সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহার করি অষ্টম শ্রেণি থেকে।তখন থেকে দেখে আসছি ফেইসবুকে এক শ্রেণির লোক আছে যারা লাইক,কমেন্ট ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায়।এই বেপারটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না,তারা কি কারণে এই লাইক,কমেন্ট ভিক্ষা চায়।ফেইসবুকের এসব একাউন্টতো তাদের কোনো বিজনেস একাউন্ট না,পার্সোনাল একাউন্ট এসবের পোস্টে হাজারটা লাইক পেলেই কি,না পেলেই কি।কিন্তু তারা এই বেপারটাতে এতোই সিরিয়াস যে অন্যের পোস্টে গিয়ে লাইক,কমেন্ট চেয়ে কমেন্ট করে।এমনকি তারা ইনবক্সে এসে বার বার বলতে থাকে ওদেরকে "সাপোর্ট" করতে।"সাপোর্ট" কথাটা একটা কমন শব্দ।
এই বিষয়গুলো আমার কাছে বা বেশিরভাগ সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছেই বিরক্ত লাগে।
তবে আমি কখনই তাদেরকে কিছু বলি না।এসে যখন বলে তখন হয়তো একটা লাইক দিয়ে দেই।কারণ আমি ঐ বিশ্বাসে বিশ্বাসী যে ভিক্ষুককে যদি আপনার বিরক্তও লাগে তবু কটু কথা বলা ঠিক নয়।
ব্যক্তিগত আর ধর্মীয় কিছু কারণে অনেকদিন যাবৎ ফেইসবুক বা যেকোনো ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা বাদ দিয়েছি।শুধু মেসেজ আদান-প্রদানের মাধ্যম গুলো ব্যবহার করি।
এখন আর তাদের এসব অদ্ভুত কান্ডকারখানা দেখতে হয় না।
এখন "হাইব" নামক এই মাধ্যমটাই আমার একমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,এটাতো আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না বরং জার্নাল এর মতো।মানুষ তাদের লিখা এর মাধ্যমে প্রকাশ করে।কিন্তু এখানেও ফেইসবুকের সেইসব লাইক প্রার্থী মানুষ মাঝে মধ্যে চলে আসেন আর উপর মহল তাদেরকে বিতাড়িত করেন।
ফেইসবুকে যেখানে কোনো রিওয়ার্ড ছিলো না সেখানেই তারা লাইক নিয়ে যা মাতামাতি করে,আর এই প্লাটফর্মেতো রিওয়ার্ড আছে,এখানে যদি তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে হয়তো যাদের ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাদের বাসার দরজায় গিয়ে তারা দাঁড়িয়ে থাকতো।
ফেইসবুকেতো একজন আরেকজনের লিখা কোনো ক্রেডিট দেওয়া ছাড়াই মানুষ দিয়ে দেই।কিন্তু এই প্লাটফর্মে অন্যের একটা লাইন কেউ এনে "ক্রেডিট" দেওয়া ছাড়া দিলে,তার মাথায় গুলি করে দেওয়া হয়।
আমার আইডি যে একদম দুধে ধোঁয়া তুলসি পাতা তা নয়।কারণ প্রথম দিকে আমারও ভুল হয়েছিলো।কিন্তু নৈতিকভাবে বা জেনেশুনে আমি ভুল করিনি।তারপরও ভুলতো ভুলই।সেই কাহিনিটাই বলি।
আমার আর আমার মামাতো ভাই এর একটি ইউটিউব চ্যানেল ছিলো তখন।সেই চ্যানেলের ভিডিওর স্ক্রিপ্ট আমিও লিখতাম আর মাঝে মধ্যে মামাতো ভাইও লিখতো।
আমার বন্ধু সৌরভ যখন আমাকে হাইবে লিখালিখির কথা বললো,তখন সে বিভিন্ন উপদেশ দিয়েছিলো যে নিজের লিখা দিবি বা এইধরনের অনেক কিছু।তার সাথে বলেছিলো যে দিনে একটার বেশি পোস্ট করবি না,এই কথাটাকে আমি ধরে নিয়েছিলাম প্রতিদিন একটা পোস্ট করতে হবে।আমি পোস্ট করতে থাকি,একদিন কি কারণে লিখা হয়ে উঠেনি।তো আমি ভাবলাম আমাদের চ্যানেলের স্ক্রিপ্টগুলো দিলেইতো পারি,সেগুলোওতো আমাদের লিখা।চ্যানেলের স্ক্রিপ্টগুলো দিতে থাকলাম।আমার মামাতো ভাই এর অনুমতি নিয়েই দিতাম,কারণ সেখানে মাঝে মধ্যে তার কিছু লিখাও থাকতো।একদিন তার একটা স্ক্রিপ্ট পোস্ট করলাম।কিছুক্ষণ পর দেখি আমাকে বলা হচ্ছে,এই লিখা নাকি কপি করা।আমিতো চরম লজ্জায় পরে গেলাম।আমি গিয়ে আমার মামাতো ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,তোমার এই লিখা দিয়েছি ওরা কপি করা বলছে কেনো।ও বললো,আরে আমিতো এটা ফেইসবুক থেকে কপি করেছি।শুনেতো আমার চক্ষু চড়কগাছ।
ঐদিন এতো লজ্জাতে পড়েছিলাম।সেটা প্রায় দুইবছর আগের কাহিনি হাইবে যোগ দেওয়ার প্রথম সপ্তাহের কথা।এর পর থেকে আমি নিজের অনুর্বর মস্তিষ্ক থেকে বের হওয়া অপুষ্ট লিখাও যখন দেই,তখনও যাচাই করে দেই এমন লিখা অন্য কেউ লিখেছে কিনা।যাইহোক তখন থেকেই এই "প্ল্যাগারিজম" নামক শব্দটার পরিচয়।তার আগে ইন্টারমিডিয়েটের আইসিটি বই এ পড়েছিলাম কিন্তু তখন না বুঝে সংজ্ঞা মুখস্থ করেছিলাম এই আরকি।
নিজে কিছু লিখতে পারা মোটামুটি শক্ত কাজ যদি লিখার অভ্যাস না থাকে।আর লেখকরা যদি কোনো কিছু পাওয়ার আশা করে কিছু লিখে তাহলে হয়তো সেই লিখা কখনই ভালো হবে না।নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যা মন চাই তা লিখতে পারলেই হয়তো ভালো কোনো লিখা ছোটো কোনো লেখকের কাছ থেকেও বের হতে পারে।