"ভালো লাগা"র মন্দ দিক

Words
363
Reading
2 min
Listen
Play
5y

যখনই কোনো কাজ করতে যায় তখনই বিরক্ত লাগে,ভালো লাগে না।ফোন ব্যাবহার করছি অনেকক্ষণ যাবৎ কোনো বিরক্ত নেই,যখনি ফোনে কাজ করতে যাবো,সেই সময়টাই বিরক্তিকর হয়ে উঠে।ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা গেইম খেললে বিরক্ত লাগে না,কিন্তু আধা ঘন্টা অনলাইন ক্লাস করলেই মাথার ভিতর ভনভন করা শুরু করে।এই বেপারটাকে বলে অলসতা।অলসতার মানেই হচ্ছে কোনো কাজ ভালো লাগবে না,চুপচাপ বসে সময় কাটালে,সেটাও ভালো লাগবে।কাজ করার মধ্যে পরিশ্রম আছে,কিন্তু চুপচাপ বসে থাকার মধ্যেতো কোনো কষ্ট নেই,তাই সেটা ভালো লাগে।কিন্তু দেখা যায় সেই ভালো লাগার মধ্যে বাস্তবিক কোনো কল্যাণ নেই।

শাক-সবজি খেতে মজা লাগে না,মাংস খেতে বেশি মজা লাগে।কিন্তু দেখা যায় মাংস শরীরের জন্য অপকারী কিন্তু শাক-সবজি শরীরের জন্য উপকারী।যেই জিনিসটা ভালো লাগে না,সেটাই জীবনের জন্য উপকারী।উল্টোভাবে বললে,যেইসব জিনিস,কাজকর্ম একজন মানুষের জীবনে সফল হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেইসব কাজ করতে ভালো লাগে না,চাপ লাগে।কিন্তু যারা এই চাপ সহ্য করে সেই কাজ করে যেতে পারে তারাই সফল হতে পারে।

PicsArt_03-17-10.29.29.jpg

সফল ব্যক্তির সংখ্যা খুবি নগন্য হয়,কারণ বেশিরভাগ মানুষই নিজের সাময়িক ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে,যেই কাজগুলো করা সফল হওয়ার জন্য একান্ত প্রয়োজন ছিলো সেই কাজগুলোকেই উপেক্ষা করে বসে।একজন শিক্ষার্থীর মূল কাজই হচ্ছে পড়ালেখা করা।একটা শ্রেণীর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই দেখা যায় পড়ালেখা ঠিকমতো করে না,কারণ পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না,পড়ালেখার মধ্যে কোনো মজা নেই,এর থেকে মাঠে খেলতে যাওয়া বা কোথাও একটু ঘুরাঘুরি করে আসা বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার মধ্যে মজা আছে,আনন্দ আছে।আর যারাই এই সাময়িক আনন্দকে প্রাধান্য দিয়েছে,তারাই বিফল হয়েছে,পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে পারেনি,মানে জীবনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।কিন্তু যারা পড়ালেখা ভালো না লাগা সত্ত্বেও পড়ালেখা করেছে,পরিশ্রম করে গেছে,তার সেই বন্ধুদের আড্ডাতে মজা খুঁজে পাওয়া সহপাঠী যখন রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,তখন সে বই এর পাতার মধ্যে মনোযোগ সহকারে জ্ঞান অন্বেষণ করে গেছে,সেই সফলকাম হয়েছে পরীক্ষায়তো বটেই সাথে জীবনের লক্ষ্যেও।

তবে কিছু মানুষ আছে যারা কাজ বা পরিশ্রমকে উপভোগ করে এটা তাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয় না বরং তারা কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায়।যেমন, কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখাও আনন্দ সহকারে করে,পড়ালেখাই তাদের জীবনের বিনোদন।এরা ব্যতিক্রম।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে,যেসব জিনিস বা কাজ ভালো লাগে,মনের মধ্যে আনন্দের উদ্রেক ঘটায়,সাময়িক সময়ের জন্য এগুলো আনন্দ দিলেও দীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় ঐসব কাজ ললাটের মধ্যে "বিফল ব্যক্তি" নামক চাপ লাগিয়ে দেয়।আর যেসব কাজকর্ম কষ্টদায়ক মনে হয়, পরিশ্রম মনে হয়,না করতে পারলে বাঁচা যাবে এমন মনে হয়,ঐসব কাজ যারা করতে পারে তারাই সফল হতে পারে।

ধন্যবাদ।