ভাত খাচ্ছি,অর্ধেক প্লেট খাওয়ার পর ভালো লাগছেনা খেতে,বাকি ভাতগুলো ময়লার ঝুড়িতে গিয়ে ফেলে দিলাম।আপনার টাকা আছে,সেই টাকা দিয়ে চাল কিনেছেন, শেষ হলে আবার কিনবেন,তাই ভাতের প্রতি আপনার মায়া নাই।কিন্তু এই ভাত যে কতোগুলো প্রক্রিয়া পাড় করে,কতো মানুষের পরিশ্রমের ফলে আমাদের প্লেটে আসে তা কি আমাদের জানা আছে?
এইবার করোনার কারণে আমার সুযোগ হয়েছে নিজ চোখে দেখার যে একটি ভাত কতো পরিশ্রমের ফল।
সর্বপ্রথম ধানকে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়।কিছুদিন ভিজিয়ে রাখলে ধানের ভিতর থেকে ছোট ছোট সাদা অংশ বের হয়ে আসে।আরো কিছুদিন বস্তার মধ্যে রাখার পর,সেই ধান আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা বীজতলায় ফেলা হয়।বীজতলা প্রস্তুত করতে হয় পানি দিয়ে,চাষ করে, কাঁদা করে।কিছুদিন পর সেই বীজতলায় ধানগুলো থেকে চারা গাছ জন্মে।এগুলো বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
চারাগাছ বড় হওয়ার পর সেই চারা গাছ ধানখেতে রুপণ করতে হয়।ধানখেতে ধানের চারা রুপনের আগে খেত প্রস্তুত করার জন্য, লাঙ্গল দিয়ে খেত চাষ করতে হয় দুইবার,আরো কতো কি করতে হয়।
তারপর চারাগাছ গুলো দুই-তিনটি একসাথে করে রুপণ করতে হয়।রুপণ করার পর পরিচর্যার অনেক কাজ আছে।এই যেমন,আগাছা নিধন,সার দেওয়া,ঔষধ দেওয়া,সেচ দেওয়া ইত্যাদি।এগুলোতো আর বললেই দেওয়া হয়ে যায় না।প্রচুর পরিশ্রমের কাজ।
এরপর ধান পাকলে সেই ধান কাটতে হয়।কেটে বাড়িতে এনে,ধান গাছের চারা থেকে ধান আলাদা করতে হয়।বাড়িতে ধান স্বাভাবিকভাবে কৃষকরা মাথায় করে আনে।ধান আলাদা করাও প্রচুর কায়িক শ্রমের কাজ।
তারপর ধান শুকাতে হয়,সিদ্ধ দিতে হয় আবার শুকাতে হয়।অতঃপর সেই ধান ভাঙাতে হয়,ধানের উচ্ছিষ্ট অংশ বাদ দিয়ে অবশেষে সেটা চাল হয়।
এই প্রক্রিয়াগুলো বলতে হয়তো আমার বেশি সময় লাগেনি।কিন্তু ব্যবহারিক ভাবে করা যে কতো কঠিন তা এইবার নিজে করে আমি বুঝেছি।কৃষকদের শহরের মানুষরা সম্মান দিতে চায় না।তারা "ক্ষেত" কে গালি হিসাব ব্যবহার করে।কিন্তু এই খেতেই যে তাদের বেঁচে থাকার জন্য যে খাদ্য দরকার তা উৎপন্ন হয় তারা তা মনে রাখে না।
কৃষকদের পরিশ্রমের ফল তারা কখনোই পায় না।তারপরও তাদের কাজ তারা করে যাচ্ছে।