বড় চুল এবং আমাদের সমাজ

Words
281
Reading
2 min
Listen
Play
6y

একজন ছেলে তার মাথার চুল কতটুকু বড় রাখবে এটা মনে হয় তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।তার সে চুল যদি কারো কোনো বিরক্তির কারন না হয়,বা তার চুল যদি কাউকে কোনো ক্ষতি না করে, তাহলে সেই চুল রাখার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত।
কিন্তু যেহেতু আমাদের সমাজের নীতি হচ্ছে ছেলেরা চুল ছোট রাখবে আর মেয়েরা চুল বড় রাখবে,তাই কোনো ছেলে যখন চুল বড় করা শুরু করে,সাথে সাথে শুরু হয়ে যায় সমাজের মানুষের চুলকানি।নীতি বিরুদ্ধ কিছু করা যাবে না।যেটা প্রচলিত সেটাই করতে হবে।প্রথা বিরুদ্ধ কিছু যদিও সেটা ভালো হয় তাও সেটা করা যাবে না।কারণ সমাজ নতুন কিছুকে পছন্দ করে না।

তবে সমাজেরও অধিকার আছে ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার। কিন্তু সেই অধিকারের অপপ্রয়োগওতো ঠিক নয়।কেউ কোনো অসামাজিক কিছু করলে তার প্রতিবাদ করা যেতেই পারে।অসামাজিক বলতে সমাজ যেটা মানে না সেটা না,অসামাজিক কর্মকান্ড সেইগুলো যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর,সমাজের মানুষের জন্য ক্ষতিকর।মানুষ যখন সেই ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড করবে সমাজ তখন সেটা শুধু মুখ ধারা প্রতিবাদ না হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করে থামানোর অধিকারও রাখে।

IMG_20200830_191410.JPG

কিন্তু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার বোধহয় সমাজের থাকা উচিত না।
তারপরও একজন ছেলে যখন বড় চুল রাখে তখন চারপাশ থেকে তাকে প্রচুর কথা শুনতে হয়,ভদ্রভাবে থাকলেও থাকে পাগল বলা হয়,নেশাখোর, গাঞ্জাখোর বলা হয় শুধুমাত্র বড় চুলের কারণে।যেসব ছেলেরা বড় চুল রাখে তাদের মধ্যে একটা প্রশ্নই জাগে,যে চুল বড় আমার, কিন্তু মাথা ব্যাথা কেনো অন্যের।তোমার বড় চুলের কারণেই তোমার স্বাস্থ্য এতো খারাপ,এই চুল তোমার সব বল কেড়ে নিচ্ছে,
চুল বড় থাকার কারণে তোমাকে বিশ্রী দেখায়,চুল বড় থাকলে ব্রেইনের ক্ষতি....
যেনো সবাই চুল বিশেষজ্ঞ হয়ে পড়ে।চুল বড় রাখার কারণে ক্ষতির লম্বা লিস্ট নিয়ে হাজির হয়।

শেষ কথা হচ্ছে, আমরা সমাজের বাস করি সমাজের রীতিনীতি অবশ্যইে মেনে চলতে হবে।কিন্তু সমাজে মানুষেরও উচিত রীতিনীতিতে যে গাপলা আছে,সেগুলো সংশোধন করা।ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ না করা।

ধন্যবাদ

বড় চুল এবং আমাদের সমাজ | Ecency