রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন কাজ।তবে সবার ক্ষেত্রে কঠিন না,কিছু মানুষেরতো রাগ ই উঠে না।তারা সবকিছুকে খেল তামাশার মতো দেখে।কিন্তু যেসব মানুষ রাগী তাদের জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ অতী ভারী বেপার।রাগের সময় মানুষের স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি হয়তো কাজ করে না,সেজন্যই রাগ অবস্থায় সে কি করে,পরে হয়তো তা মনেই থাকে না।এমন অনেক মানুষ দেখেছি, এমনিতে সব দিক দিয়ে খুব ভালো।কিন্তু রাগের সময় তার মতো খারাপ আর কেউ হয় না।যা খুশি করে ফেলে।
জামিল নামের একটা ছেলে আমার মেডিকেলের সহপাঠী।খুবি ভালো ছেলে।পড়ালেখায় যেমন ভালো,আচার- ব্যবহার সব দিক দিয়েই ভালো।খুব কম কথা বলে।দরকার ছাড়া অনর্থক কোনো কথাই বলে না।যে বর্ণণা দিয়েছি আমার কাছে সে এইরকমই।কিন্তু অন্য কয়েকজন সহপাঠী বলে যে জামিলের নাকি খুব রাগ।তাখন নাকি তার ব্যবহার ভালো থাকে না।আমার এই বেপারটা বিশ্বাসই হয় না।এতো ভালো ছেলে,কারো সাথে রাগ দেখিয়ে খারাপ ব্যবহার কিভাবে করতে পারে!
জামিল একটি মেসে থাকতো।সেই মেসের বড় ভাই এর সাথে কোনো ঝামেলার কারণে তাকে মেস থেকে বের করে দেওয়া হয়।মেস থেকে তাকে বের করে দেওয়াতে তার মনে রাগ জমে থাকে,সে ভাবে যে তাকে অন্যায়ভাবে মেস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।সেই বড়ভাইও মেডিকেলেরই।
একদিন ছুটি শেষে মেডিকেল ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম জামিল এর সাথে।ওর সাথে আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম,হাসি ঠাট্টা করছিলাম।তার মিষ্টি ব্যবহার,কথাবার্তাতে আমি মুগ্ধ হচ্ছিলাম।
এমন সময় হঠাৎ সামনে দিয়ে ঐ বড় ভাই গেলো যে কিনা তাকে মেস থেকে বের করে দিয়েছিলো।ঐ বড় ভাই সামনে দিয়ে যেতেই জামিলের চেহারাটা হঠাৎ পরিবর্তন হতে শুরু করলো।এমন সময় আমাদের আরেক সহপাঠী হাসিব আসলো।আর হাসিব ঐ বড় ভাইকে সামনে দিয়ে যেতে দেখে আর জামিলকে দেখে ঐ মেসের বেপারটা তুললো।
জিজ্ঞেস করলো,কিরে তুই মেস ছেড়ে দিলি কেনো?
এটা শুনে জামিলের পুরোনো রাগ একদম তাজা হয়ে গেলো।তার মিষ্টি চেহারা,মিষ্টি ব্যবহার,মিষ্টি মুখের কথা সব উবে গিয়ে মুখে স্থান পেলো অকথ্য ভাষা।তার মুখের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম,মনে হচ্ছে ঐ বড় ভাইকে সে চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে এখনই।সে তাকে ঐ অবস্থায় মারবে মারবে এমন ভাব চলে আসলো।তখন আমি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম।ধীরে ধীরে সে একটু পর শান্ত হলো।
সে যাই হোক,আমি এই ঘটনার পর বুঝতে পারলাম যে রাগ মানুষকে কতো দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলতে পারে।সুস্থ সবল বিবেকবান এক মানুষকে বিবেকহীন মানুষে পরিবর্তন করতে পারে নিমিষেই।আর স্বাভাবিক অবস্থায় বাস্তবিবকভাবেই মানুষ হিসাবে সে যেমন, রাগের কারণে সে তার নিজেরই চরিত্রের বিপরীত রুপ ধারণ করে।রাগ কখনই ভালো কিছু বয়ে আনে না।
রাগ কি তাহলে মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই?মানুষ কি চাইলেই নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না?যদি রাগ মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না ই থাকে তাহলে রাগ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ঐ মানুষকে দোষারোপ করা হয় কেনো?
আসলে তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ রাগ যাতে না উঠে সে রকম চরিত্র গঠন করতে পারে।এক্ষেত্রে সব থেকে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ক্ষমা।মানুষ রাগ করে অন্য কোনে মানুষের উপর বা যেকোনো কাজের উপর বা অন্য কিছুর উপর।যার মধ্যে ক্ষমা করার গুণটা বিদ্যমান থাকে সে কখনই রাগ করবে না।কেউ একটা ভুল কাজ করেছে,হয়তো আমার উপর কোনো একটা অন্যায় করেছে সেই অন্যায় এর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা চিন্তা করলেই আমার তার উপর রাগ হবে।সেই রাগ থেকে অনেক খারাপ কিছুর সৃষ্টি হবে মনে।কিন্তু আমি যদি থাকে ক্ষমা করে দিতে পারি তাহলে রাগ মনের মধ্যে স্থান করে নেওয়ার সুযোগই পাবে না।এভাবে ক্ষমার গুণ আয়ত্ত করার মাধ্যমেই রাগকে ধীরে ধীরে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব।
রাগের কারণেই পৃথিবীর বেশিরভাগ পাপ কাজ সংঘটিত হয়,মনের রাগের জায়গায় যদি ক্ষমাকে স্থলাভিষিক্ত করা যেতো তাহলে পৃথিবী থেকে অনেক পাপ কমে যেতো,চারদিকে শান্তি বিরাজিত হতো।