উড়ে এসে জুড়ে বসা

Words
317
Reading
2 min
Listen
Play
6y

ছোট থেকে মা-বাবা খুবি যত্ন করে তাদের সন্তানকে বড় করে তুলে।ছোটকালে মায়ের স্নেহ ছাড়া সন্তানের বেঁচে থাকা কঠিন হয়।একটা ছেলে বা মেয়ে যখন জন্ম নেয় তখন থেকে তার পরিবারের সবাই তার সর্বোচ্চ ভালো কিভাবে হয় সেটার জন্য শ্রম দিয়ে যায়।ঐ ছেলে বা মেয়েটির বড় ভাই-বোন থাকলে তারাও মা-বাবার মতো তার ছোট ভাই-বোনকে অত্যন্ত স্নেহ দিয়ে বড় করে তুলে।

একটি ছেলের কথাই চিন্তা করি।মা-বাবা,ভাই-বোন ছেলেটির পৃথিবী হয়ে উঠে।তার পৃথিবীতে পরিবারের চেয়ে বড় কিছু থাকে না।কারণ মা-বাবা যেমন থাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে,ঠিক তেমনি পরিবার তাকে পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছে।সুতরাং তার জীবন গড়ে তুলার জন্য সম্পূর্ণ অবদান পরিবারের।সেও পরিবারকে সেই সম্মানই দেয়।
কিন্তু বিপর্যয় ঘটে তখন যখন তার পৃথিবীতে নতুন কেউ এসে উঁকি দেয়,উড়ে এসে জুড়ে বসে।একটা মেয়ে যখন তার জীবনে আসে তখন দেখা যায় বেশিরভাগ ছেলেরা ঐ মেয়েকে ঘিরে তার নতুন পৃথিবী ঘরে তুলে।ভুলে যেতে থাকে তার পুরোনো পৃথিবীকে,তার জীবন গড়ে তুলেছে যে পৃথিবীর মানুষজন সেই পৃথিবীর মানুষেদের।যেই মা এতোদিন হয়তো তার কাছে জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল ছিলো,সেই মাকে ভুলে তার প্রিয়তমাকে বলে বসে,"তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না"।
অতীতের সব কথা ভুলে একটা মেয়েকে কিভাবে সে তার বাঁচা-মরার কারণ বানাতে পারে?যেখানে হয়তো তার জন্য তার মা বেঁচে আছে,তার বাবা,তার ভাই-বোনের বেঁচে থাকার ভরসা সে।
কোনো কারণে যদি মা-বাবা ঐ ছেলেটির পছন্দ করা মেয়েটিকে মেনে না নেয়,তাহলে দেখা যায় পরিবারের অমতেই সে মেয়েটিকে বিয়ে করবে বলে প্রস্তুত হয়ে পড়ে।এতোটা স্বার্থপর হওয়া কিভাবে সম্ভব?

image-20160411-21959-ps6nll(1).jpg

মেয়েদের ক্ষেত্রেও এমন দেখা যায়,সে যে ছেলেকে পছন্দ করলো,সেই ছেলেকে তার মা-বাবা মেনে না নিতে চাইলে,মা-বাবার মুখে চুনকালি মাখিয়ে ছেলেটির সাথে পালিয়ে যায়। মা-বাবা হয়ত তার ভালোর কথা চিন্তা করেই রাজি হয়নি এটা বুঝতে তারা নারাজ।যেই মা-বাবা তাদের সর্বস্ব দিয়ে তাকে এতো বড় করে তুললো,একটি ছেলের অল্প কয়েকদিনের ভালোবাসায় মা-বাবার সব ত্যাগ ভুলে যাওয়া কি করে সম্ভব?

জীবনে চলার পথে নির্দিষ্ট একজনকে নিজের পৃথিবী বানিয়ে ফেলা উচিত নয়।একজন মানুষের পৃথিবীর বিভিন্ন ভাগ হবে।এর একপাশে থাকবে বাব-মা,একপাশে বন্ধু-বান্ধব,আরেকপাশে আত্মীয় স্বজন।হয়তো বিরাট একটা অংশজুড়ে থাকবে জীবন সঙ্গীনি।কিন্তু নিজের পুরো পৃথিবীটা শুধু জীবনসঙ্গীনির জন্য বরাদ্দ করে দেওয়া একদমি উচিত নয়।