ দিতে হবে।আমি এমন করিনি যে, আজ থেকে আর দেখবোই না।বরং আমি একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে গেলাম।আমার ফোনের যে ফোল্ডারে গানগুলো ছিলো আমি এই ফোল্ডারটার এমন একটা নাম দিলাম যে নাম দেখলেই ভয় লাগবে,আর ফোল্ডারের ভিতরে যাওয়ার উদ্দাম মানসিকতাটা দমে যাবে।
তো একদিন কি হলো,আমার এক বন্ধু এটা দেখলো।দেখে বললো,যদি এটাকে ঘৃণাই করিস তাহলে এই ফোল্ডারটা ডিলিটই করে দিতে পারতি,এই নাম দেওয়ার কি দরকার।তখন কলেজে ছিলাম,কলেজের আরও কিছু সহপাঠীদের দেখালো আর সবাই মিলে হাসলো।আমি সেদিন তাদেরকে বুঝাতে পারিনি যে আমি যদি এই ফোল্ডারটা প্রথম দিকেই ডিলিট করে দিতাম তখন যখন দেখতে মন চাইতো তখনি ইউটিউবে গিয়ে সার্চ দিয়ে দেখে নিতাম।কিন্তু আমি তা না করে,এর প্রতি একটা বিরক্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছি,যার কারণে এমন একটা নাম দিয়ে তা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়েছি।আমি জানি আমার মোবাইলেই গানগুলো আছে,কিন্তু ঐ নামটা দেখে তারপর ফোল্ডারে ঢুকতে হবে এটা কেমন জানি ভালো লাগতো না।তাই ধীরে ধীরে আর মন চাইতো না যেতে,এক পর্যায়ে মন বললো,যে শুধু শুধু ফোনের কিছু জায়গা দখল করে আছে ডিলিট করে দেই।ডিলিট করে দিলাম,আর কোনোদিন ঐ ভিডিও গান দেখার মন চাই নি।সেই ফোল্ডাররটার নাম ছিলো "নরক"।
এই বিষয়টাতে আমি সফল হওয়ার পর,নিজের মধ্যে কোনো ভালো অভ্যাসের যোগ বা কোনো খারাপ অভ্যাসের বিয়োগ করার দরকার হলে তার জন্য কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ ঠিক করি,তারপর সেই পদক্ষেপ অনুযায়ী কাজ করি।তখন দেখা যায়,কাজটার বেপারে মনকে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।যাইহোক,এইগুলো সব মনের বেপার,এই পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে কাজ করবে এমন না।তবে বেশিরভাগ মানুষের মনই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে চলে।